নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৪৬, ৭ আগস্ট ২০২৬

গুজব-অপপ্রচার ঠেকাতে পুলিশের সতর্কবার্তা

গুজব-অপপ্রচার ঠেকাতে পুলিশের সতর্কবার্তা

ফাইল ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার না করার জন্য দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, সম্প্রতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব প্রচারণায় মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ দাবি করেছে, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে জোরালো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো ধরনের বেআইনি তদবির বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা আমলে না নেওয়ায় অসন্তুষ্ট একটি মহল মনগড়া তথ্য তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের দাবি।

আরও পড়ুন: পিএসসিতে নতুন ৪ সদস্য নিয়োগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত থাকার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। এছাড়া পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অন্যায় তদবির, প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং অপপ্রচার বন্ধের শর্তে অর্থ দাবির মতো কর্মকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক কিংবা অযাচাইকৃত তথ্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সচেতন ভূমিকা পালন এবং যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ আরও জানিয়েছে, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী দৃঢ় মনোবল, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কোনো অপপ্রচার যাতে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করতে না পারে কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য জনগণের সহযোগিতা ও সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুজব ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবেও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়