artk
মঙ্গলবার, অক্টোবার ২২, ২০১৯ ১০:৪৩   |  ৭,কার্তিক ১৪২৬
রোববার, এপ্রিল ৭, ২০১৯ ৫:৫১

বৈশাখি হাতি-ঘোড়া নিয়ে ব্যস্ত সাটু‌রিয়ার বণিকরা

মো. সো‌হেল রানা খান, মা‌নিকগঞ্জ
media

চিনি দিয়ে তৈরি করে মুকুট, হাতি, ঘোড়া, মাছ, নৌকা, পাখি ও লিচুসহ বিভিন্ন সাজ। কাঠের ফ্রে‌মে চিনি জাল করে ঢেলে দিয়ে ৫ মিনিট পর তৈরি হচ্ছে এসব সাজ। বাপ দাদার পূর্বের কাজ এখনও ধরে রেখেছে সে। এ পেশা ছাড়া অন্য কোন পেশা নেই তার। পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে এ সাজের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে সে।

আর কয়েকদিন পরেই পহেলা বৈশাখ। বাংলা বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন। বাঙ্গা‌লির প্রা‌ণের উৎসব পহেলা বৈশাখ মা‌নেই গ্রা‌মে গ্রা‌মে মেলা। পহেলা বৈশাখের মেলায় বিক্রির জন্য হাতি, ঘোড়া, মুকুট, নৌকা, পাখির সাজ তৈরি‌তে মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটু‌রিয়ার বণিক পরিবারের সদস্যরা এখন অনেক ব্যস্ত। তাদের তৈরি সাজ ( সাচে ফেলে চিনি দিয়ে তৈরি খাবার) আসছে পহেলা বৈশাখের মেলায় বিক্রি হবে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাটারা গ্রামের কয়েকটি পরিবার সাজ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। পরিবারগুলো বাপ দাদার পেশা হিসেবে এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে। প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে তারা। বিশেষ করে বৈশাখী মেলায় তাদের কদর বেশি হয়। বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে ফরমায়েশ (অগ্রিম অর্ডার) দেন হাতি, ঘোড়া, মুকুট, নৌকা, পাখিসহ বাহারি রঙের সাজের। ব‌নিক প‌রিবা‌রের ব্যস্ত সময় পার করছে সাঁজ শিল্পীরা।

সরেজমিন ‌গি‌য়ে দেখা যায়, উপ‌জেলার ভাটারা গ্রামের যে কয়টি বণিক পরিবার রয়েছে তারা সবাই ব্যস্ত সাজ তৈরি করতে। পহেলা বৈশাখের কাজ নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছে বনিক পরিবারগুলোর ছোট বড় সবাই। সকালের সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের সাজ তৈরি এবং তা প্রক্রিয়া করার কাজ। গুড় ও চিনি পানিতে মিশিয়ে জাল করে রস বানিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু নানা রকমের সাজ। কেউ তৈরি করছেন গুড়ের তৈরি বাতাসা আবার কেউ তৈরি করছেন চিনির সাদা হাতি, ঘোড়া, মুকুট, নৌকা, পাখি, কদমা, মাছসহ নানা ধরনের সাজ। কে কার থেকে বেশি সাজ তৈরি করতে পারে এ নিয়ে চলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। এ সাজ তৈ‌রির খেলা চলে মধ্যরাত পযর্ন্ত। 

বাবা মাকে সাহায্য করতে ঘরের শিশুরাও পিছিয়ে নেই। মা বাবার কাজ দেখে শিখেছে কিভাবে সাজ তৈরি করতে হয়। কিন্তু বাবা মা চান না ছেলে মেয়েরা এ পেশায় আসুক। তাদের চাওয়া সন্তানরা লেখাপড়া করুক। গুড় দিয়ে তৈরি করছে লাল রঙের বড় বাতাসা ও চিনি দিয়ে তৈরি করছে সাদা বাতাসা। এ ছাড়া কাঠের ফর্মার চিনির রস তৈর করে তা দিয়ে তৈরি করছেন হাতি, ঘোড়া, মুকুট, নৌকা, পাখি, কদমা, মাছসহ নানা ধরনের সাজ। এসব সাজ তৈরি হয় গুড় ও চিনি দিয়ে। বৈশাখে এলাকার বিভিন্ন মেলায় যা বিক্রি হবে। এ সব সাজ বিন্নির সঙ্গে বিক্রি করা হয়। মেলায় শুধু শিশুদের নয় বড়দের ও মন আকৃষ্ট করে ভাটারার বনিকদের তৈরি করা এসব সাজ। আর বৈশাখি মেলায় গিয়ে বিন্নির সঙ্গে সাজ না কিনলে মেলাই করা হয় না গ্রামের মানুষের।

ভাটারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ননী গোপাল বনিক গুড়ের বাতাসা তৈরি করছেন। সঙ্গে যোগান দিচ্ছেন স্ত্রী আলো রাণী বনিক। চুলার মধ্যে আখের গুড় জাল করে একটি ছিদ্র পাত্র দিয়ে ঢেলে বড় বড় বাতাসা সাজ তৈরি করছে। এ বাতাসা বিন্নি দিয়ে খেতে খুবই মজার। প্রায় ৭০ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত সে। ননী বনিক আরও জানায়, খাটি আখের গুড় ছাড়া এ সাঁজ বানানো যায় না। রাজশাহী থেকে ১ মণ খাটি গুড় কিনতে ২ হাজার ৭শ টাকা লাগে। আর একমণ গুড় দিয়ে ৩৫ থেকে ৩৬ কেজি বাতাসা তৈরি হয়। তবে এলাকার হাট বাজারে ‌বি‌ক্রি হওয়া আখের গুড়ে চিনি মেশানো থাকায় এ গুড় দিয়ে সাঁজ তৈরি করা যায় না।

ভাটারার বাসুদেব বনিক সে চিনি দিয়ে তৈরি করে মুকুট, হাতি, ঘোড়া, মাছ, নৌকা, পাখি ও লিচুসহ বিভিন্ন সাজ। কাঠের ফ্রে‌মে চিনি জাল করে ঢেলে দিয়ে ৫ মিনিট পর তৈরি হচ্ছে এসব সাজ। বাপ দাদার পূর্বের কাজ এখনও ধরে রেখেছে সে। এ পেশা ছাড়া অন্য কোন পেশা নেই তার। পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে এ সাজের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে সে।

ভাটারার শ্যামল বণিক জানায়, স্বাধীনতার আগে ও পরে এই ভাটারা গ্রামে প্রায় ৮০০ বনিক পরিবার ছিল। বেশির ভাগ বনিক ভারতে চলে যাওয়ায় এখন মাত্র ১০ ব‌নিক পরিবার সাজের পেশা ধরে রেখেছে। বৈশাখ আর শীতের সময় বেশি চাহিদা থাকে সাজের। কারণ ওই সময় মেলা ও ওরস বেশি থাকে। প্রতিদিন সব মিলিয়ে ৪ থেকে ৫ মণ সাজ তৈরি করা যায়। 

মানিকগঞ্জ ছাড়াও এ সাজ টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, মির্জাপুর, নাগরপুর ও উত্তরাঞ্চলে পাইকারি বিক্রি করা হয়। এক মণ (৪০ কেজি) এই সাজ তৈরি করতে খরচ হয় দুই হাজার ৮০০ টাকা। বিক্রি করা হয় তিন হাজার ২০০ টাকা।

ভাটারা গ্রা‌মের তপন বনিক, দেবেশ বনিক, নীলকান্তি বনিক, গোবিন্দ বনিক ও কমল বনিক জানায়, সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে তাদের এ সাজ দেশের বাইরে রপ্তানি করা যেতে পারে। গ্যাসের ব্যবস্থা থাকলে এ সাজ তৈরি করতে খরচ কম হতো। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা নিয়ে এ সাজে তৈ‌রির ব্যবসা করে থাকে। এ ছাড়া সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা বা ব্যাংক থেকে সুদ মুক্ত ঋণ পেলে এ পেশাকে ধরে রাখা সম্ভব হতো তা‌দের জন্য। তাদের অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়।

সাটুরিয়ার বণিক পরিবারের দাবি, তাদের যদি গ্যাস সরবারহ ও সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হতো, তাহলে তাদের জীবনের মান উন্নয়নে আরও সুবিধা হতো।

রণবীর-আলিয়ার বিয়ের কার্ড নিয়ে হুলস্থুল! ছাত্রী হোস্টেলে ছাত্রলীগ নেতাদের যাতায়াত, লাঞ্ছিত ছাত্রীরা বাংলাদেশে ঢুকে মাছ ধরায় ১৪ ভারতীয় জেলে আটক ভোলার সেই বিপ্লবের ভগ্নিপতিকে তুলে নেয়ার অভিযোগ পদত্যাগ করবেন না দুর্জয়-সুজন জাপান সম্রাটের অভিষেকে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশকেও নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল আইসিসি: পাপন আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিকার সমর্থন পাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সীতাকুণ্ডে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এসআই আটক ১৪ দলের বৈঠকে যাননি মেনন ঘুষ নেয়ার সময় রাজস্ব কর্মকর্তা গ্রেফতার ‘ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ’ ‘ষড়যন্ত্রকারী’দের খুঁজে বের করার সময় চান পাপন ক্রিকেটারদের ১১ দাবি নিয়ে মাশরাফি যা বললেন আবারও ১৪ ভারতীয় জেলে আটক কানাডায় আবারো প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে জাস্টিন ট্রুডো ৮১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ঢাকায় নদীর তীরে ফ্ল্যাট কিনতে সাবধান ক্রিকেটাররা খেললে খেলবে, না খেললে নাই: পাপন দুদকের কেউ কাউকে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ইকবাল মাহমুদ নতুন এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৬২৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক বাবাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ৯৯৯–এ ফোন! ইসরাইলে সরকার গঠনে ব্যর্থ নেতানিয়াহু ভোলার ঘটনায় উস্কানিমূলক পোস্ট, কুমিল্লায় আটক ২ সবাই জেনেশুনে অংশ নিয়েছে বলে মনে হয় না: পাপন ২০২০ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডফোন সংযোগ ফ্রি: মোস্তাফা জব্বার পদ্মা সেতুতে বসলো ১৫তম স্প্যান দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে শিক্ষকরা আবারো বাড়তে পারে পেঁয়াজের দাম ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ষড়যন্ত্রের অংশ: বিসিবি সভাপতি