নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ১১ আগস্ট ২০২৬

‘সরাসরি সম্প্রচার হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট’

‘সরাসরি সম্প্রচার হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট’

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর দেশের রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার প্রেক্ষাপটে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। সভায় স্পিকার, চিফ হুইপ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে গত ২০ জুলাই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেন।

ইসি সচিব জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপর ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ, যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে। প্রার্থীরা আগামী ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপি ও জামায়াত জোটসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় প্রায় ৩৫ বছর পর দেশে পুনরায় রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটগ্রহণের ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণের দিন সংসদ সদস্যরা অধিবেশনকক্ষে নিজ নিজ নির্দিষ্ট আসনে অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। ভোটদানের সুবিধার্থে অধিবেশনকক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স স্থাপন করা হবে।

ব্যালট পেপার সম্পর্কে ইসি সচিব বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। বাঁ পাশের মুড়ির অংশে ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর এবং স্বাক্ষর করার নির্দিষ্ট ঘর বা স্থান থাকবে। ডান পাশের মূল ব্যালট অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম উল্লেখ থাকবে। ভোটার বা সংসদ সদস্যকে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে ফাঁকা স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে সামনে রাখা যেকোনো একটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে তা ফেলতে হবে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক

নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অধিবেশনকক্ষের ভেতরে ব্যালট বাক্সগুলোর সামনে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা শুরু হবে। চার থেকে পাঁচজন অভিজ্ঞ নির্বাচন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ব্যালট গণক দল ব্যালট পেপার শর্টআউট ও গণনার কাজ পরিচালনা করবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে বৈধ ও বাতিল ভোটের হিসাব এবং কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অধিবেশনকক্ষেই সরাসরি ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার অংশ হিসেবে গণমাধ্যমের জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদ ভবন থেকেই পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) করা হবে। এছাড়া সংবাদকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট বসার স্থান বা আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচন কমিশনাররা অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত থাকবেন এবং তাদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড ইস্যু করা হবে।

সংসদ সদস্যরা নিজ দলের নির্ধারিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বা বিপক্ষ দলের প্রার্থীকে ভোট দিলে তা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে গণ্য হবে কি না সাংবাদিকদের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্পষ্ট করে জানান যে, এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন এবং নির্বাচন কমিশনের পদ্ধতিগত কাজের বহির্ভূত। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব বা রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ধারণা বা উত্তর জেনে নেওয়াই শ্রেয়।

অন্যদিকে, বৈঠক শেষে সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলার বাইরে কোনো সংসদ সদস্যের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় ফোরাম থেকে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হবে এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। 
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকারের ভোট প্রদানের দৃশ্যও সরাসরি গণমাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে। অপরদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও ওই কাঠামোর আওਤੇ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় তাদের দলের পক্ষ থেকে হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়