artk
মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ ১০:৩৮

সন্তান লালনপালনে মা-বাবার করণীয় বিষয়ক পরামর্শ

মোল্লা মো. রাশিদুল হক
media
বাসায় বাচ্চাকে একা রেখে ১ মিনিটের জন্যেও কোথায় যাবেন না। একান্ত যেতে হলে, সাথে করে নিয়ে যান।

বাংলাদেশে সম্প্রতি যেসব ভয়াভহ ধর্ষণ ও খুনের কাহিনি শুনছি তাতে শুধু আমি কেন, পুরো জাতি রীতিমতো উদ্বিগ্ন। দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, শোক ও নিন্দা জ্ঞাপন তো করা যায়ই কিন্তু এ থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। Prevention is better than cure (নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ বা সতর্কতা ভালো)। তাই আমি মনে করি যদি আমরা কিছু নিয়ম মেনে চলি তাহলে হয়তো এই ধরনের ক্ষতি খুব কম হবে ইনশাল্লাহ।

(১) উন্নত দেশের মতো (যেমন অস্ট্রেলিয়া) কখনও আপনার বাচ্চাকে (ছেলে হোক, মেয়ে হোক, একই নিয়ম) (অন্তত পক্ষে ০-১৬ বছর পর্যন্ত) একা কোথাও ছাড়বেন না, যেতে দেবেন না বা পাঠাবেন না। বিশেষ করে বাজারে বা দোকানে বা স্থানীয় খেলার মাঠে। যদি একান্ত যেতেই হয়, আপনিও সাথে যান।

(২) স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় নিজে দিয়ে আসবেন ও নিয়ে আসবেন (স্বামী -স্ত্রী কাজ ভাগ করে নেন)। মনে রাখবেন দুনিয়ার কিছুই আপনার বাচ্চার চেয়ে বেশি মূল্যবান না। স্কুলের নির্ধারিত সময়ের বাইরে স্কুলে যেন কখনও আপনার বাচ্চা একা কারও সাথে না থাকে। একান্ত প্রয়োজন হলে আপনি থাকুন তার সাথে।

(৩) বাসার কাজের লোক বা টিউটরকে চোখে চোখে রাখুন ও তাদের ব্যবহার লক্ষ্য করুন। শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে অনেক সময় বাচ্চাকে বলা হয়, এটাই নরমাল, কাউকে বলো না। তাই, বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করুন কেউ তার সাথে এবনরমাল ব্যবহার করেছে কিনা (কোথাও ছুয়েছে কিনা বা কিছু করেছে কিনা)। জানতে পারলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিন।

(৪) বাসায় বাচ্চাকে একা রেখে ১ মিনিটের জন্যেও কোথায় যাবেন না। একান্ত যেতে হলে, সাথে করে নিয়ে যান। ১ মিনিটেই অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে (যেমন- কিডন্যাপ হয়ে যেতে পারে, অন্য কোথাও নিয়ে ধর্ষণ করতে পারে ইত্যাদি)।

(৫) কারও (সে যেই হোক-আত্মীয় বা প্রতিবেশী) বাসায় খেলতে বা রাতে থাকতে পাঠাবেন না। যদি একান্ত পাঠাতেই হয় তবে আপনি সাথে যান। যেটুকু সময় সে খেলবে, আপনি লাউঞ্জে বসে অপেক্ষা করুন। রাতে থাকলে আপনিও থাকুন। এমনকি নিজের কাছের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকেও সতর্ক থাকতে হবে।

(৬) অন্য যে কারও থেকে আপনার বাচ্চাকে বেশি বিশ্বাস করতে শিখুন। বাচ্চা যদি বলে কেউ তাকে ব্যথা দিয়েছে তবে তা সিরিয়াসলি নিন। আপনার বাচ্চার ওপর আপনি আপনার আত্মীয়, তার শিক্ষক বা মাদ্রাসার হুজুরকে বেশি বিশ্বাস করবেন না (তার শিক্ষার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি)। বেশিরভাগ শারীরিক লাঞ্চনা অত্যন্ত নিকট আত্মীয়দের দ্বারাই সংগঠিত হয়। সেরকম কিছু চোখে পড়লে সাথে সাথে তাকে এক্সপোজ করুন (সোসাল মিডিয়া, মিডিয়া বা পুলিশে জানান)। না হলে সে অন্যদের সাথেও এই কাজ করতে থাকবে।

(৭) আপনার বাচ্চার সাথে (তার বয়স অনুযায়ী) গ্রহণযোগ্য ব্যবহার নিয়ে কথা বলুন। তাকে শিখিয়ে দিতে হবে যে শরীরের কোন অংশেই অন্য কারও স্পর্শ গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন অনেকে খেলার ছলে শুধু গালে নয়, শরীরের অন্য জায়গায়ও চুমু খায় -এগুলা ঠিক নয়।  এরকম হলে যেন সে আপনাকে জানায়। তাকে বলতে হবে যে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সে তো কোন অপরাধ করেনি। আপনি যদি একবার অযথা আপনার বাচ্চাকে দোষী করেন- যে এগুলা হয়ই, উনি তোমার আঙ্কেল, ইত্যাদি-আপনার বাচ্চা হয়তো জীবনে আর কখনোই আপনাকে কিছু বলবে না।

(৮) আপনার বাচ্চাকে শিখিয়ে দিতে হবে যে কেউ যদি শারীরিকভাবে এসল্ট করে তাকে হুমকি দেয় (এই ঘটনা কাউকে বললে তোমার বাবা-মা’কে মেরে ফেলবো, তোমাকে মেরে ফেলবো বা কুরআন ধরে বলো কাউকে বলবে না, না বললে চকোলেট দিবো ইত্যাদি) তবুও যেন কিছুই আপনার কাছ থেকে না লুকায়।

(৯) আপনার বাচ্চাকে আপনার অনুপস্থিতিতে অন্যদের কাছ থেকে চকোলেট, টাকা, আইসক্রিম ইত্যাদি না নিতে উৎসাহিত করুন। তাহলে সে অন্যদের ট্র্যাপ থেকে বেঁচে যাবে। বেশিরভাল পেডোফাইলরা এগুলার মাধ্যমে বাচ্চাদের কাছে এক্সেস পায়।

(১০) বয়স অনুযায়ী আপনার বাচ্চাকে সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে-তাকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে (যেমন- তার শরীর কোন লজ্জার বিষয় নয়, বয়োঃসন্ধিকাল একটা নরমাল বিষয় ইত্যাদি)। তাকে কনফিডেন্স দিতে হবে। তাছাড়া অনেক সময় বাবা-মার ঝগড়ার কারণে অনেক সময় বাচ্চারা ডিপ্রেশনে থাকে। অনেক সময় প্রিডেটররা বাচ্চাদের ডিপ্রেশনের সুযোগ নেয়। ভালো কথায় প্রলোভনে তারা ফেঁসে যায়। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের সামনে ঝগড়া না করাই শ্রেয়। হয়ে গেলেও পরে বাচ্চাকে সব বুঝিয়ে বলতে হবে।

(১১) সবারই আত্মরক্ষা বিষয়ে জ্ঞান থাকা উচিত। পারলে আপনার বাচ্চাকে আত্মরক্ষা কৌশল শিক্ষা দিন। (যেমন-প্রতি সপ্তাহে মার্শাল আর্টস বা শুধু বাৎসরিক আত্মরক্ষা ট্রেনিং)। একান্ত না পারলে ইউটিউব ভিডিও দেখে শিখে নিতে পারে। আপনি তাকে সাহায্য করুন।

(১২) আপনার বাচ্চা কাদের সাথে মিশছে তা লক্ষ্য রাখুন। সে যেন ড্রাগ এডিক্টেড কারও সাথে না মিশে। তাকে ড্রাগের ভয়াবহতা নিয়ে (বয়স অনুযায়ী) তথ্য দিন। টাকা পয়সা দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। অন্যথায় একবার হয়ে গেলে ফিরিয়ে আনা মুশকিল।

(১৩) আপনার বাচ্চার অনলাইন এক্টিভিটি লক্ষ্য রাখুন। কোনভাবেই যেন সে অনলাইনে বেশি সময় না কাটায়। ১৩ বছরের নীচে বাচ্চাদের মোবাইল ফোন থাকা উচিত না। বাসার কম্পিউটারেও ‘পেরেন্টাল’ অপশন বেছে নিয়ে তার অনলাইন এক্টিভিটি রেস্ট্রিক্ট করে দিন। অনলাইনে যেন সে পর্ণ এডিক্ট না হয়ে যায় বা কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ঘর ছেড়ে না পালায় বা ডেটিং এ না যায়।

(১৪) আপনার বাচ্চাকে মারধর করা থেকে বিরত থাকুন। কোন ভুল করলে বোঝান বা অন্য কোন পদক্ষেপ নিন (যেমন- এক সপ্তাহের জন্যে পকেট মানি বন্ধ, গ্রাউন্ডেড (বাইরে যেতে পারবে না), বা তার প্রিয় জিনিষ না দেয়া-একান্ত ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে নটি কর্নার (দুস্ট কর্নার) এলোকেট করে তাকে সেখানে বসিয়ে রাখুন-তার সাথে কথাবার্তা বন্ধ। শাস্তি শেষে তার সাথে আবার ভালো ব্যবহার করুন। দেখবেন সে বুঝে যাবে কোনটা আপনারা পছন্দ করছেন, কোনটা করছেন না।

(১৫) আপনার বাচ্চাকে কল্যাণকর কিছুতে ইনভল্ভ করে দিন যেমন- খেলাধুলা, সমাজসেবা (এতিমখানা, পথশিশু, ভলান্টিয়ারিং, ইত্যাদি) বা ক্রিয়েটিভ কিছু (আঁকাআকি, লেখালেখি, কোডিং, বিতর্ক, কবিতা আবৃত্তি, ইত্যাদি)। ভালো মনে করলে, অনলাইনে কুরআন শিক্ষা বা ধর্মীয় শিক্ষা নিতে পারে। এতে করে সে অকল্যাণকর জিনিস থেকে দূরে থাকবে।

(১৬) ছোটবেলা থেকেই আপনার বাচ্চাকে ক্যারিয়ারিস্টিক হতে শেখান। পড়াশোনায় ভালো করলে পুরস্কৃত করুন। আপনার কথা শুনলে পুরস্কৃত করুন। ভালো বন্ধু বা বাচ্চাদের সংস্পর্শে রাখুন। দেখবেন বাচ্চা খুব ভালো হয়ে বড় হচ্ছে। 

(১৭) ইন্টারনেটের কল্যাণে ওয়েস্টার্ন মিডিয়া বা ভারতীয় মিডিয়ার (এমনকি এখন বাংলাদেশের মিডিয়া) কারণে অনেক বাচ্চাই মনে করতে পারে উচ্ছৃঙ্খলতা নরমাল, উগ্র পোশাক নরমাল, মদ খাওয়া, গাঁজা খাওয়া নরমাল, ডেটিং বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নরমাল, ইত্যাদি। তাদের বোঝান যে এসব ধার্মিকদের ক্ষেত্রে মোটেই নরমাল নয়। তাদের ধর্মীয় শিক্ষা দিন বা স্বশিক্ষিত করে গড়ে তুলুন, ইনশাল্লাহ তারা সব ধরনের বাজে কাজ থেকে দূরে থাকবে।

সবচেয়ে বড় কথা আপনার বাচ্চাকে ভালোবাসুন, তাকে সময় দিন ও তাকে জানান যে আপনি তাকে ভালোবাসেন। ভালোবাসা প্রকাশ করাও অত্যন্ত জরুরি! তার সাথে বন্ধুত্ব করুন যাতে সে তার জীবনের সমস্ত ঘটনা আপনার সাথে শেয়ার করে। তার জীবনের সমস্ত ছোট-বড় ঘটনায় আপনি শামিল হোন। তবে অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

লেখক: রিসার্চ ফেলো, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫লাখ টাকা শিক্ষাবৃত্তি দিবে এডুহাইভ মিষ্টি জাতীয় খাবার দাঁত ক্ষয় বাড়ায় খোলামেলা পোষাকে প্রিয়াঙ্কা সমালোচনায় নেটিজেনরা করোনা আতঙ্ক: হিলি ও বিরল স্থলবন্দরে মেডিকেল টিম গঠন ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা ঢাকায় জ্বরে আক্রান্ত চীনা নাগরিক হাসপাতালে করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্কুলের কথা বলে বের হওয়া ৩ ছাত্রী ধর্ষণ, গ্রেফতার ২ এবার নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তাব পাস এ কে আজাদের সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক ঢাকা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা মুন্সিগঞ্জে ‘রহস্যময় জ্বরে’ চাচি ও ভাতিজার ২ জনের মৃত্যু মুশফিক নর্থ জোনে, ইস্টে তামিম লোভ মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে: দুদক কমিশনার সিটি নির্বাচন: নিশ্চিত জয়ের লোভে পাঁচ লাখ টাকা হারালেন প্রার্থী সূচকে পতন লেনদেন মন্দা করোনা আতঙ্ক: ইমিগ্রেশন থেকে বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো ভারত সারাদেশ মাদক ও ইয়াবায় সয়লাব হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি তাবিথের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা রিট খারিজ লক্ষ্মীপুর ও বগুড়ায় হচ্ছে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শুন্য হাতে রাতেই দেশে ফিরছে টাইগাররা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নতুন ভ্যাকসিন বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-পাকিস্তান তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ৯৯৯ এ কল দিয়ে ধর্ষণ থেকে রক্ষা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চীন যাচ্ছেন ডব্লিউএইচও প্রধান নিবন্ধনের আওতায় ডে কেয়ার সেন্টার করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন যেভাবে আফগানিস্তানে ৮৩ যাত্রী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত মোস্তাফিজকে বোলিং নিয়ে পরামর্শ দিলেন ওয়াসিম আকরাম বেরোবির শহীদ মুক্তার হলের সহকারী প্রভোস্ট সারোয়ার