স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪১, ১৪ জুন ২০২৬

ড্র দিয়ে শুরু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন

ড্র দিয়ে শুরু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন

ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ড্রয়ের মাধ্যমে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ফিফা র‍্যাংকিংয়ের অন্যতম শক্তিধর দল মরক্কো। ৮২ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে দুই দলের ১০০ মিনিটেরও বেশি সময়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে। তারকাখচিত ব্রাজিল দল নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নেমে শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন ফুটবল উপহার দিলেও, মরক্কো ছিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক এবং গোছানো। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের জন্য এই ড্রয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করাটা নিঃসন্দেহে কিছুটা হতাশার।

ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কোর ফুটবলাররা নিজেদের আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দেন। ষষ্ঠ মিনিটে মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়ে শট নিলেও ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহয়েসের সময়োচিত ব্লকে গোলবঞ্চিত হয় আটলাস লায়ন্সরা। তবে সেই দাপটের ফল তারা পায় ম্যাচের ২১তম মিনিটে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের কাছ থেকে পাওয়া একটি নিখুঁত থ্রু পাস থেকে ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে একা পেয়ে যান ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে ১-১ গোলের লিড এনে দেন তিনি।

পিছিয়ে পড়ে দ্রুতই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় সেলেসাওরা। গোল খাওয়ার ঠিক ১১ মিনিট পর, ম্যাচের ৩২তম মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়রের একক নৈপুণ্যে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। বাম প্রান্ত দিয়ে ড্রিবলিং করে বক্সে ঢুকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জোরালো ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করেন তিনি। এটি ভিনিসিউসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৫০তম ম্যাচ ছিল, যা তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন একটি অসাধারণ গোল দিয়ে। তবে প্রতিবেদনের কিছু অংশে গোলটিকে ভিনিসিউসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, সামগ্রিক তথ্যের ভিত্তিতে এটি তার জাতীয় দলের জার্সিতে ৫০তম ম্যাচ ছিল।

আরও পড়ুন: প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপ শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজ হলুদ কার্ডের কবলে পড়লে প্রথমার্ধের শেষদিকে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি; কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা কাসেমিরো ও ইবানিয়েজকে তুলে ফাবিনহো এবং দানিলোকে মাঠে নামান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে ব্রাজিল আধিপত্য বিস্তার করলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ছিলেন অসাধারণ ছন্দে। বিশেষ করে ৭৮ মিনিটে রাফিনহার একটি শক্তিশালী শট তিনি চমৎকার দক্ষতায় প্রতিহত করেন। ম্যাচের শেষভাগে ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন বেকারকেও মরক্কোর দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ রুখতে বেশ বেগ পেতে হয়। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষদিকে মরক্কো মিডফিল্ডার এল আইনুইয়ের দূরপাল্লার একটি শট দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে ব্রাজিলকে হারের হাত থেকে রক্ষা করেন আলিসন।

প্রযুক্তি ও ভিএআর (VAR) ব্যবহারও ছিল ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। শেষদিকে ব্রাজিলের একটি কর্নার কিক প্রদানের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির সহায়তায় পরিবর্তন করা হয়, কারণ রিপ্লেতে দেখা যায় বল সর্বশেষ ব্রাজিলেরই একজন খেলোয়াড়ের স্পর্শে মাঠের বাইরে গিয়েছিল। ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথমার্ধে মরক্কোর এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল ১.২২, যেখানে ব্রাজিলের ছিল ০.৮৫, যা মরক্কোর আক্রমণাত্মক খেলার প্রমাণ দেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে ব্রাজিল এগিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই জয়সূচক গোল আদায় করতে না পারায় এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী ম্যাচগুলোতে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়ার লক্ষ্যেই এখন ব্রাজিল ও মরক্কো উভয় দলকেই নতুন করে রণকৌশল সাজাতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়