আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:২৫, ১৪ মে ২০২৬
আপডেট: ১০:২৬, ১৪ মে ২০২৬

শি জিনপিংকে প্রশংসায় ভাসালেন ট্রাম্প, বেইজিং বৈঠকে বন্ধুত্বের উষ্ণ বার্তা

শি জিনপিংকে প্রশংসায় ভাসালেন ট্রাম্প, বেইজিং বৈঠকে বন্ধুত্বের উষ্ণ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রভাবশালী দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার এক চরম লক্ষ্য নিয়ে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হাই-ভোল্টেজ শীর্ষ সম্মেলন। দীর্ঘ ৯ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফরের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পর্বে ট্রাম্প শি জিনপিংকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেন। 

বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ এবং ‘অসাধারণ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে এক চমৎকার ভবিষ্যতের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

অন্যদিকে, শি জিনপিং সতর্কবার্তার সুরে বিশ্বকে একটি নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এক অস্থির সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, তাদের সাক্ষাৎ তার জন্য সম্মানের বিষয়। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক অতীতে নানা উত্তেজনার মধ্যেও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক জটিলতা দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব।

বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, ইরান পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান ইস্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ থাকায় এই ইস্যু আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ তৈরি করতে পারে। 

আরও পড়ুন: বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণে ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠক

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরেই ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন দেয়, যা বেইজিং-এর কড়া প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

বৈঠকের সময় ট্রাম্প তার সফরসঙ্গী হিসেবে বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাকে সঙ্গে এনেছেন, যাদের মধ্যে ইলন মাস্ক এবং জেনসেন হুয়াং-এর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে যুক্তরাষ্ট্র চায় চীনের সঙ্গে কৃষিপণ্য, বাণিজ্যিক বিমান এবং অন্যান্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাণিজ্য বিরোধ এড়াতে একটি সমন্বয়মূলক কাঠামো বা বোর্ড গঠনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে শি জিনপিং তার বক্তব্যে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে এমন এক সময় পার করছে, যা “এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তনের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক শান্তি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

শি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দুই দেশের উচিত সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতার পথ খোঁজা।

শি জিনপিং তার বক্তব্যে “থুসিডাইডিসের ফাঁদ” এড়ানোর বিষয়েও ইঙ্গিত দেন, যা মূলত উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তির মধ্যে সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রবণতাকে বোঝায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আহ্বান জানান এমন একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে, যেখানে দুই পরাশক্তি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে পুরোপুরি নতুন পথে নিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা কম হলেও, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অন্তত একটি নিয়ন্ত্রিত ও স্থিতিশীল কাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনের একটি কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে।

দুই দিনব্যাপী এই শীর্ষ সম্মেলন শেষে শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকের পর ট্রাম্পের বেইজিং ত্যাগ করার কথা রয়েছে। 

সূত্র: এনডিটিভি

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়