News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ৬ মে ২০২৬

হামে ২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু, পরীক্ষায় কিট সংকট তীব্র

হামে ২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু, পরীক্ষায় কিট সংকট তীব্র

ফাইল ছবি

দেশে সংক্রামক ব্যাধি হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে এই রোগে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুইজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি পাঁচজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৫৪ জন শিশু হাম ও এর আনুষঙ্গিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

বুধবার (০৬ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত প্রায় দুই মাসের (১৫ মার্চ থেকে ৬ মে) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল দ্রুত দীর্ঘ হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৬ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ২৬৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে হাজারো শিশু। 

তথ্যমতে, ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৪ হাজার ২৬০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৯৯ জনের। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ৮৮৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ হাজার ২২৩ জন। তবে ক্রমবর্ধমান এই সংক্রমণ ঠেকাতে যেখানে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ প্রয়োজন, সেখানে কিট সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের একমাত্র পরীক্ষাগার।

আরও পড়ুন: হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের মিজেলস (হাম) ও রুবেলা পরীক্ষার একমাত্র কেন্দ্র জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ভাইরোলজি ল্যাবে বর্তমানে তীব্র কিট সংকট চলছে। কিটের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের স্বাভাবিক পরীক্ষার হার প্রায় ৭৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি নমুনার স্তূপ জমে আছে, যা কিট সংকটের কারণে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে ল্যাবে মাত্র ১৩টি কিট অবশিষ্ট আছে, যা দিয়ে বড়জোর ১২০০ নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। এই সীমাবদ্ধতার কারণে যেখানে গত মাসেও দিনে ৭০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হতো, সেখানে এখন মাত্র ১২০ থেকে ১৩০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাস্থ্য কর্মীরা নমুনা নিয়ে এলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে রিপোর্টের জন্য।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই প্রস্তুতির ঘাটতিকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, বছরের শুরুতেই হামের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও কিট মজুদে ব্যর্থতা রোগ নিয়ন্ত্রণকে বাধাগ্রস্ত করছে। ডব্লিউএইচও-র ওপর একক নির্ভরশীলতা এবং আগাম পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করছেন তারা। 

তবে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মোমিনুর রহমান ও ল্যাব ইনচার্জ ডা. আমিরুল হুদা ভূইয়া জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে দ্রুতই ১৩০টি কিট আসার কথা রয়েছে। আগামী রবিবারের মধ্যে প্রথম দফায় ৩০টি কিট পৌঁছালে পরীক্ষা আবার গতি পাবে।

সংকটময় এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ল্যাবে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকলেও চিকিৎসকরা উপসর্গের ভিত্তিতেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। রোগীর উচ্চ জ্বর, শরীরে লাল র‍্যাশ, সর্দি-কাশি এবং চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখে শিশুদের হাম শনাক্ত করা হচ্ছে। যদিও সঠিক নজরদারি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রতিটি নমুনা পরীক্ষা করা জরুরি, তবে কিট সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিক্যাল সিম্পটম বা বাহ্যিক লক্ষণের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে জনস্বাস্থ্য বিভাগকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়