নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫৪, ৭ আগস্ট ২০২৬

দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী

দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে তিনি শুনেছেন এবং তিনিও বিশ্বাস করতে চান যে তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিগত সরকারের আমলের খুন, গুম ও গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর সত্যের মুখোমুখি হতে হলে তাকে অবশ্যই দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার পথ ধরতে হবে। আইনের ক্ষমতা মানুষের যেকোনো ক্ষমতার চেয়ে অনেক দীর্ঘ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আগামীর শৈলকুপা শীর্ষক দিনব্যাপী মতবিনিময় সভা, সংবর্ধনা এবং প্রয়াত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক অডিও বার্তা বা ভিডিও কনফারেন্সের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনো ভিডিও কনফারেন্সে আসেননি, বরং একটি রেকর্ড করা অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন বা কনফারেন্সেই থাকুন না কেন, তার কাছে তিনি একজন ফেরারি ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। জুলাই আন্দোলন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ সংঘটিত সকল অপরাধের জন্য তাকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে জানান তিনি। 

এছাড়া এত সব গুরুতর অভিযোগের পরও তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কি না বা সরকারের অপরাধ স্বীকার করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।

বিচার বিভাগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি এমন একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ দেখতে চান, যেখানে দেশের একজন দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সৃষ্টিকর্তার পর সবচেয়ে বেশি আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারেন। বিচার বিভাগে এখনো দুর্নীতি, দালালচক্র বা টাউট-বাটপারদের দৌরাত্ম্য এবং কাঠামোগত দুর্বলতার মতো নানা সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে তার দৃষ্টিতে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় সংকট হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। 

আরও পড়ুন: সাদ্দাম-ইনানকে ফোনে হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

বিচারকের দায়িত্ব কেবল একটি চাকরি করা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিধাতাপ্রদত্ত দায়িত্ব পালনের ব্রত নিয়েই বিচারকদের এই আসনে বসতে হবে।  

আগামীর শৈলকুপা ব্যানারে আয়োজিত দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কঠোর বার্তা দেন আইনমন্ত্রী। 

শৈলকুপায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, শৈলকুপার মাটিতে মাদকের কোনো স্থান হবে না। এছাড়া কৃষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে ধান-পাটের বাজারে ৪২ কেজিতে এক মণ পরিমাপের অনিয়ম বন্ধ করা হয়েছে এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে শৈলকুপা প্রবেশদ্বারে পুরোনো ও জরাজীর্ণ সেতুর পাশে দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণেরও ঘোষণা দেন তিনি।

প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ফলজ গাছের চারা তুলে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফল করলেই চলবে না, বরং নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বিকেলে তিনি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি শাহাবুদ্দিন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিক বিন হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়