স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৫৭, ১৪ মে ২০২৬

টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাইয়ের প্রস্তাব নাকচ সাকিবের

টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাইয়ের প্রস্তাব নাকচ সাকিবের

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সমার্থক হয়ে ওঠা নাম সাকিব আল হাসান এখন এক জটিল ও বৈরি বাস্তবতার মুখোমুখি। মাঠের ক্রিকেটে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার শঙ্কা তাকে দেশ থেকে দূরে রেখেছে। 

দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি একটি জাতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছেন তার বর্তমান জীবনের নানা অজানা অধ্যায়। যেখানে উঠে এসেছে মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে বিপুল অংকের অর্থের প্রস্তাব, রাজনীতিতে আসার পেছনের দর্শন এবং জাতীয় দলের জার্সিতে আবারও মাঠে নামার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।

সাক্ষাৎকারে সাকিব দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া মামলার তালিকায় তার নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করলে মামলার এফআইআর থেকে তার নাম বাদ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। 

তিনি বলেন, তাকে এক কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল নাম “কেস থেকে তুলে” দেওয়ার বিনিময়ে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং এটিকে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা থেকে আসা দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। 

তার মতে, মামলা শুরু হওয়ার পর শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে কারও নাম প্রত্যাহার করা বাস্তবসম্মত নয়; তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, এই প্রস্তাবটি সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে নয়, বরং এফআইআরে উল্লিখিত যোগাযোগ-সংক্রান্ত একজন ব্যক্তির মাধ্যমে কয়েকজনের কাছ থেকে তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি। 

আরও পড়ুন: আগে দেখতাম সবাই আ. লীগ করে, এখন দেখি কেউ করে না: সাকিব

সাকিবের ভাষায়, অর্থ দিয়ে মামলা থেকে নাম সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বরং ভুল বার্তা দিত এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারত বলে তিনি মনে করেন।

দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি আইনি বাধা না থাকলেও বাস্তবিকভাবে পরিস্থিতি জটিল। 

তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকি, সম্ভাব্য জনরোষ বা ‘মব’ পরিস্থিতি এবং বিদেশ যাত্রা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এসব বিষয়ই তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত করে তুলেছে। 

তিনি বলেন, স্বাভাবিক নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে দেশে ফেরা তার জন্য কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে দেশে ফিরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ক্রিকেট প্রসঙ্গে সাকিব জানান, জাতীয় দলের জার্সি তার কাছে এখনো গভীর আবেগের বিষয় এবং তিনি এখনো মনে করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবদান রাখার সক্ষমতা তার রয়েছে, বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে। তিনি ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও প্রস্তুতি নেওয়ার ইচ্ছার কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, সুযোগ পেলে কিছু সিরিজ খেলে নিজের অবস্থান মূল্যায়ন করতে চান।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো অনুশোচনা নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একটি নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে দেখে, তবে সেবা করার মানসিকতা থাকলে রাজনীতির মাধ্যমেও পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সব মিলিয়ে সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এক জটিল বাস্তবতার চিত্র একদিকে মামলার অভিযোগ ও অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার দাবি, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশ থেকে দূরে থাকা এক ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত টানাপোড়েন। তবুও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, সব বাধা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগ্রহ এবং নিজের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এখনো বজায় রেখেছেন বাংলাদেশের এই সাবেক অধিনায়ক।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়