১৬ রাউন্ডে নিজ আসনে পিছিয়ে মমতা, জয়ের পথে শুভেন্দু
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে ভবানীপুর কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে দিনভর নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রাথমিক ট্রেন্ড ও গণনার তথ্য একত্র করলে দেখা যায়, কলকাতার এই হাই-প্রোফাইল আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ১৬ রাউন্ড গণনা শেষে এক পর্যায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ৫৩৮ ভোটে পিছিয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়, যদিও গণনার শুরু থেকে তিনি বেশিরভাগ সময় এগিয়ে ছিলেন।
ভোটগণনার সময় বিকেলের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাময়িকভাবে গণনা কার্যক্রম বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটে, যা পরবর্তীতে আবার পুনরায় শুরু হয়। এই বিরতির পর প্রকাশিত ফলাফলে ব্যবধান পরিবর্তিত হয়ে মমতার পিছিয়ে পড়ার চিত্র উঠে আসে, যদিও আরও কয়েক রাউন্ড গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, গণনা কেন্দ্রে তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি, বরং বারবার বিঘ্ন সৃষ্টির মাধ্যমে গণনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবানীপুরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন পক্ষ পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয়।
অন্যদিকে বিজেপি শিবির দাবি করে যে, গণনা সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এগোচ্ছে এবং প্রাথমিক প্রবণতা তাদের পক্ষে যাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত নির্বাচনের ধারাবাহিকতার সঙ্গে নতুন সমীকরণের মিল খোঁজা হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যদিও পরবর্তীতে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে টিকে থাকেন। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবারও ভবানীপুর কেন্দ্র রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ‘পদ্ম ফুটেছে’ বলে মোদির অভিনন্দন
একই সময়ে রাজ্যজুড়ে আসনভিত্তিক প্রাথমিক ট্রেন্ডেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্র ও প্রাথমিক গণনার তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি এগিয়ে থাকার দাবি করা হয় বিপুল সংখ্যক আসনে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
কিছু প্রতিবেদনে বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করার অবস্থায় দেখানো হলেও, অন্য কিছু বিশ্লেষণে তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান বজায় থাকার কথাও বলা হয়। কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর উপস্থিতি সীমিত আকারে কয়েকটি আসনে এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়া নন্দীগ্রাম আসনেও শুভেন্দু অধিকারীর এগিয়ে থাকার দাবি উঠে আসে, যা তাকে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই জায়গাতেই শক্ত অবস্থানে রাখার ইঙ্গিত দেয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়, এই প্রবণতা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভারসাম্যে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
ভোটগণনার মধ্যবর্তী সময়ে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মোবাইল ফোন জব্দ করার তথ্য সামনে আসে।
অভিযোগ করা হয়, গণনা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনের নিয়ম না মানার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একইসঙ্গে কিছু ব্যক্তির গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ ও বের করে দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে, যা ভোটগণনা পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলে।
সব মিলিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে ভোটগণনার এই পর্ব পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক অস্থির ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। প্রাথমিক ট্রেন্ড, আসনভিত্তিক প্রবণতা এবং একাধিক বিরোধপূর্ণ তথ্যের কারণে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








