নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৩২, ৪ জুন ২০২৬

দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিপুল ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে এক ঐতিহাসিক গৌরব ও কূটনৈতিক সাফল্য সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। 

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। 

বিমানবন্দরে পৌঁছালে ড. খলিলুর রহমানকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানো হয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্টরা এই অবিস্মরণীয় অর্জনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তার আগামী এক বছরের বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের সফলতার জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে গত তিন মাস ধরে বিশ্বজুড়ে এক ব্যাপক ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল বাংলাদেশ সরকার। দীর্ঘদিনের সেই সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ফসল হিসেবে গত ২ জুন (মঙ্গলবার) নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে (সাধারণ অধিবেশন কক্ষ) এই বহুপ্রত্যাশিত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তীব্র ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই নির্বাচনে জাতিসংঘের মোট ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৯০টি রাষ্ট্র সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান ৯৯টি দেশের বিপুল সমর্থন ও ভোট পেয়ে এককভাবে বিশ্ব ফোরামের এই শীর্ষ পদে সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তার একমাত্র শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত এবং দেশটির বহুপক্ষীয় কূটনীতি বিষয়ক অভিজ্ঞ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস (আন্দ্রেজ কাকাউরিস)। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ব্যালট যুদ্ধে সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১টি দেশের ভোট। ফলে ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসকে পরাজিত করে আন্তর্জাতিক মঞ্চের এই সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী সভার শীর্ষ নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

ঐতিহাসিক এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বিদায়ী সভাপতি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে এবং এই অধিবেশন চলাকালীন পুরো সময়জুড়ে বৈশ্বিক এই বৃহত্তম ফোরামের মূল নেতৃত্ব থাকবে বাংলাদেশের হাতে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো প্রতিনিধির জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসার গৌরবময় ঘটনা। এর আগে দীর্ঘ চার দশক পূর্বে, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। দীর্ঘ ৪০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে পুনরায় সেই হৃত গৌরব ও ঐতিহাসিক সাফল্য পুনরুদ্ধার করল।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক জটিল ও সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, যখন গোটা বিশ্বজুড়ে একাধিক সশস্ত্র সংঘাত, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন ও মেরুকরণ চরম রূপ ধারণ করেছে। একই সাথে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা জোরালো প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হতে চলায় আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ সংস্থার পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। এই সার্বিক বিবেচনা ও সন্ধিক্ষণে সাধারণ পরিষদের ৮১তম নির্বাচনে বাংলাদেশের এই বিজয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ঢাকা ও কূটনৈতিক মহল সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর আজ বৃহস্পতিবারই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি রক্ষা ও চলমান আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে একটি বিস্তারিত ও আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় মিলিত হতে পারেন। সেখানে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই অভাবনীয় অর্জনের নেপথ্য কারিগরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিজস্ব রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়