artk

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা

শনিবার, সেপ্টেম্বার ১৪, ২০১৯ ৯:২৯
দাদি ও চাচির সহায়তায় সিজার করালেন ধর্ষক

অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মীর সিজারে বাচ্চা অপসারণ

media

প্রতীকী ছবি

এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায়। পরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার কথা বলে নারায়ণগঞ্জের রায়গঞ্জে নিয়ে গিয়ে সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা অপসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই কিশোরী।

এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায়। পরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার কথা বলে নারায়ণগঞ্জের রায়গঞ্জে নিয়ে গিয়ে সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা অপসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই কিশোরী।

ওই কিশোরী সামাজিক মর্যাদা ফিরে পেতে ধর্ষক ও বাচ্চা অপসারণের সঙ্গে জড়িত চারজনের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নড়িয়া উপজেলার এক ডাব বিক্রেতার মেয়ে ভুক্তভোগী ওই কিশোরী মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করেন। একই গ্রামের প্রতিবেশী মৃত রশীদ ব্যাপারীর ছেলে বাবুল ব্যাপারী বিভিন্ন সময় ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করত।

ওই কিশোরীর অভিযোগ, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের ১০ তারিখে খালিবাড়ি পেয়ে বাবুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মেয়েটি চিৎকার চেঁচামেচি করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে ওই কিশোরীকে।

একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরলে বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করে বাবুল। প্রায় পাঁচ মাস পর নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত মেয়েটির দাদি ও চাচির সঙ্গে যোগাযোগ করে ধর্ষক বাবুল। নারায়ণগঞ্জে গিয়ে বিয়ে করার কথা বলে মেয়েটির দাদির সঙ্গে সেখানে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

চলতি বছরের  ৫ই মে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে ওই কিশোরীর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। অপারেশনের পর পরই কিছুটা জ্ঞান ফিরে আসলে চিকিৎসক কিশোরীকে তার বাচ্চাটি দেখায়। পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে আসলে সে তার জন্ম দেওয়া শিশুকে দেখতে চাইলে ওই কিশোরীর দাদি ও চাচি জানায় তার মৃত বাচ্চা হয়েছে।

একদিন হাসপাতালে রেখে কোন কাগজপত্র ছাড়াই মেয়েটিকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামের বাড়িতে এসে ওই কিশোরী বাবুল ব্যাপারীর কাছে তার বিয়ের কথা বললে উল্টো তাকে অপবাদ দিতে থাকে। অন্যদিকে চিকিৎসার অভাবে তার পেটের ক্ষত স্থানে ইনফেকশন হয়ে যায়। পরে ওই কিশোরীর মা তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়।

ওই ঘটনায় ১১ জুলাই কিশোরী বাদী হয়ে বাবুল ব্যাপারী (৩০), বাবুলের দুই ভাই নুরুল আমিন ব্যাপারী (৪৫) ও ইসমাইল ব্যাপারী (৪২) বাচ্চা অপসারণের সঙ্গে জড়িত ওই কিশোরীর দাদি (৬০), চাচিকে (৪৫) আসামি করে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করে।

ঘটনার শিকার ওই কিশোরী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে প্রথমে জোর করে ধর্ষণ করে। এই কথা কাউকে বললে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আর আমি যদি কাউকে কিছু না বলি তাহলে আমাকে বিয়ে করবে বলে কথা দেয় বাবুল। আমার বাবা- মা কাজে গেলে বিয়ে করার কথা বলে আমাকে নিয়মিত ধর্ষণ করে বাবুল।”

পরে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আমার দাদি আর চাচির সহযোগিতায় আমাকে প্রায় তিন মাস আটকে রাখে। তারা আমার সিজার করে ডেলিভারি করায়। সিজারের পর ডাক্তার আমারে বাচ্চা দেখাইছে। আমি পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বাচ্চা দেখতে চাইলে আমাকে মারধর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

ওই কিশোরীর মা বলেন, আমরা গরিব। আমি মানুষের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করি। আমার মেয়েটাকে বাবুল ব্যাপারী এমন কাজ করল। আমরা এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। আমরা গরিব বলে কেউ আমাগো কথা বিশ্বাস করতে চায় না। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাবনা?

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে অবিচার করা হইছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যাতে আমার মাইয়ার মতো আর কারোর ক্ষতি করতে না পারে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত বাবুল ব্যাপারীর বাড়িতে গেলে সে এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। ওই গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম ব্যাপারী বলেন, “অত্র ঘটনায় মেয়েটির পরিবার আদালতের কাছে বিচার চেয়েছে। বিষয়টি আদালতের ব্যাপার। আমি এই ব্যাপারে কোন কথা বলতে চাই না।”

মামলার আইনজীবী ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট  রওশন আরা বেগম বলেন, “ঘটনাটি শুনে আমি খুবই মর্মাহত হই। ওই কিশোরী একজন সহজ সরল মেয়ে। আমার কাছে যখন আসে তখন ও অপারেশনের জায়গায়  হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখছিল। আমি দেখি অবস্থা খুব খারাপ।”

তখন তাকে তার মায়ের সাথে  দ্রুত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠাই চিকিৎসার জন্য। ওরা মেয়েটিকে কোন ওষুধ ছাড়াই পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি আইনজীবী হিসেবে মামলাটি পরিচালনা করছি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ফরিদপুরকে  তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ।

পুঁজিবাজারে সব ধরনের সূচক পতন মারা গেছেন হোসনি মোবারক প্রাথমিকে বৃত্তি পেলো ৮২ হাজার ৪২২ শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় জাবিরও না সিটি ব্যাংকের ৩০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন চট্টগ্রামে ৩ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড পৌর নির্বাচন: চাঁদপুরে আ.লীগের মেয়র পদপ্রার্থী জুয়েল এনু-রুপনের আরেক বাড়ির পাঁচ সিন্দুকে ২৬ কোটি টাকা ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় মুজিববর্ষে এশিয়া ও বিশ্ব একাদশে খেলবে যারা সিএসইর নতুন চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বউয়ের পছন্দেই মুমিনুলের জার্সি নম্বর বদল জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারালো টাইগাররা দুদক ক্ষমতাসীনদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শন করে: টিআইবি ঢামেক থেকে নবজাতকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২ এনামুল-রুপনের আরেক বাসায় অভিযানের প্রস্তুতি র‌্যাবের ট্রাম্পের সফরের মধ্যেই রণক্ষেত্র দিল্লি, নিহত ৭ লাঞ্চ বিরতিতে ৫ উইকেটে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১১৪ বুধবার শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাচ্যনাটের ‘খোয়াবনামা’ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর ভারতের কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু সালমাদের আ’লীগ নেতা এনামুল-রুপনের বাড়িতে মিললো ৫ সিন্দুকভর্তি টাকা ভাতঘুমে কমবে রক্তচাপ নিজের ড্রাইভারের নামেই মামলা দিলেন ময়মনসিংহের এসপি পাপিয়াদের দল থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হবে: আব্দুর রহমান নড়াইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যা মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত মাইগ্রেনের ব্যথায় চা কফি এড়িয়ে চলতে হবে পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ