নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০১, ১২ মে ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, ঢাকার তীব্র নিন্দা

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, ঢাকার তীব্র নিন্দা

ফাইল ছবি

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক ভয়াবহ ড্রোন ও বিমান হামলায় দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহতের ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একইসঙ্গে লেবাননে চলমান সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা। 

নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। 

মঙ্গলবার (১২ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক পৃথক বিবৃতিতে এই বর্বরোচিত হামলাকে ‘জঘন্য’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় দুপুরে নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তারা ওই এলাকায় নিজ বাসস্থানে অবস্থান করছিলেন। ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করা হয়। পরে তাদের মরদেহ নাবাতিয়েহর একটি হাসপাতালে রাখা হয়। নিহত শফিকুল ইসলাম (৪০) সাতক্ষীরা সদরের আফসার আলীর ছেলে এবং মো. নাহিদুল ইসলাম (২০) একই জেলার আশাশুনি উপজেলার মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। একই ঘটনায় সোমবার রাতে পৃথক হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদিও তাদের অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ‘দেশীয় সম্পদ অবহেলা করে আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার’

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার (১২ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক বিবৃতিতে ইসরায়েলি হামলাকে ‘জঘন্য’ ও ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানায়। 

মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে জানায়, লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। একই সঙ্গে দূতাবাস নিহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং সার্বিক সহায়তা নিশ্চিতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

সরকার আরও জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের শামিল।

এর আগে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দিপালী বেগম নামে আরও এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নিহত হন। একের পর এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশ মিশন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতা আরও বিস্তৃত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়