নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:০২, ১৮ মে ২০২৬
আপডেট: ০৮:০৩, ১৮ মে ২০২৬

টিকা ঘাটতির ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে চিঠি দেয় ইউনিসেফ

টিকা ঘাটতির ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে চিঠি দেয় ইউনিসেফ

ছবি: সংগৃহীত

টিকার মজুদ শেষের ঝুঁকি, রোগ বিস্তার, জটিলতা ও শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা জানিয়ে সতর্ক করে দাপ্তরিক চিঠির দিয়েছিল ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে চিঠি পাঠানোর কথাও বলেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে টিকার ‘আসন্ন ঘাটতির’ কথা জানিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে চিঠিটি পাঠান ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

ওই চিঠির আগে হামের টিকার সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে রোববার ইউনিসেফ বাংলাদেশ বলেছে, “হ্যাঁ। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে ইউনিসেফ বহুবার আলোচনায় যুক্ত হয়েছিল।

“এবং মজুদ শেষের ঝুঁকি, রোগ বিস্তার, জটিলতা ও শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা জানিয়ে সতর্ক করে দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে ওই বৈঠকগুলোর ফলো-আপ করা হয়েছিল।”

আরও পড়ুন: হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ গেলো আরও ৬ শিশুর

রানা ফ্লাওয়ার্স চিঠিতে লেখেন, হাম-রুবেলার এমআর৫ টিকার সময়সীমা ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। পোলিওর ‘বিওপিভি’, টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া (টিডি) এবং যক্ষ্মার বিসিজি টিকার সময়মীমা যথাক্রমে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে যাচ্ছে।

“সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে শিশুদের নির্দিষ্ট সময়ে টিকা নেওয়া ব্যাহত হয়। এছাড়া টিকায় প্রতিরোধ করা যায়, এমন রোগ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।”

২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় টিকা আনত সরকার। এতে অর্থায়ানের মূল উৎস ছিল দাতাদের সহায়তা। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এটাকে রাজস্ব বাজেটের খরচের আওতায় এনে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার পথে এগোয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তবর্তী সরকার।

এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার বিরূপ পরিস্থিতি এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কারণেও টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

হামে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ না দেখার কথা বলেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে দেশে ৪৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরমধ্যে হামে মৃত্যু হয় ৭৪ জনের

চিঠি পাওয়ার পর সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, এমন প্রশ্নে ইউনিসেফ বাংলাদেশ বলেছে, রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং অন্য অংশীদারদের সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

ইউনিসেফ বলছে, আগামীতে সময়মত টিকা পেতে ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছে বর্তমান সরকার।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়