নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৯, ১২ মে ২০২৬

মে মাসের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স ১২৮ কোটি ডলার

মে মাসের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স ১২৮ কোটি ডলার

ফাইল ছবি

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের সুসংবাদ মিলেছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় হিসেবে এসেছে ১২৮ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা। 

মঙ্গলবার (১২ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার; অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই অব্যাহত রয়েছে। 
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশে মোট ৩ হাজার ৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত আর্থিক প্রণোদনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হার (ক্রলিং পেগ) চালুর ফলে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও আগ্রহ বেড়েছে। আনুষ্ঠানিক পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর এই প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন: ৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১০২ কোটি ডলার

চলতি বছরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিটি মাসেই রেমিট্যান্সের অংক ৩০০ কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে দেশে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তার আগে মার্চ মাসে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। এছাড়া বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। গত বছরের শেষ দিকেও এই ধারা বেশ সবল ছিল, যার প্রতিফলন দেখা যায় ডিসেম্বরের ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ এবং নভেম্বরের ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের পরিসংখ্যানে।

গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আয়ের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ এবং ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। অন্যদিকে আগস্ট ও জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। উল্লেখ্য যে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরটি ছিল প্রবাসী আয়ের জন্য একটি মাইলফলক। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা সর্বমোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। বর্তমানের এই ইতিবাচক গতিধারা বজায় থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় নতুন কোনো উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়