News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৫০, ৩ মে ২০২৬

দেশে ফেরা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খুলেছেন সাকিব

দেশে ফেরা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খুলেছেন সাকিব

ফাইল ছবি

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের বরপুত্র এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান অবশেষে তার দেশে ফেরা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত মুখ খুলেছেন। 

বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থানরত এই অলরাউন্ডার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে হয়রানি না করার নিশ্চয়তা পেলে তিনি যেকোনো সময় দেশে ফিরতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে রাজনীতিতে তার ‘পল্টি’ নেওয়ার অভ্যাস নেই উল্লেখ করে স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনো তার দল আওয়ামী লীগের প্রতিই অনুগত।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, আমি ফিরবো, আশা করি তাড়াতাড়িই ফিরতে পারবো। আমি কোর্টে যাবো, মামলা লড়বো। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে! সাধারণ নাগরিক হিসেবে এটুকু আশা আমি করতেই পারি।

নিরাপত্তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, তিনি পুলিশের বিশেষ প্রটোকল বা রাস্তা বন্ধ করে চলাচলের সুবিধা চাচ্ছেন না। বরং আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন তাকে অযথা হয়রানি করা না হয়, সেই নিশ্চয়তাটুকুই তার দাবি। 

সাকিবের ভাষ্যমতে, হয়রানি না করার নিশ্চয়তা যদি কালকে দেওয়া হয়, পরশুই আমি দেশে যাবো। দেশে ফিরলে গ্রেফতারের শঙ্কা তিনি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না, তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।

৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দলের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন মাগুরা-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য। 

দল পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সাকিব বলেন, আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ বা ইচ্ছা কোনোকালেই ছিল না। আমি সবসময় নিজের দলের প্রতি অনুগত, আমার 'পল্টি' দেওয়ার অভ্যাস নেই।

আরও পড়ুন: শেষ টি-টোয়েন্টিতে অপরিবর্তিত স্কোয়াডে বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো দলকে আজীবন নিষিদ্ধ করে রাখা সম্ভব নয় এবং এটি দেশের গণতন্ত্র বা রাজনীতির জন্য শুভ নয়। 

অতীতে তার দল বিরোধী দলকে দমনের চেষ্টা করেছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব অনেকটা দার্শনিক ভঙ্গিতে বলেন, যদি আমরা আগে ভুল করে থাকি, তবে এখন সেই ভুলেরই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। পরে অন্য কেউ এসে যদি আবার একই কাজ করে, তবে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই বৃত্ত ভাঙতে হবে। এমনকি এবারের নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার প্রাথমিক ইচ্ছা ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সাকিব কানাডায় অবস্থান করছিলেন। সেই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এবং তার স্ত্রীর পোস্ট করা ছবি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 

এ বিষয়ে সাকিব আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, তার নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির জন্য পরিকল্পিতভাবে সেসব প্রচার করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছবিটি কবে তোলা বা কবে পোস্ট করা হয়েছে তা না জেনেই মানুষ জাজ করেছে। দেশের ওই পরিস্থিতিতে জেনেশুনে এমন কিছু করা কি সম্ভব?

নিজের বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলা প্রসঙ্গে সাকিবের দাবি, এসব মামলার কোনো শক্ত আইনি ভিত্তি নেই। তিনি মনে করেন, যেহেতু তিনি সাবেক সরকারের অংশ ছিলেন, তাই তাকে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো সহজ হয়েছে। তবে দুদকের মামলাগুলোকে তিনি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন এবং জানিয়েছেন, হাজারো মানুষ এমন মামলা মাথায় নিয়ে দেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থমকে গেলেও মাগুরার মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করেন সাকিব। 

তিনি বিশ্বাস করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ তাকে আবারও জনপ্রতিনিধি হিসেবে সুযোগ দেবে। 

সাকিবের মতে, এক মেয়াদে কাজ করার যে সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ছিল, তবে আবারও সুযোগ পেলে তিনি এমন কাজ করবেন যা মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে। আপাতত ক্রিকেটের বাইরে সাকিবের পুরো মনোযোগ এখন আইনি জটিলতা কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবে দেশে ফেরার দিকে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়