যশোর প্রতিনিধি || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ২২ মার্চ ২০২১

বেনাপোল ইমিগ্রেশন কাস্টমসে কর্মকর্তাদের নির্যাতনে যাত্রী আহত

বেনাপোল ইমিগ্রেশন কাস্টমসে কর্মকর্তাদের নির্যাতনে যাত্রী আহত

যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন কাস্টম কর্মকর্তাদের হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনে রোকসানা আক্তার (৩২) নামে এক নারী পাসপোর্ট যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার পাসপোর্ট নম্বর: বিআর-০২৪৫৩১৮। 

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক কাস্টম ইমিগ্রেশনের কাস্টমসের তল্লাশি রুমে এ ঘটনা ঘটে। 

গুরুতর আহত ওই নারী রাজধানীর লালবাগ চকবাজার এলাকায় সেলিম হোসাইনের মেয়ে।  
তিনি স্বামীর সঙ্গে গত ১৯ মার্চ কলকাতায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। আসার সময় বাড়িতে থাকা তার ছেলেমেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কিছু কাপড় চোপড় কিনে নিয়ে আসছিলেন। 

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইমিগ্রেশনের কার্যাবলি সম্পন্ন করে লাগেজগুলো কাস্টমস স্ক্যানার মেশিন স্ক্যান করার পরে কাপড়চোপড় নিয়ে নেন ইমিগ্রেশন কাস্টমসের ইন্সপেক্টর মামুন ও সুপার রফিকুল ইসলাম। 

এর পর রোকসানা আক্তার ও তার স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটি হয় কর্মকর্তাদের। এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডার পরে রোকসানা বেগম কাস্টমসের তল্লাশি রুমে পড়ে গিয়ে তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। এসময় ইমিগ্রেশনের সব লোকজন তাকে এক পলক দেখতে ভিড় জমান।

গুরুতর আহত রোকসানা আক্তারের স্বামী শরিফ উদ্দিন বলেন, “তিনদিন আগে স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর জন্য কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসা শেষে ফিরে আসার সময় বাসায় থাকা ছেলে-মেয়েদের জন্য ফুটপাত থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো কাপড়চোপড় কিনেছিলাম। ইমিগ্রেশন কার্যাবলি সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন কাস্টমসের স্ক্যানার করার পর কাস্টমসের তল্লাশি রুমে নিয়ে যান আমাদের। সেখানে নিয়ে ভারত থেকে কিনে নিয়ে আসা মালামাল বের করে আমাকে বলেন, ১৮ হাজার টাকা ভ্যাট ট্যাক্স দেন। আমি বলতে থাকি এই মালামালগুলোর দামই ১৮ হাজার টাকা হবে না। আমি তাহলে আপনাকে কিভাবে ১৮ হাজার টাকা ভ্যাট ট্যাক্স দেবো। বিষয়টি নিয়ে তারা আমার ও আমার স্ত্রী উপরে উত্তেজিত হয়। এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। বিষয়টি দেখে কাস্টমস কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভয় পেয়ে যান। এরপর আমাকে ও আমার স্ত্রীকে পাশের আরেকটা রুমে নিয়ে যান এবং একজন ডাক্তার দেখেন। তারপর আমার স্ত্রী কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমি কাস্টমস থেকে রিলিজ নিয়ে চলে আসি।”

আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের একাধিক গোপন গোপন সূত্র জানান, আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন কাস্টমসে দায়িত্বরত সুপারেনটেনডেন্ট রফিকুল ইসলাম ও ইন্সপেক্টর মামুন হোসেন দীর্ঘদিন  ধরে কাস্টমস ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের ব্যাগ পারাপারে কুলিদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রেখে লাগেজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করে থাকেন। আর সাধারণ পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারত থেকে আসার সময় কিছু কাপড়চোপড় কেনাকাটা করলে তখনই বিপত্তি। এ দুই কর্মকর্তা সাধারণ যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কাস্টমসে তল্লাশির রুমে নিয়ে তাদের কাছে প্রথমে মালামাল কেনাকাটার ইস্যু নিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিতে পারলে মালামাল সিজার অথবা ডিএম করে নেয়া হবে বলে হুমকি দেন। অথচ প্রতিদিন শতশত লাগেজ ব্যবসায়ী কতদিন অনশনের ভিতরে থাকা কুলিদের মাধ্যমে কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রতিদিন  হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন কাস্টমসের সুপারেন্টেনরফিকুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার নেয়ামূল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি এইমাত্র আপনার মাধ্যমে শুনেছি। আমি এখনই দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলছি। আমাদের কর্মকর্তা কেউ যদি অপরাধের সাথে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়