পাকিস্তানে আইইডি বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ৭ জনের
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই উত্তপ্ত অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চলাকালে দ্বিতীয় বিস্ফোরণে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বান্নু জেলার মারকা বেরা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে একটি যাত্রীবাহী ভ্যান বা ডাটসান গাড়িকে লক্ষ্য করে। রিমোট-কন্ট্রোলড ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করে ঘটানো ওই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন।
প্রথম বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলে, প্রথম বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে দ্বিতীয় আইইডিটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই দ্বিতীয় বিস্ফোরণে আরও দুইজন প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই রেসকিউ ১১২২-এর উদ্ধারকর্মীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও ডোমেল গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং আরও বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১১.৭৮ কোটি
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অঞ্চলটি উত্তর ওয়াজিরিস্তানের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে অতীতেও পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বান্নু জেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে এবং পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে নাশকতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তবে রাষ্ট্র তাদের পরাজিত করবে। তিনি এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ‘অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্ক’কে সতর্ক করে দেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সীমান্ত অঞ্চলে সশস্ত্র হামলা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে পাকিস্তান সরাসরি আফগানিস্তানকে দায়ী করে আসছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের শীতল সম্পর্ক সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যার মধ্যে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও রয়েছে। গত অক্টোবরে সীমান্ত সহিংসতার জেরে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পথগুলো মূলত বন্ধ থাকায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা এখন স্থবির হয়ে আছে। এই প্রেক্ষাপটে বান্নুর জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনাটি দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








