artk
রোববার, সেপ্টেম্বার ২২, ২০১৯ ১০:০৯   |  ৭,আশ্বিন ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, আগষ্ট ১৬, ২০১৯ ৯:৪৫
ব্রিটিশদের তৈরি ‘কালাপানি’

যেখানে মৃত বন্দিদের দেহ ছুড়ে ফেলা হতো সমুদ্রে

media

সাগরের পানি কালো হোক না হোক, নৃশংস অত্যাচারের ক্ষত কালোর চেয়েও বেশি। ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার আন্দোলনের বহু আগে থেকেই আন্দামান ছিল ব্রিটিশদের তৈরি ‘কালাপানি’। সিপাহী বিদ্রোহের সময় থেকেই সেখানে দ্বীপান্তরে পাঠানো হতো বন্দিদের। অত্যাচারী ব্রিচিশ শাসক সেই ধারা পূর্ণমাত্রায় বজায় রেখেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ক্ষেত্রেও।

সিপাহী বিদ্রোহের পরে প্রায় দুইশ জন বিদ্রোহীকে আন্দামানে দ্বীপান্তরে পাঠিয়েছিল ব্রিটিশরা। মুঘল রাজবং‌শের অনেক সদস্য এবং সিপাহী বিদ্রোহের সময় যাঁরা বাহাদুর শাহ জাফরের পাশে ছিলেন, তাদের অনেকেরই নিয়তি ছিল কালাপানি।

ঊনিশ শতকের শেষে পরাধীন ভারতে তুঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রাম। ফাঁসির পাশাপাশি সশস্ত্র পথের বিপ্লবীদের বেশিরভাগেরই শাস্তি হয়েছিল দ্বীপান্তর। সেই সময় ব্রিটিশ সরকার বুঝল, এ বার আন্দামানে দরকার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সমেত একটি কারাগার।

মূলত ব্রিটিশ রাজকর্মচারী চার্লস জেমস ল্যাল এবং চিকিৎসক এ এস লেথব্রিজের মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল সেলুলার জেল। ১৮৯৬ সালে শুরু কারাগার নির্মাণের কাজ। শেষ হয় ১৯০৬ সালে। তৎকালীন বার্মা থেকে ঘন লাল রঙের ইট এনে প্রথমে তৈরি হয়েছিল কারাগার।

কারাগার ভবনের সাতটি শাখা ছিল। কেন্দ্রে ছিল টাওয়ার। যেখান থেকে রক্ষীরা নজরদারি চালাতো। বাইসাইকেলের চাকায় যেমন স্পোক থাকে, সেভাবে কেন্দ্র থেকে বিস্তৃত ছিল শাখাগুলো।

‘সেলুলার জেল’ নাম এসেছে ‘সেল’ বা প্রকোষ্ঠ থেকে। কারাগারে মোট ৬৯৬টি সেল ছিল। ১৪.৮ x ৮.৯ ফিটের প্রকোষ্ঠগুলোতে থাকতো একটি মাত্র ঘুলঘুলি। সেটাও মেঝে থেকে ৯.৮ ফিট উচ্চতায়।

প্রকোষ্ঠগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছিল, যাতে কোনো বন্দি অন্য কারও মুখ দেখতে না পারেন। ফলে তাদের মধ্যে যোগাযোগের কোনো উপায় ছিল না। এ ভাবেই ‘সলিটারি কনফাইনমেন্ট’-এর ব্যবস্থা করেছিল ব্রিটিশ সরকার।

কত জন রাজনৈতিক বন্দিকে আন্দামানে দ্বীপান্তরিত করা হয়েছিল, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে সংখ্যাটি অন্তত ৮০ হাজার বলেই মনে করেন ইতিহাসবিদরা। তার মধ্যে সামান্য সংখ্যক স্বাধীনতা সংগ্রামী ফিরতে পেরেছিলেন স্বাধীন ভারতবর্ষে।

ব্রিটিশ শাসনের শেষ অর্ধে সেলুলার জেলের বন্দিদের বড় অংশ ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী। ফজলে-এ-হক-খয়রাদি, যোগেন্দ্র শুক্ল, বটুকেশ্বর দত্ত, বারীন ঘোষ, শচীন্দ্রনাথ সান্যালসহ অসংখ্য বন্দি সেখানে অকথ্য অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অধিকাংশ বন্দি হয় মারা গেছেন, নয়তো আত্মঘাতী হয়েছেন। অনেক সময়ই মৃত্যুদণ্ড বা অন্য কারণে মৃত বন্দিদের দেহ ভাসিয়ে দেয়া হতো সাগরের পানিতে।

ছেঁড়া ফতুয়া গলায় পেঁচিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন বিপ্লবী ইন্দুভূষণ রায়। বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত ১৪ বছর বন্দিজীবন কাটিয়েছেন সেলুলার জেলে। অত্যাচরে জর্জরিত বিপ্লবী আক্রান্ত হয়েছিলেন ম্যালেরিয়ায়। শেষে তাঁর জায়গা হয়েছিল কারাগারের লুনাটিক ওয়ার্ডে। অবশেষে ১৯২০ সালে মুক্তি লাভের পরে তিনি ফিরে এসেছিলেন কলকাতায়।

বন্দিদের ওপর ব্রিটিশ সরকারের নির্মম অত্যাচারের প্রতিবাদে ১৯৩৩ সালে অনশনে বসেছিলেন ৩৩ জন বন্দি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহাবীর সিংহ, মোহনকিশোর নমদাস এবং মোহিত মৈত্র। ব্রিটিশ সরকার তাঁদের জোর করে খাওয়ানোর সময় তাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৪১ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অধিকার করে জাপানি শক্তি। পোর্ট ব্লেয়ারে পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপের নতুন নামকরণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ‘শহিদ’ ও ‘স্বরাজ’ দ্বীপ। তবে অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পতনের সঙ্গে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপের কর্তৃত্ব আবার চলে যায় ব্রিটিশদের হাতে।

বর্তমানে সেলুলার জেল ভারতের অন্যতম জাতীয় স্মারকসৌধ। পোর্ট ব্লেয়ারে পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য। ১৯৬৩ সালে কারাগারে তৈরি হয় গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাসপাতাল। বর্তমানে এটি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল। 

ক্যাসিনো অভিযানে আটক সবাই বিএনপি-জামায়াতের: এইচটি ইমাম এবার গুলশানের ৩টি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান প্রিয়াঙ্কার এই বক্স ব্যাগের দাম কত জানেন? ৩ ভিসির কুশপুত্তলিকা দাহ ভিসি নাসিরের পরিকল্পনাতেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা সৌদি যুবরাজের বিশেষ উড়োজাহাজে ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা মিশরে সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে, পুলিশের টিয়ার গ্যাস হামলা নিজেদের বানানো ভয়ংকর ট্যাংক প্রদর্শন করলো ইরান চাঁদাবাজির অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী বহিষ্কার পৃথিবীতে সব চেয়ে সুখী মানুষ মুসলিমরা বিএনপির ‘টপ টু বটম’ সবার পদত্যাগ করা উচিত: কাদের বিয়ে করে বরকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন কনে ফাইনালে বাংলাদেশ স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন নেই তোর আব্বারে ভিসি বানিয়ে দেই: শিক্ষার্থীদের প্রতি ভিসি দুই মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন তামিম দুর্নীতির বিরোধী অভিযানে দল-মত দেখা হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী ঢাবি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নবীনবরণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার জোরালোভাবে কাজ করছে: কাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম নিরাপত্তা চেয়ে সিলেটের ৫৬ সাংবাদিকের জিডি পুঁজিবাজারে তারল্য কাটাতে অর্থ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ক্লাবে চলমান অভিযানে ক্ষুব্ধ হুইপ শামশুল মতিঝিলের চার ক্লাবে ক্যাসিনো, জুয়ার আখড়া, মদ-সিসা ‘১০ কোটি টাকা দিচ্ছি আমাকে ছেড়ে দিন’ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল দেশটা জুয়াড়িদের হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল ক্যান্সারে ভুগছেন এন্ড্রু কিশোর উপনির্বাচন পেছানোর দাবিতে রংপুরে অনশন যুক্তরাষ্ট্রে স্পোর্টস বারে বন্ধুক হামলা, নিহত ২ নির্দেশনা মেনে ফেসবুক ব্যবহার করতে হবে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের