ডিসেম্বরের শেষ দিনে এসএসসি শুরুর পরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
ফাইল ছবি
দেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। করোনা-পরবর্তী সেশনজট নিরসন এবং শিক্ষাপঞ্জি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক সময়সূচি ও নীতিগত অবস্থান ঘিরে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরি হয়েছে, যেখানে ডিসেম্বরের শেষ দিন থেকে পরীক্ষা শুরু করে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করার পরিকল্পনা সামনে আনা হয়েছে।
তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলে শিক্ষা প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর তাত্ত্বিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবহারিকসহ সম্পূর্ণ পরীক্ষা প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে।
প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরুর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ করার পাশাপাশি ১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য রোজার ছুটি শুরুর আগেই পুরো পরীক্ষাপ্রক্রিয়া শেষ করার কৌশলগত উদ্দেশ্য থেকেই এই সময়সূচি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর ডিসেম্বরে পরীক্ষা শুরুর আগের ঘোষণা এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার দাবির মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা থেকেই ৩১ ডিসেম্বরকে শুরুর তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একদিকে মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত অবস্থান রক্ষা পায়, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক বাস্তবসম্মত প্রস্তুতির সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের একটি ধারাবাহিক রুটিন এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার কাঠামো দাঁড় করানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে স্থায়ীভাবে ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও নীতিগতভাবে আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: সেশনজট এড়াতে কার্যক্রম নিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
এবারের পরীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহারের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে, যা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার মানিকরণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সেশনজট কমানো এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারকে ধীরে ধীরে নিয়মিত কাঠামোর মধ্যে আনার অংশ হিসেবেও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের আলোচনা চলছে। একই প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন এবং এসএসসি পরীক্ষাকে জানুয়ারি বা পরবর্তী ধাপে স্থিতিশীল করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে অংশীজনদের মতামত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ হঠাৎ করে পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, সময় কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে এবং শিখন ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অনেকেই ধাপে ধাপে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন প্রথমে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং পরবর্তী ধাপে ধীরে ধীরে তা ডিসেম্বরের মধ্যে আনার সুপারিশও এসেছে। একই সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে রাখার প্রস্তাবও গুরুত্ব পাচ্ছে, যাতে দুই পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক স্বাভাবিক প্রস্তুতির সুযোগ পায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রমজান ছুটির আগেই পরীক্ষা শেষ করার বাস্তব চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় সময়সূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ৮-৯ ফেব্রুয়ারির দিকে রোজার ছুটি শুরু হতে পারে এই অনুমান মাথায় রেখে পুরো পরীক্ষাকাঠামো সাজানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার কিছু প্রশাসনিক নির্দেশনাও প্রাথমিক খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন প্রবেশপত্র বিতরণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, কেন্দ্রীয় নিয়ম মেনে ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি, মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে আয়োজনের বিধান। ফল প্রকাশের পর সাত দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন অনলাইনে গ্রহণের ব্যবস্থাও প্রস্তাবিত কাঠামোর অংশ।
সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রশাসন এখন একটি সমন্বিত, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য সময়সূচি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে একদিকে নীতিগত ঘোষণার ধারাবাহিকতা রাখা এবং অন্যদিকে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিক রুটিন প্রকাশ করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








