ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী তালিকায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে আগাম হাওয়া। বিশেষ করে রাজধানীর রাজপথ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা ও আলোচনায় এনেছে। পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ সিটিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।
পল্টন, মতিঝিল, ধানমন্ডি থেকে শুরু করে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত বিস্তৃত এই জনপদকে ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রধান রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন। এবারের নির্বাচনে সাবেক ছাত্রনেতা, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং আলোচিত নারী মুখদের অংশগ্রহণ লড়াইকে বহুমাত্রিক রূপ দিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক আলোচনায় বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আসিফ মাহমুদ, জামায়াতে ইসলামীর সাদিক কায়েম এবং ইনকিলাব মঞ্চের আব্দুল্লাহ আল জাবের উল্লেখযোগ্য। নারী প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় রয়েছেন মেঘনা আলম ও নীলা ইসরাফিল।
গত ২৯ মার্চ দলীয়ভাবে ঢাকা দক্ষিণসহ দেশের পাঁচ সিটির মেয়র প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে এনসিপি, যেখানে ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ১ মে ডাকসুর বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে।
এছাড়া গণঅধিকার পরিষদও ঢাকা দক্ষিণ সিটির জন্য তাদের মেয়র প্রার্থী হিসেবে একেএম রাকিবকে মনোনীত করেছে, যা তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরও নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ঢাকা দক্ষিণ থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।
একই সিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে আলোচিত মডেল মেঘনা আলম ফেসবুক পোস্টে তার প্রার্থিতার বিষয়টি জানান, আর জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিলও পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সালে এবং প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে। ওই নির্বাচনে সাঈদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তী ২০২০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনী ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যেখানে প্রতিটি নির্বাচনই জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








