News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:২২, ২১ মে ২০২৬

ড. এম এ মুহিতের নেতৃত্বে ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশ

ড. এম এ মুহিতের নেতৃত্বে ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘৭৯তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি’ (ডব্লিউএইচএ)-তে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। গত ১৯ মে সম্মেলনের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও বৈশ্বিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। মূল অধিবেশনের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (গাভি)-এর নীতিনির্ধারণী সভাসহ উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের মূল মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার’ বা চিকিৎসায় জনগণের নিজস্ব ব্যয়ের বিষয়টি অত্যন্ত সততার সঙ্গে স্বীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জাতীয় উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্য খাতকে স্থান দিলেও এখনো দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষকে নিজের পকেট থেকে মেটাতে হয়। বিপুল পরিমাণ এই চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর দেশের অসংখ্য পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, রাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে সরকারি স্বাস্থ্য বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সবার জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) নিশ্চিত করা, একটি কার্যকর রেফারাল সিস্টেম গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চলমান স্বাস্থ্য সংস্কারের বিশদ রূপরেখা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী সম্মেলনে জানান যে, দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে আরও টেকসই করতে বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের সঠিক সমন্বয় সাধন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘকাল ধরে উপেক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধীবান্ধব চিকিৎসাসেবা ও অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) মোকাবিলায় বিশেষ কার্যক্রম জোরদার করা। নাগরিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ-সবল জাতি গঠনে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চলমান রয়েছে বলে তিনি বিশ্বনেতাদের অবহিত করেন।

আরও পড়ুন: বিদ্যুতের দাম ও সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ওপর নেমে আসা মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখভাগে থাকা বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে রোগের ধরন ও বিস্তারে দ্রুত পরিবর্তন আসছে, যা দেশের বিদ্যমান সীমিত চিকিৎসা কাঠামোর ওপর এক বিশাল ও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এর পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিকের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের সীমিত স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও অর্থনীতির ওপর যে তীব্র ও বহুমুখী চাপ তৈরি করেছে, সেই মানবিক সংকটের দিকটিও তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ (PABS) ব্যবস্থা দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, মানবিক সংকট এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অর্থায়নের ক্রমাগত সংকোচনের ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পদের সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর মতো বৈশ্বিক 'নীরব ঘাতক' রুখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়