ঈদযাত্রায় প্রতিটি ট্রেনে নারীদের আলাদা কামরা বরাদ্দের নির্দেশ
ফাইল ছবি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় নারী যাত্রীদের রেল ভ্রমণ নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য অন্তত একটি পৃথক কামরা বা কোচ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে এই ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে আসন্ন ঈদযাত্রায় নারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিটকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদযাত্রায় ট্রেনগুলোতে ব্যাপক ভিড়ের কারণে নারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে একা নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে ওঠানামা, আসন পাওয়া এবং কামরার ভেতরে অবস্থান করা অনেক ক্ষেত্রে ভোগান্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় প্রতিটি ট্রেনে পৃথক নারী কামরা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়, যা ২০২১ সালে আইনজীবী মমতাজ পারভীন কর্তৃক দায়ের করা একটি মূল রিটের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুনানিতে আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন আদালতকে জানান, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা রাখার বিধান রয়েছে। একই আইনে ৫০ মাইলের বেশি দূরত্বের ভ্রমণে ওই কামরার সঙ্গে সংযুক্ত শৌচাগারের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিনা অনুমতিতে নারী কামরায় প্রবেশ করলে ১১৯ ধারায় জরিমানার বিধানও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ট্রেনে এই আইনি বিধান কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন: গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ জানানো যাবে না, হাইকোর্টের রায় প্রকাশ
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১০ মার্চ একই বেঞ্চ রুল জারি করে জানতে চেয়েছিলেন কেন আইন অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য পৃথক কামরা বরাদ্দ রাখা হবে না। ওই রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ঈদুল আজহার আগমনের প্রেক্ষাপটে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সম্পূরক আবেদন দাখিল করা হয় এবং তার ভিত্তিতেই নতুন নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহার সময় যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ট্রেনে অবশ্যই নারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে হবে, যাতে তারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনের বিধান বাস্তবায়নে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন বলেন, ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা কামরার বিধান বহু বছর আগে থেকেই আইনে রয়েছে, তবে বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণে এটি কার্যকর হয়নি। ঈদ মৌসুমে যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে অনেক নারী যাত্রী নিরাপত্তাহীনতা ও ভিড়জনিত অসুবিধার মুখোমুখি হন, যা এই নির্দেশনার মাধ্যমে কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হাইকোর্টের এই আদেশকে ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ সুবিধা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ে ভ্রমণে নারীদের অংশগ্রহণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ হবে এবং দীর্ঘদিনের একটি কাঠামোগত সমস্যার সমাধানের পথে অগ্রগতি ঘটবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








