artk
শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০, ২০১৯ ১১:৫৫   |  ৫,আশ্বিন ১৪২৬

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯ ১:০৭

তাপদাহে বেড়েছে তালপাখার কদর

media

বৈশাখের প্রথম থেকে গ্রীষ্মের তাপদাহ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন। এসময়ে আকাশে মেঘের ঘনঘটা বাড়ায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিও হচ্ছে অহরহ। ঝড়-বৃষ্টির ফলে কোথাও কোথাও বিদুতের তারে গাছ-পালা ভেঙে পড়ায় সাময়িকভাবে বিদুৎ সংযোগ বন্ধ থাকছে। তাছাড়া রাস্তা ঘাটে বাস-ট্রেনে তো আর সব সময় ফ্যানের ব্যবস্থাও নেই। থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ গরমে নিম্নবিত্ত ও পথচারী মানুষের একমাত্র ভরসা তালপাতার পাখা। কোথাও কোথাও লোডশেডিংয়ের ফলে গরম নিবারণে ধনীর দুলালীদের তালপাতার পাখার হাওয়া খেতে দেখা যায়। গ্রাম কি শহরে সর্বত্রই বেড়ে গেছে তালপাতার পাখার ব্যবহার। 

যশোরের বিভিন্ন অঞ্চলে কারিগররা তীব্র গরমে মানুষকে একটু শান্তির পরশ দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন হাতপাখা বা তালপাখা। পূর্ব পুরুষের ব্যবসা করে এখনো সংসার চালাচ্ছেন এ অঞ্চলের প্রায় কয়েকশ ঋষি পরিবার। গরম শুরুর সাথে সাথে কারিগরদের কাজ বেড়ে গেছে। তালপাখা এবং ঝুড়ি ও বেতের কাজ করাই তাদের একমাত্র পেশা।

যশোরের আটটি উপজেলায় তিন শতাধিক কারিগর এ তালপাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। স্থানগুলোর মধ্যে শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বসুন্দিায়, হৈবতপুর, ঘুনিরঘাটবাগডাঙ্গার, ঋষিপল্লী, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কারিগররা এ পাখা তৈরিতে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে। আর এসব পাখা ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে জেলায় কয়েক হাজার ছোট ছোট মৌসুমী ব্যবসায়।

শার্শার পাখা তৈরির কারিগর মিতা রানী সরকার জানান, তালপাতার পাখাতো আর সারা বছর চলে না। মাত্র এক থেকে দুমাস এ পাখা তৈরির কাজ চলে। যে কারণে বৈশাখের আগ থেকেই আমাদের প্রস্তুতি চলে। আর বৈশাখ আসলেই আমাদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এত ব্যস্ত থাকা হয় নিজের শরীর দিয়ে ঘাম ঝরে পড়লেও নিজের তৈরি পাখা দিয়ে বাতাস খাবেন এমন সময়টুকু থাকে না। পাকা তৈরিতে এক একজন এক এক কাজ করেন। কেউ বা পাতা কেটে সাইজ করছেন, কেউ সেলাই করছেন আবার কেউ বা পাখা তৈরি করছেন। আবার কেউ তৈরি হওয়া পাখাগুলো বিক্রির জন্য বোঝা বাঁধছেন। কেউবা সেগুলো বিক্রি করার জন্য হাটে নিচ্ছেন। এভাবেই চলছে পাখা কারিগরদের সময়। তবে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে বলে তিনি জানান।

পাখা তৈরির আরেক করিগর অমেলেন্দু জানান, পাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তালপাতা। এগুলো অধিকাংশ সংগ্রহ করা হয় শীতকালে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব পাতা সংগ্রহ করা হয়। তারপর তালপাতাগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পাতা ভিজে নরম হয়ে গেলে পানি থেকে উঠিয়ে তা কেটে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা পাতায় দুটো পাখা হয়। এই পাতা পুনরায় বেঁধে রাখা হয়। এভাবে রাখার পর গরমের মৌসুম আসার সাথে সাথে সেগুলো আবার পানিতে ভিজতে দেয়া হয়। পানিতে দেবার পর পাতা নরম হয়ে গেলে শুরু হয় মূল পাখা তৈরির কাজ। সাধারণত পরিবারের বড়রা পানিতে ভিজে নরম হয়ে যাওয়া পাতা ছাড়িয়ে পাখা আকৃতির করে চারিদিক কেটে সমান করে থাকে। আর বাড়ির মেয়েরা সেগুলো বাঁশের শলা দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরিবারের ছোট সদস্যরা এগুলো সুচ আর সুতা দিয়ে সেলাই করে থাকে

এভাবে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠে একটি তালপাখা। বাড়ির ছেলে-মেয়ে, শিশু ও গৃহবধূরা সবাই মিলে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১/২টা পর্যন্ত পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন।

বেনাপোল রেল রোডে পাকা ব্যবসায়ী রঘুনাথ দাসের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৈশাখের প্রথম থেকে তাপদাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তালপাতার পাকার কদর অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক পাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি পাকা ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। 

তবে তিনি জানান, এক সময়ে গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট তালগাছ জন্মাতো। এসব ছোট তালগাছের পাতা কেটেই মূলত পাখা তৈরি করা হয়। কিন্তু এখন তালের পাতা পাওয়া যায় না। যদিও পাওয়া যায় তাও আবার এসব পাতা গাছের মালিকের কাছ থেকে কিনে নিয়ে আসতে হয়। যে কারণে তুলনামূলকভাবে পাখার দাম বেশি। 

পাখা ব্যবসায়ী পলাশ বলেন, গরম পড়লেই পাখার কদর বেড়ে যায়। এক থেকে দুই মাস এ ব্যবসা হবে। পাখার চাহিদা থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় পাইকারদের কাছ থেকে পাখা ক্রয় করা যাচ্ছে না। তাছাড়া বর্তমানে তালগাছের আকাল রয়েছে। এ কারণেও চাহিদার তুলনায় সরবারহ কম।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক উত্তম কুমার সরকার বলেন, “গ্রাম-বাংলার মানুষের হাতে তৈরি তালপাখা এদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এ কুটির শিল্প। এমনকি এ শিল্পীদের তৈরি পাখা বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী এ শিল্পকে আরো বিকাশিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা চালু করেছেন। কেউ যদি এগুলো বাণিজ্যিকভাবে করতে চায়, তাহলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এশিল্পকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”

বিএনপি ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছিল: কাদের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বাংলাদেশিকে পিটিয়ে মারলো বিএসএফ রাজশাহীর বড়াল নদী থেকে নারীসহ ৪ লাশ উদ্ধার বাংলা ভালো থাকলে গোটা ভারত ভালো থাকবে, এনআরসি প্রসঙ্গে মমতা বাবা হয়েছেন ভিপি নুর নিজ অঞ্চল থেকে ৭শ কিলোমিটার দূরের কারাগারে রাখা হয়েছে কাশ্মীরি বন্দিদের ওয়াশিংটনে বন্দুক হামলায় নিহত ১ ‘গরিবের ছেলের এমন অসুখ হলে বাঁচবে কীভাবে’ ডিজিটাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় পর্যায় কক্সবাজারে সিএনজি-লেগুনা সংঘর্ষে মা-ছেলে নিহত কক্সবাজারে ব্র্যাক কর্মী খুন খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে গৃহবধূর মৃত্যু গোপন কুঠুরিতে ৩৩ লাখ টাকা রেখে মারা গেছেন বিআরটিএর কর্মকর্তা বিপর্যয়ের মুখে জাতিসংঘ সফর বাতিল করেছেন নেতানিয়াহু ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি: প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা চাইলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের কাছে দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরলো বিএনপি শিশুটির প্রতি মাদকাসক্ত বাবার নৃশংসতা প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির অভিনন্দন জানানো উচিত: তথ্যমন্ত্রী ক্যাসিনো: এবার সুর নরম করলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান চাঁদা না পেয়ে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিলো ছাত্রলীগ! যুবলীগ নেতা খালেদ অস্ত্র ও মাদক মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে মোদির স্ত্রীর দেখা, শাড়ি উপহার দিলেন মমতা মিথ্যা কথা বলে চীন থেকে ক্যাসিনো মেশিন আমদানি ধৃষ্টতা দেখালে পিঠের চামড়া থাকবে না: ছাত্রলীগ সভাপতি অপরাধী ধরতে প্রযুক্তির অভাব দুদকে যুবকের দুই হাতের কবজি কেটে নিল চেয়ারম্যানের ক্যাডাররা দুদক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র ‘বাংলাদেশে সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স জনপ্রিয় হচ্ছে’