বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪১৩, জবাবে পাকিস্তানের লড়াই শুরু
ছবি: সংগৃহীত
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বড় সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনের বিপর্যয় সামলে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের দারুণ জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া টাইগাররা দ্বিতীয় দিনে মুশফিকুর রহিমের ধৈর্য, লিটন দাসের ইতিবাচক ব্যাটিং এবং শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ঝড়ো ক্যামিওতে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয়েছে। তবে দিনের শেষভাগে ব্যাট হাতে ভালো শুরু করেছে পাকিস্তানও। ওপেনিং জুটিতে ১০৬ রান তুলে সফরকারীরা দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ১০৬ রান নিয়ে।
শনিবার (০৯ মে) দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে। ক্রিজে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস।
প্রথম ঘণ্টায় দুজনই দেখেশুনে ব্যাটিং করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা চাপ তৈরি করেন পাকিস্তানি বোলারদের ওপর। বিশেষ করে শাহিন শাহ আফ্রিদির এক ওভারে টানা তিনটি চার মেরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন লিটন। অন্যদিকে নিজের ৩৯তম জন্মদিনে ধৈর্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে খেলছিলেন মুশফিক।
তবে বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামান পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। দলীয় ৩৩৮ রানে লিটন দাসকে ফিরিয়ে প্রথম বড় আঘাত হানেন তিনি। অফস্টাম্পের বাইরের বল টেনে মারতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ দেন লিটন। ৬৭ বলে ৩৩ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এরপর খুব দ্রুত ফিরে যান মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামও। মিরাজ ১২ বলে ১০ রান করে পয়েন্টে ধরা পড়েন, আর তাইজুল ২৩ বলে ১৭ রান করে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন। ফলে ৪ উইকেটে ৩০১ থেকে ৭ উইকেটে ৩৮০ এক পর্যায়ে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন কিছুটা শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশের।
তবে একপ্রান্তে দৃঢ় ছিলেন মুশফিকুর রহিম। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তম ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২টি পঞ্চাশোর্ধ টেস্ট ইনিংসের নতুন রেকর্ডও গড়েন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। আটটি চারে সাজানো ১৭৯ বলে ৭১ রানের ইনিংসে তিনি পুরো ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পরপরই শাহিন শাহ আফ্রিদির ভেতরে ঢোকা দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে থেমে যায় তার ইনিংস। এরপর শূন্য রানে আউট হন এবাদত হোসেন। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৯ উইকেটে ৩৮৪, চারশ পেরোনো নিয়েই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
আরও পড়ুন: বিপিএলে ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি, বুলবুলের কাছে জবাব চাইলেন তামিম
সেই অনিশ্চয়তা দূর করেন তাসকিন আহমেদ। নিচের সারিতে নেমে মাত্র ১৯ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই পেসার। তিনটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে ওঠে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মোহাম্মদ আব্বাসকে সাইটস্ক্রিনের ওপর দিয়ে হাঁকানো বিশাল ছক্কায় দলীয় স্কোর চারশ পার করান তাসকিন। শেষ উইকেটে নাহিদ রানাকে নিয়ে ২৯ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের সমাপ্তিটা মর্যাদার সঙ্গে করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত শাহিন আফ্রিদির বলে দ্বিতীয় স্লিপে সৌদ শাকিলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তাসকিন। নাহিদ রানা অপরাজিত থাকেন ৪ রানে।
বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তিটা অবশ্য তৈরি হয়েছিল প্রথম দিনেই। শুরুতে ৩১ রানেই দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তৃতীয় উইকেটে তাদের ১৭০ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শান্ত খেলেন ১৩০ বলে ১০১ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস, আর মুমিনুল মাত্র ৯ রানের জন্য বঞ্চিত হন সেঞ্চুরি থেকে। ২০০ বলে ৯১ রান করে ফেরেন তিনি। তাদের গড়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪১৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায়।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। নিখুঁত লাইন-লেংথ, বাউন্সারের বৈচিত্র্য এবং ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ষষ্ঠ ফাইফার। শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩ উইকেট নেন, আর হাসান আলী ও নোমান আলী পান একটি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক শুরু করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পেসারদের প্রথম স্পেল সামলে ধীরে ধীরে রান তোলেন দুই ওপেনার আজান আওয়াইজ ও ইমাম উল হক। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আজান আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ফিফটি। অন্যদিকে ইমামও ছিলেন সাবলীল। একসময় বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে তারা। যদিও ২৩ রানে জীবন পেয়েছিলেন ইমাম; মাহমুদুল হাসান জয় কঠিন এক ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। এছাড়া নাহিদ রানার দ্রুতগতির বাউন্সারে হেলমেটে আঘাত পেলেও পরে স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং চালিয়ে যান আজান।
অবশেষে দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউ হন ইমাম উল হক। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি পাকিস্তানি ওপেনার। ৭২ বলে ৬টি চারে ৪৫ রান করে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ে ভাঙে পাকিস্তানের ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।
দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২২ ওভারে ১ উইকেটে ১০৬ রান। আজান আওয়াইজ অপরাজিত আছেন ৫০ রানে এবং ফজল মাহমুদ খেলছেন শূন্য রানে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করায় এখনো ৩০৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা। ম্যাচের তৃতীয় দিন তাই দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








