নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৪৯, ১৪ জুন ২০২৬

অবসর সুবিধা ও বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ: আশাবাদী শিক্ষামন্ত্রী

অবসর সুবিধা ও বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ: আশাবাদী শিক্ষামন্ত্রী

ফাইল ছবি

দেশের শিক্ষা খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে প্রায় ৬৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বকেয়া সুবিধা পরিশোধ এবং উৎসব ভাতা শতভাগে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 

শনিবার (১৪ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।

শিক্ষকদের অবসর সুবিধা প্রদান প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অবসরকালীন পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকার ইতোমধ্যে থোক বরাদ্দ পেয়েছে, যা দিয়ে শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধের যাত্রা শুরু হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে অবসর সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট সব পাওনা পরিশোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এটি একটি বড় ধাপ হিসেবে কাজ করবে।

উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনেও সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বর্তমানে শিক্ষকরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন, যা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। এ বিষয়ে ড. মিলন জানান, উৎসব ভাতা শতভাগে উন্নীত করার প্রস্তাব সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। আসন্ন বাজেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই প্রথম ধাপে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে তা পূর্ণাঙ্গভাবে (শতভাগ) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও নিয়োগ কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আইনি জটিলতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্থবির করে রেখেছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমটি আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে আছে। এই আইনি বেড়াজাল ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে মন্ত্রণালয় এখন সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।

পরিশেষে, আইনি জটিলতা নিরসন সম্ভব হলে শিক্ষা খাতের নিয়োগ ও প্রশাসনিক উন্নয়ন কার্যক্রম অত্যন্ত গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, দীর্ঘদিনের জমে থাকা এসব সমস্যার সমাধান করতে পারলে শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার ফিরে পাবেন, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। অনুষ্ঠানটিতে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়