নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:০৭, ১১ জুন ২০২৬

বাজেটে ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ বরাদ্দ

বাজেটে ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ বরাদ্দ

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে পেশকৃত এই বাজেট বক্তৃতায় সামাজিক সংহতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। 

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে এবার ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে ধর্মীয় বিভাজনের বিপরীতে সাম্য ও সংহতির বার্তাকে প্রাধান্য দিয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং ইসলামি গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ও সংশ্লিষ্টদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান সম্মানী প্রদান কর্মসূচিকে আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক ৮ হাজার টাকা করে সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার ৫২০ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই সম্মানী সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধীদের ভাতায় সুখবর

সম্মানী সুবিধার পাশাপাশি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা যেন আরও কার্যকরভাবে সমাজ গঠনে ও নৈতিকতা শিক্ষায় অবদান রাখতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। পাশাপাশি, হজ ব্যবস্থাপনাকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী, সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে বিদ্যমান কার্যক্রমগুলোকে আরও গতিশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ধর্মীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও ওয়াকফ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্তমান সরকার। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ওয়াকফ সম্পত্তির অবৈধ দখল উচ্ছেদে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১১টি ওয়াকফ এস্টেটের মোট ২৮ দশমিক ২০ একর জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। এই বাজেট প্রস্তাবনা মূলত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রার পথকে আরও প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়