নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ৬ মে ২০২৬

প্রতিবেশী ও বিনিয়োগে অগ্রাধিকার সরকারের: মির্জা ফখরুল

প্রতিবেশী ও বিনিয়োগে অগ্রাধিকার সরকারের: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং একটি স্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

বুধবার (০৬ মে) সকালে রাজধানীর বনানীস্থ হোটেল শেরাটনে ‘ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ’ (আইএসটিআর) আয়োজিত ‘সি.ও.এম.পি.এ.এস.এস. ডায়ালগ, চ্যাপ্টার-১: দ্য ওয়েস্টার্ন ক্যালিব্রেশন’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। 

সমসাময়িক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি, কৌশলগত সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই সংলাপে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর কাজের ধীরগতি বা আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন সময়ে তাদের উদ্বেগের কথা সরকারকে জানিয়েছেন। বিশেষ করে কোনো সুনির্দিষ্ট সমস্যা বা ইস্যুর দ্রুত সমাধান পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতি না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সমস্যা দূর করতে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়মিত এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। 

আরও পড়ুন: অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে: মাহদী আমিন

তিনি জানান, বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। বিশেষ করে গ্যাস উত্তোলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী তিন মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশের জলভাগ ও স্থলভাগে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই গতিশীল করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জ্বালানি খাতের অগ্রগতি এবং নীতিনির্ধারণী সংস্কারের মাধ্যমে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি ইতিবাচক ও স্থিতিশীল। 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে দেশে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফসলভিত্তিক বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ইতিমধ্যেই তৃণমূল মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

সংলাপে বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা কৌশল এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। 

মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী বোঝা হিসেবে রয়ে গেছে এবং সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান চায়। সংলাপে বিদেশি ডেলিগেটদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান আস্থা ও আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, গবেষক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়