সমান পয়েন্টে বিশ্বকাপের নকআউট ভাগ্য নির্ধারণ করবে যে নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণ। একাধিক গ্রুপে টানা ড্রয়ের কারণে অনেক দলই সমান পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। ফলে শেষ ম্যাচগুলোর আগে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন গ্রুপ পর্ব শেষে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে কোন দল পাবে পরের রাউন্ডের টিকিট?
এবারের বিশ্বকাপে এই হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ৪৮ দলের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরের ফরম্যাটে আয়োজন করা হচ্ছে টুর্নামেন্ট। ১২টি গ্রুপে ভাগ করা দলগুলোর মধ্যে প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি যোগ হবে ১২ গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল। ফলে একটি গোল, একটি হলুদ কার্ড কিংবা একটি ম্যাচের ফলও নির্ধারণ করতে পারে কোনো দলের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, গ্রুপ পর্বে সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে হেড-টু-হেড বা মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফলের ওপর। অর্থাৎ একই গ্রুপে থাকা সমান পয়েন্টের দলগুলোর মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ে যে দল এগিয়ে থাকবে, তারাই পাবে অগ্রাধিকার।
টাইব্রেকারের প্রথম ধাপে দেখা হবে সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর নিজেদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচের হিসাব। সেখানে প্রথমে বিবেচনা করা হবে ওই ম্যাচগুলো থেকে অর্জিত পয়েন্ট, এরপর দেখা হবে সেই ম্যাচগুলোর গোল ব্যবধান এবং সবশেষে দেখা হবে ওই মুখোমুখি ম্যাচে করা গোলসংখ্যা।
যদি এরপরও দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য তৈরি না হয়, তাহলে ফিফা পুরো গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেবে। এ পর্যায়ে প্রথমে দেখা হবে সামগ্রিক গোল ব্যবধান। অর্থাৎ পুরো গ্রুপ পর্বে কোন দল কত গোল করেছে এবং কত গোল হজম করেছে, তার হিসাব করা হবে। এরপর দেখা হবে মোট গোলসংখ্যা।
আরও পড়ুন: হাইতিকে উড়িয়ে ব্রাজিলের দুর্দান্ত কামব্যাক
এরপরও যদি সমতা থাকে, তাহলে গুরুত্ব পাবে ফেয়ার প্লে রেকর্ড। অর্থাৎ কোন দল কত কম হলুদ কার্ড, লাল কার্ড বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে, তা বিবেচনা করা হবে। কম কার্ড পাওয়া দলকে এগিয়ে রাখা হবে। শৃঙ্খলাজনিত এই হিসাবেও যদি সমাধান না হয়, তাহলে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রকাশিত সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল পাবে সুবিধা।
তবে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। কারণ তারা ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে খেলবে, ফলে তাদের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি ম্যাচের কোনো হিসাব থাকবে না। তাই সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল বাছাই করতে ফিফা আলাদা একটি র্যাঙ্কিং বা ‘ওয়াইল্ডকার্ড টেবিল’ তৈরি করবে।
এই তালিকায় প্রথমে দেখা হবে অর্জিত পয়েন্ট। পয়েন্ট সমান হলে বিবেচনায় আসবে গোল ব্যবধান। এরপর দেখা হবে মোট গোলসংখ্যা। তাতেও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ডের ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। সবশেষে প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা হবে ফিফা র্যাঙ্কিং।
ফিফার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় স্থানধারী সেরা আট দল বাছাইয়ের ধাপগুলো হলো—প্রথমে পয়েন্ট, এরপর গোল ব্যবধান, তারপর গোলসংখ্যা, এরপর ফেয়ার প্লে পয়েন্ট এবং সবশেষে ফিফা র্যাঙ্কিং।
এর ফলে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোতে শুধু জয় কিংবা হার নয়, প্রতিটি গোলের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। কোনো দল হয়তো একই পয়েন্ট নিয়েও বিদায় নিতে পারে, আবার কোনো দল গোল ব্যবধান বা কম কার্ডের কারণে উঠে যেতে পারে পরবর্তী রাউন্ডে।
বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াই তাই শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে পরিসংখ্যান, শৃঙ্খলা এবং ফিফার সূক্ষ্ম টাইব্রেকার নিয়ম।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








