artk
বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২১, ২০১৯ ১:৫৬   |  ৬,অগ্রহায়ণ ১৪২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

শনিবার, আগষ্ট ৩১, ২০১৯ ২:৩২

পুরুষের বহুবিবাহ: নারীর স্বার্থহানি নাকি স্বার্থপ্রতিষ্ঠা?

media

প্রথমে আমরা একটি গল্প পড়বো। এরপর জানবো পুরুষ বহুবিবাহের অনুমোদনের কারণ। চলুন শুরু করা যাক, একজন নারীর আত্মকাহিনী দিয়ে-

স্বামী বললেন, ভাবছি দ্বিতীয় বিয়ে/স্ত্রী বিষয়টা কেমন? স্ত্রী: “কেন? আমি কি খারাপ? আমি কি যথেষ্ট ভালো নই? না, না, না! তুমি আরেকটা বিয়ে করবে, তোমার আরেকজন সঙ্গিনী হবে। আমি এটা কখনোই মেনে নিতে পারি না । সত্যিই যদি তুমি আরেকজন মহিলাকে বিয়ে করতে চাও, তো করো; তবে মনে রেখো, আমি এখান থেকে চলে যাবো । ফিরে এসে তুমি আমাকে আর এখানে পাবে না ।”

এইতো মাত্র ক’বছর আগে ঠিক এ কথাগুলোই আমি বলেছিলাম, যখন আমার স্বামীর মুখে শুনলাম যে তিনি আরেকটি বিয়ে করতে চান । যে মহিলাকে তিনি বিয়ে করতে চাচ্ছিলেন, সেই মহিলা ছিলেন সদ্য-তালাকপ্রাপ্তা, চার সন্তানের মা। খুব কষ্টে নাকি দিন কাটছিল ওনাদের। আমার স্বামী আমাকে বললেন, এই মহিলা এবং তার সন্তানদের অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে, দুপুর হলে তার বাচ্চাদের জন্য কোথা থেকে খাবার আসবে সেটাও নাকি তিনি জানেন না।

আমি উত্তরে বললাম, কেন? ডিভোর্স হয়ে গেলেও তো সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব ওদের বাবার। ওদের বাবা কোথায় গেছে? সে কি নিজের বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে পারছে না? আর বাবাও যদি তার দায়িত্ব পালন না করে তবে একজন বাইরের লোক হয়ে তুমি কেন তার বোঝা টেনে বেড়াতে যাবে? সমাজে কি আর কোন মানুষ নেই যে সব দায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে? নিশ্চয়ই উনাকে সাহায্য করার আরও অনেক উপায় আছে।  তোমার তাকে নিয়ে এতো ভাবতে হবে না। তবে তুমি চাইলে তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারো। আমি তাতে সম্মত আছি। বিয়ে করার কোনো প্রয়োজন নেই।

আমি আমার স্বামীর বহুবিবাহ কোনভাবেই মেনে নেবার কথা ভাবতে পারিনি । আমার মাথায় শুধু এই চিন্তা ও দৃশ্য ঘুরপাক খাচ্ছিল যে, আমার স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে আরেকজন নারীর সঙ্গে তাকে ভাগাভাগি করতে হবে। তার ভালোবাসা, হাসি, রসিকতা এগুলো আমি ছাড়াও আরেকজন নারী উপভোগ করবে। সে আমাকে ছাড়াও আরেকজন নারীকে স্পর্শ করবে, তাকে আদর- সোহাগ করবে, ভালোবাসার গল্প শোনাবে। এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। সুতরাং অন্য বিয়ের জন্য তার বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য। এটা স্পষ্ট আমাকে অপমানের নামান্তর । চরম রাগ-ক্ষোভ, দুঃখ, আর অপমানের জ্বালায় পুড়ে পুড়ে আমি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিলাম।

আমি ওর জন্যে কী না করেছি! ওর সব চাহিদা আমি পূরণ করেছি। ওর জন্য হয়েছি একজন স্ত্রী, প্রেমিকা, (ওর সন্তানের) মা, সেবিকা, গৃহিণী। আমি আজ তিন সন্তানের মা। আর তাদের জনক তো আমার ওই স্বামীই। তবে কি আমি আজ আর আগের মতো বেশি সুন্দরী বা অল্পবয়সী নই? আজ কি তবে আমার আকর্ষণ কমে গেছে? নাকি এখন আমি ওর জন্য যথেষ্ট-ই না? যে কারণে আমাকে সে এভাবে এতোটা অপমান করতে পারে।

আবার মনে হলো, ওই নারী তো আমার চেয়ে বয়স্কই হবে। কারণ তিনি চার সন্তান জন্ম দিয়েছেন। আবার ডিভোর্সি। তাহলে আমার স্বামীর এখন আরেক বিয়ের কারণ কী ? কারণ থাকুক বা না থাকুক আমার কাছে তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আরেক বিয়ে। সে আর যাই করে করুক, আমি তা মেনে নেবো। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে ? অসম্ভব। এমন কথা মেনে নেয়া যায় না।

তখনই ওকে আমার সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলাম । তীব্র কণ্ঠে বলে উঠলাম, যদি তুমি বিয়ে করো আর দ্বিতীয় কোনো স্ত্রী এই বাড়িতে ঢোকে, তাহলে আমি বেরিয়ে যাব। কোনদিন আমি আর এ বাড়িতে ফিরে আসব না । যদি তুমি অন্য কোনো নারীর জন্য আমাদের বিয়ে, সন্তান, আর জীবনের ঝুঁকি নিতে চাও, তো নিতে পারো। কিন্তু আমি এসব সহ্য করবো না। আমার দ্বারা তখন তোমার সঙ্গে জীবন কাটানো অসম্ভব।

মনে হচ্ছে যেন বহুকাল আগের কথা বলছি! আমি বলছি এমন এক সময়ের কথা যখন আমি ভেবেছিলাম এ জীবনটা অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে। কোনদিন শেষ হবে না। চলতেই থাকবে…. । যেন কখনও কিচ্ছু বদলে যাবে না, বদলাতে পারে না, বদলানো যে অসম্ভব। কিন্তু এক ঝড় এলো জীবনে। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল সব। অদ্ভুতভাবে সবকিছুই যেন একপলকে পাল্টে গেলো।

এরপর আমার স্বামী আর কখনোই দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলেননি। ওই মহিলাকে বিয়েও করেননি। আমার অত শত হুমকি আর তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলার পরে বহুবিবাহের কথা আর ধোপে টেকেনি। যার কারণে আমিও খুব খুশি। নিজের স্বামীকে ধরে রাখতে পেরেছি সেই আনন্দে আত্মহারা! কারণ বস্তুত পক্ষেই আমরা একজন আরেকজনকে অনেক ভালবাসতাম। যে মহিলাকে আমার স্বামী বিয়ে করতে চেয়েছিলেন তার ও তার সন্তানদের শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিলো আমি জানি না। সম্ভবত ওরা সবাই অন্য এক শহরে চলে যায়। কিন্তু তখনও আমি কোনো এক ঘোরের মাঝে ছিলাম। আমি বুঝতে পারিনি যে, আমাদের সময় খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে আসছে, ফুরিয়ে যাচ্ছে।

কিছুদিন পরেই আমার প্রাণপুরুষ স্বামী আমাকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমালেন। আমার স্বামীর জীবনের শেষ কথাগুলো ছিলো -ওর খুব মাথা ধরেছে, ইশার সালাতের আগ পর্যন্ত নাকি শুয়ে থাকবে। হায়! তিনি শুয়ে তো পড়লেন। কিন্তু তার আর ওই রাতের ইশার নামায আদায় করা হয়নি। কারণ ওর সে ঘুম আর ভাঙেনি। সে রাতেই উনি মারা যান।

আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। কোনো দিন কল্পনা করিনি যে সে আমাকে ছেড়ে একাকি পাড়ি জমাবে না ফেরার দেশে। যে মানুষটার সঙ্গে আমি আমার সারাটা জীবন কাটিয়েছি, তাকে এক মুহূর্তের মাঝে আমার থেকে ছিনিয়ে নেয়া হলো! তার এমন হঠাৎ মৃত্যুতে আমি পুরো হতবিহ্বল হয়ে পড়ি! কী করব ভেবে কোনো কূল পাচ্ছিলাম না। তার জন্য বহুকাল কেঁদে কেঁদে আমি বালিশ ভিজিয়েছি দুই নয়নের জলে। কতোকাল ধরে কেঁদেছি তা আমি আর আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। হয়তো এক মহাকাল জুড়ে কেঁদেছিলাম।

আমার স্বামী যেসব সম্পদ রেখে মারা যান তার কোনো কিছু দেখাশোনা করার মতো অবস্থা আমার ছিল না। আমি তো এমন একাকি জীবন ভাবিনি। ভেবেছি, আমার স্বামী আছে, থাকবে । পরস্পরকে আমরা যেহেতু ভীষণ ভালবাসি তো এভাবেই চলবে অনন্তকাল। যাই হোক, অযত্নে-অবহেলায় আমার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদ একে একে হারাতে শুরু করলাম। প্রথমে গেল আমাদের গাড়ি। এরপর দোকান, এরপর বাড়ি। এবার আমি ও আমার সন্তানেরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

বাড়িও যেহেতু বিক্রি করে দিয়েছিলাম তাই মাথা গুজবার জন্য শেষমেষ আমি ও আমার তিন সন্তান¬ আমার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠলাম । হঠাৎ এতোগুলো মানুষের উপস্থিতি একটি বড় ঝামেলার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো। লোকের আধিক্যে তাদের বাড়িটা গিজগিজ করতো। ভাবীও দিনে দিনে অতীষ্ট হয়ে উঠছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে খুব ইচ্ছে হতো ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। কিন্তু যাবো কোথায় ? যাবার জন্য তো কিছু সম্পদ বা টাকা দরকার। তা যে আমার নেই। তখন আমার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল একটি চাকরির। কিন্তু আমার তো কোনো দক্ষতা নেই । তাহলে কেউ আমাকে কাজে নেবে কেন? এদিকে বয়সও হয়ে গেছে। কিছু শিখে যে চাকরি করব তেমন শেখার মতো বয়স আমার ছিল না। কিন্তু ভাইয়ের দয়া আর ভাবির অতিষ্ঠভাব নিয়ে এভাবে কতোদিন মাথা গুঁজে পড়ে থাকা যায়?

স্বামী যখন বেঁচে ছিলেন তখন আমরা কতোইনা আরাম-আয়েশে ছিলাম! আমি গৃহ সামলেছি, সে বাইরে। সহযোগী ছিলাম আমরা, প্রতিযোগী নই। তাই ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রয়োজনই ছিল না বা করতে হবে এমন কিছুই ভাবতে হয়নি। তাই নিজেকে কোনো বিষয়ে পারদর্শী করে তোলাও জরুরি মনে হয়নি। কিন্তু আমার স্বামীর মৃত্যুর পরে জীবন অত্যন্ত কঠিন হয়ে গিয়েছিলো। আমি প্রতিটা দিন উনার অভাববোধ করতাম, হৃদয়ের প্রতিটা অংশ দিয়ে উনাকে খুঁজতাম। ফিরে পেতে চাইতাম সেই সোনালি দিনগুলো। কী করে যে একজন মানুষের জীবন এতো স্বল্প সময়ে ভয়ানকভাবে পাল্টে যায় তা আমি বুঝেছি, যা এখনও আমার ভাবতে কষ্ট হয়।

এভাবেই কাটছিলো আমার সেই ভয়ানক দিনগুলো । হঠাৎ একদিন আমার ভাই আমাকে ডাকলেন । হঠাৎ এমন করে ডাকটাও ছিল অপ্রত্যাশিত । ভাবলাম বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলে কি না। কারণ ভাবির অসন্তুষ্টি তো ভাইকেও পীড়া দিত। যদিও বোন ভাগ্লে বলে মুখ ফুটে কিছু বলতেন না। ডাক শুনে যখন গেলাম তখন তিনি তার পরিচিত এক ভাইয়ের কথা বললেন। সেই ভাই নাকি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। অনেক দ্বীনদার। ভালো মানুষ। চমৎকার আচার ব্যবহার তার। আমার জন্যে নাকি খুব মানাবে। কিন্তু বিয়ে হলে আমি হবো তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।

দ্বিতীয় স্ত্রী! চমকে উঠলাম আমি। আমার জীবনে তখন দ্বিতীয়বারের মতো ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ কথাটি শুনলাম। কিন্তু প্রথমবার শোনার আর দ্বিতীয়বার শোনার অনুভূতিটা ভিন্ন। সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথমবার হয়েছিলাম বিরক্ত আর এবার আসক্ত। এবারের পরিস্থিতি কতোইনা ভিন্ন! ভাই বললেন, আমি রাজি থাকলে উনি আমাকে দেখতে চান, আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি আর কী বলব? আমার তো এমন কিছুই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।  এই কঠিন মুহূর্তে এমন প্রস্তাব আমার সকল অভাব পূরণের সবচে’ বড় আশারূপে দেখা দিল। তাই ‘হ্যাঁ’ বলে দিলাম ।

ভদ্রলোক একদিন আমাকে দেখতে বাসায় এলেন। ক্ষণিকের মাঝেই যেন আমাদের মধ্যে কী একটা হয়ে গেলো! অবিশ্বাস্যভাবে উনাকে আমার ভীষণ পছন্দ হলো, তার প্রতিটা ব্যাপারই খুব ভালো লাগছিলো। আমি যেন একটি আস্থার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে জানালেন, তাঁর প্রথম স্ত্রী তাঁর এই দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে জানেন। স্বভাবতই তিনি এর বিরোধী। তিনি এটাও জানালেন যে, আমি পাত্রী দেখেছি, আমার পছন্দও হয়েছে- একথা জানলে আমার স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে সেটা আমি জানি না। এখন আমার স্ত্রীর বহুবিবাহ মেনে নেয়ার ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

আমার মনে পড়ে গেল, কয়েক বছর আগে আরেকজন নারীর জীবনেও এমন পরিস্থিতি এসেছিল। তার সবকিছুই ঠিক একইভাবে আমার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিলো। এমন কথা শুনে আমি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তাও আমার মনে পড়ল। হঠাৎ করে অনুতাপে পুড়ে যাওয়ার মতো একটা উপলব্ধি হলো। মনে হচ্ছিলো, এক আশ্রয়হীন নারী একটু আশ্রয় খুঁজেছিল। আমি তাকে আশ্রয় পাবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছি। সে আমার পাশে একটু জায়গা চেয়েছিল। আমি তাকে জায়গা দেইনি। একজন স্বামীহীন নারী একটু স্বামীর আদর চেয়েছিল। আমি তার জন্য সেই দুয়ার বন্ধ করে দিয়াছিলাম।

আমার মনে পড়ছিল, আমি তো আমার জীবনে আরেকজন নারীকে স্থান দেইনি। আশ্রয় থেকে বঞ্চিত করেছি, তাকে তার স্বামী পাবার অধিকারকে অস্বীকার করেছি। তবে আল্লাহ কেন আরেকজন নারীর জীবনে আমাকে স্থান নেবার সুযোগ দেবেন? কোন দাবিতে আমি তা পেতে চাইব? মনে হলো হায়, যদি আজকের ভাবনাটা আমার ওই সময়ে উপলব্ধি হত। নিশ্চয়ই এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা আমাকে শাস্তি দেবেন।

আমি ক্ষমা চাইতে লাগলাম। এছাড়া আমার তো আর কিছুই করার নেই। আল্লাহ মহা ক্ষমাশীল এটাই আমার ভরসা। যদি তিনি নিজ দয়ায় ক্ষমা করে দিয়ে গোনাহগার বান্দিকে তাঁর ভালোবাসার চাদরে ঢেকে নেন, তবে কার সাধ্য আছে বাধা দেবার? সে রাতে আমি ইস্তিখারার সালাত আদায় করলাম। আমি পাগলের মতো চাইছিলাম যেন বিয়েটা ঠিকঠাক হয়ে যায়। আহা! জীবনে কি আমার একবারও মনে হলো না যে, যে কাজটি আমি করেছিলাম তা কতোটা ভুল ছিল? আমার সবসময় এ ধারনাই ছিল যে, এমন করাটাই সঠিক কাজ ছিল। আমার স্বামী তো আমার সম্পদ। মালিক তো সম্পদ আগলে রাখবেই। আমি আমার সম্পদকে আগলে রেখেছি – এতে সমস্যা কোথায়?

কিন্তু এখন যখন আমার অবস্থান পাল্টে গেছে, প্রয়োজনটা যখন এবার আমার, তখন আমি বুঝতে পারলাম কতোটা ভুলেই না ছিলাম আমি! আমি আরেকজন নারীর স্বামী পাবার অধিকারকে অস্বীকার করেছিলাম। তখন যদি আমি কষ্ট করে সেই অসহায় নারীর স্বামী পাবার অধিকারকে স্বীকার করে নিতাম তাহলে হয়ত আজ জোর দাবি জানাতে পারলাম । কিন্তু তা যে আমি করিনি ।

দু‘আ-ই আমার সম্বল । আমি দু’আ করতে থাকলাম যেন উনার স্ত্রী আমাকে মেনে নেন। কয়েকদিন পর তিনি আমাকে ফোন করে বললেন, উনার স্ত্রীর জন্য এটা মেনে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে, তবুও তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী। আমি তো জানি, তার কষ্টটা কতোটা গভীর। আমি তার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম । খুব চিন্তা হচ্ছিলো, উনি কি আমাকে মেনে নেবেন নাকি কিছু শক্ত কথা শুনিয়ে বিদায় দেবেন । তবুও একটু আশায় বুক বাধলাম । সেদিন আল্লাহর কাছে অনেক দু’আ করলাম আর বললাম – হে আল্লাহ, আমাকে সাহায্য করো!

যখন ঐ মহিলার সাথে সাক্ষাত হল তখন তাকে দেখলাম, বুঝতে পারলাম, সে ঠিক আমার মতোই একজন রক্ত-মাংসের মানুষ । আমার মতোই একজন নারী । আমার মতই একজন স্ত্রী । সে জানে তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে আরেকজন নারীর সাথে তাকে ভাগাভাগি করতে হবে । তার ভালোবাসা, হাসি, রসিকতা এগুলো সে ছাড়াও আরেকজন নারী উপভোগ করবে । স্বামী তাকে ছাড়াও আরেকজন নারীকে স্পর্শ করবে, তাকে আদর- সোহাগ করবে, ভালোবাসার গল্প শোনাবে । সে তার স্বামীকে প্রচণ্ড রকমের ভালোবাসে, যে তার স্বামীকে হারাতে ভয় পায় । স্বামী এমন কিছু করুক তা সে চায় না ।

তার চোখগুলো বেদনায় ছলছল করছিলো । সে আমার হাত দুটো ধরে বললো: “বোন, আমার জন্য এটা মেনে নেওয়া কী যে কঠিন তা আমি তোমাকে বোঝাতে পারবো না ! তাও দু’আ করি, যেন আমরা দু’জন বোনের মতো থাকতে পারি ।” উনার কথায় আমার হৃদয় ভেঙেচূড়ে খানখান হয়ে গেলো । উনার স্ত্রী এমন একজন নারীর দৃষ্টান্ত, অনুপম আদর্শ যেমন আমি নিজে কখনো হতে পারিনি। এমন করে কেউ তার একান্ত নিজের সম্পদকে ভাগাভাগি করতে পারে যা আমি তাকে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। আমি উনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ, চির ঋণী ।

এই কঠিন মুহূর্তে আমার তো শুধু এটুকুই লাগতো- একটি সখ্যতার হাত যে আমাকে বুকে টেনে নেবে, বেঁচে থাকার আশা দেবে । এই মহীয়সী নারী, আদর্শ স্ত্রীর কাছে সেটুকু পেলাম। আমার একসময়ের ভাবনা ছিল, নিশ্চয়ই কেউ কারো স্বামীকে আমার মতো করে এতো বেশি ভালোবাসতে পারেনি। স্বামীর জন্য আমার হৃদয়ে জমে থাকা ভালোবাসার কাছে অন্যদের ভালোবাসা পৌঁছা অসম্ভব। কিন্তু উনার স্ত্রীকে দেখে ধারণাটি বদলে গেলো। এই মানুষটির কাছ থেকেই শিখতে পারলাম নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আসল রূপ।

রাজধানী সুপার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে ময়মনসিংহে এক বাড়িতেই ৭ হাজার কেজি লবণ ট্রান্সফাররেবল এলসির সঠিক ব্যবহারে বায়িং হাউজের দক্ষতা বাড়ানো জরুরী জনগণকে শাস্তি দেবেন না প্লিজ: কাদের কাউন্সিলর সাঈদের বিরুদ্ধে মামলা সৈয়দ নূরুল আলমের ‘আমার জীবন ও উন্নয়নের ৪৪ বছর’ টিকাটুলিতে রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুন শিগগিরই ২২১ বন্ড লেনদেনযোগ্য হবে দেশের মানুষ এখন খোলা জেলে বন্দী: মির্জা আব্বাস ধর্মঘটের প্রভাব চালের বাজারে পড়বে না: খাদ্যমন্ত্রী বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, ২৫ নভেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় সভা চট্টগ্রামে পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানা: ২০ অস্ত্রসহ ‘ডাকাত সর্দার’ গ্রেপ্তার ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক বাস নেই, ভোগান্তি মাথায় নিয়ে হাঁটছে মানুষ ভুঁড়িওয়ালা পুরুষের কদর বেশি কেন নারীর কাছে ? সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস বন্ধ শিক্ষকের থাপ্পড়ে কান ফাটলো ছাত্রের রাজধানীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালালে অনেক এমপি-মন্ত্রীর যাবজ্জীবন হবে: নাজমুল আইনের লাগাম ছেড়ার ধর্মঘটে সারাদেশে অচলাবস্থা দিনাজপুরে ট্রাকচাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত কাউন্সিলর রাজিবের তিন গাড়ি জব্দ সেফুদার সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ লবণ নিয়ে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: সরকার রাজস্ব আদায় ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বুধবার থেকে বাস চলবে খুলনায় ৩৯তম বিসিএসে ৪ হাজার ৪৪৩ চিকিৎসক নিয়োগ অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ৫ কর্মী গ্রেপ্তার খালেদা জিয়া দাঁড়াতে-বসতে বা হাতে তুলে খেতে পারেন না: রিজভী দুই সিটির ভোটবিরোধী ৩৬ কাউন্সিলর