নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ১২ মে ২০২৬

‘ঈদে চাঁদাবাজি ঠেকাতে চতুর্মুখী নিরাপত্তা বলয়’

‘ঈদে চাঁদাবাজি ঠেকাতে চতুর্মুখী নিরাপত্তা বলয়’

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীসহ সারা দেশে নজিরবিহীন সমন্বিত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। 

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। 

এবারের ঈদে সড়ক-মহাসড়ক, নৌপথ, পশুর হাট এবং সীমান্তে নিরাপত্তার পাশাপাশি পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে মন্ত্রী জানান, ঈদ উপলক্ষে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে, যা ঈদের আগে ও পরে ৭ দিন করে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য একাধিক হটলাইন নম্বর সক্রিয় থাকবে, যার মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহন ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা যাবে।

সরকার এবার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা ও সড়ক-নৌপথে যাতায়াত নিরাপদ রাখার ওপর। সারাদেশে মোট প্রায় ৪ হাজার ৪০০-এর বেশি পশুর হাট বসছে, যার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ১১টি হাট রয়েছে। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা, জালনোট শনাক্তকরণ বুথ এবং প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা হবে। হাটগুলোতে নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

চাঁদাবাজি প্রতিরোধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পশুবাহী ট্রাক ও নৌযানে চাঁদাবাজি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হবে। কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে হটলাইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় যানজটের ৯৪ স্পট চিহ্নিত হাইওয়ে পুলিশের

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক ও নৌপথেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, স্পিডগান দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রেকার প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌপথে বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায়ও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোরবানির পর দুই ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ দেওয়ার জন্য দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে। এ লক্ষ্যে সরকার প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ে এই লবণ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের ঈদ ভাতা ও বেতন নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঈদের আগে কোনো শ্রমিকের বেতন বা বোনাস বকেয়া থাকবে না। অসুস্থ বা বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধেও পৃথক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও সরকারের অবস্থান কঠোর। সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রতিরোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, বিষয়টি সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেই আলোচনা হবে।

সরকারের মতে, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হবে। প্রশাসন আশা করছে, কঠোর নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ফলে জনসাধারণ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়