artk
শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০১৫ ২:৪২
বাংলাদেশ প্যারাডক্স

গোলমেলে ডাটার বুজরকি

media

দারিদ্র্যকে রাজনীতিকীকরণের এই সমস্যা। আপনি যখন দারিদ্র্যকে রাজনীতিকীকরণ করে ফেললেন তখন সেই দারিদ্র্যের‍ ডাটাও, বাংলাদেশের কোনো শেষ কথা নাই, রাজনীতির মতো, কোন শেষ ছাড়া বিকৃত হয়েছে। বাংলাদেশের দারিদ্রের হার অবশ্যই কমেছে, এইটা নিয়ে ডিবেটের কিছু নাই। কিন্তু, বিগত তিন চার বছরে বাংলাদেশ সরকার, আগের বছর গুলোর ধারা ভেঙ্গে একটা অস্বাভাবিক প্রগতির কথা বলছে, যেই খানে অর্থনীতি একটা স্থবিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তখন, সৃষ্টি হয়েছে একটা বিসাদৃশ্য, ডাটার সাথে চাক্ষুষের। সেই বিসাদৃশ্যের নাম দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্যারাডক্স।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণকে আলোচনা আমরা করবো। মিথ্যা হচ্ছে এমন একটা জিনিষ। একটা মানুষের মধ্যে আপনি যদি অনেকগুলো মিথ্যা পান, তাহলে আপনি ধরে নিতে পারেন যে, সে বাকি যেগুলো বলছে তার মধ্যেও মিথ্যা আছে। এবং বেকারত্বের হারের জলজ্যান্ত মিথ্যাটা আমরা বার বার সামনে নিয়ে আসবো। যেখানে স্পেনে ২২.৭% বেকার সেই খানে,পোল্যানডে ১১% এর উপরে বেকার - সেই খানে বাংলাদেশের মত দেশ যেখান থেকে, সমুদ্র পারি দিয়ে মানুষ থাইল্যান্ডে স্লেভ লেবারি করতে পালায় সেই খানে কিভাবে ৫% বেকারত্বের হার হয়, যা জার্মানির সমান এবং ইংল্যান্ড থেকেও ভালো সেই প্রশ্ন এই ডাটার মালিকদেরকে জিজ্ঞেস করতেই হবে। ,


সম্প্রতি, সরকার ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয় এখন ১৩০০ ডলার পৌঁছেছে। ২০১৪ সালে ঘোষণা দিয়েছিল, পাড় ক্যাপিটা ১২০০ ডলারে। ২০১২ সালে সরকার ঘোষণা দিয়েছিলেন গড় আয় ১০০০ ডলারে এসে পৌঁছেছে।তার মানে সরকার এখন দাবী করছে, প্রতি বছর ১০০ ডলার করে, পার ক্যাপিটা আয় বাড়ছে। ২০২১ সালে, মধ্য ইঙ্কাম দেশে পৌঁছানোর এইটাই সরকারী সূত্র। এই হিসেবে, প্রতি বছরে ১০০ ডলার করে, আর দশ বছরে আমাদের আয় ২৪০০ ডলার হয়ে যাবে।

কিন্তু আমাদের প্রশ্ন রাখতে হবে, যেখানে স্বাধীনতার পরে, চল্লিশ বছরে আমাদের গড় আয় ৪০০ ডলার থেকে ১০০০ ডলার হয় সেখানে কীভাবে তিন বছরে আমাদের গড় আয় ১০০০ ডলার থেকে ৩০০ ডলার বেড়ে ১৩০০ ডলার হয়।

এটাকে আমরা ওভার এনালিসিস করব না। কিন্তু জাস্ট প্রশ্ন রাখব, বাংলাদেশের আয় ৪০ বছরে ৪০০ ডলার থেকে ১০০০ ডলারে এসে পৌঁছেছে। তার মানে, ৪০ বছরে প্রতি বছর ১৫ ডলার করে বেড়েছে। সেই পার ক্যাপিটা বর্তমান সরকারের যাদুর কাঠিতে তিন বছরে বেড়ে গেছে ৩০০ ডলার। মানে, প্রতি বছরে ১০০ ডলার করে বেড়েছে।
আমাদের সামনে কোন জাদুকরী উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে যার ফলে আপনি বলতে পারবেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, এখন বাকি বছর গুলো থেকে অনেক বেশী হচ্ছে ? আমরা আগের আলোচনায় দেখেছি, উন্নয়ন সব সময় ভিজিবল হয়। যেই উন্নয়ন দেখা যায়না, সেই উন্নয়ন কাগজে কলমে। ঢাকা শহরে, নব্বই বা একুশ শতকের শুরুতে নতুন টাউনশিপ, উত্তরা হলো, নিকেতন হল, মিরপুর হল তখন সেই উন্নয়ন আমরা দেখেছি। কিন্তু বিগত পাঁচ সাত বছরে কি সেই ভিজিবল উন্নয়ন চোখে পরে? আমরা কি দেখি আমাদের গ্রাম গুলোতে কৃষকের আয় বেড়েছে ? গ্রামের বাজারে হেঁটে গেলে কি দেখেন ?

পার ক্যাপিটা আয় ১০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০০ ডলার হওয়ার মানে হচ্ছে, প্রতিটা নাগরিকের আয়(এমনকি যারা উপার্জনে অক্ষম, অন্যদের উপরে নির্ভর) তাদেরও গড় আয় তিন বছরে, ২৪০০০ টাকা মানে মাসে প্রায় ৭০০ টাকা করে বেড়ে যাওয়া। এর মানে, পরিবার প্রতি আয় মাসে ২৮০০ টাকা করে বেড়ে যাওয়া ( মেডিয়ান পরিবারের সাইজ ৪ জন ধরে)। কারন, পার ক্যাপিটাতে যে উপার্জন করেনি, তার আয়ও বেড়েছে।এমনকি যেই ৬ কোটি মানুষ লেবারফরসের বাহিরে তার আয়ও বেড়েছে।

এইটা তিন বছরে একটা অস্বাভাবিক উল্লম্ফন যা বাস্তব অবস্থাকে সাপোর্ট করেনা। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, কৃষকেরা ধানের দাম পাচ্ছেনা। কন্সট্রাকশান সেক্টর ক্র্যাস করেছে, শেয়ার বাজার ক্র্যাস করেছে, ইয়াং গ্রাজুয়েটরা চাকুরি মার্কেটে তার চাহিদা মত চাকুরি পাচ্ছেনা। নব্বই দশকে এবং একাবিংস শতকের প্রথম দশকে, অনেক গুলো টেকটনিক সিফট হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে অনেক নতুন ইন্ডাস্ট্রি সার্ভিস হয়েছে, যেমন, টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি, ফাইনান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রি -যেই ধরনের নতুন ইন্ডাস্ট্রি এখন হচ্ছেনা। ফলে প্রতি বছর জব মার্কেটে আসা ৩০ লাখ নতুন কর্মীর জন্য পর্যাপ্ত জব নাই, বেকারত্ব বাড়ছে। এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনির অকারজকারতায়, রাজনৈতিক দুরব্রিত্তায়নে, রেড টেপে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছেনা। ফলে, এই অর্থনীতি ধুম করে, বিগত তিন বছরে ১০০ ডলার করে পার ক্যাপিটা আয় বাড়ার কোন সুযোগ নাই।

খেয়াল রাখবেন, আমাদের দেশে মাত্র, ৯০০০ ব্যক্তি আছে, যাদের একাউন্টে ২ কোটি টাকার উপরে আছে, এবং আমাদের সরকারী হিসেবে এখনো ৮০% মানুষ মানুষ ৫০০০ টাকার উপার্জন করে।
ফলে ইঙ্কাম ডিস্ট্রিবিউশানে হায়ার আরনিং গ্রুপের আয় বাড়লে কখনোই সেইটা এভারেজ করে, দরিদ্রদের জন্যে বাড়বে না। দরিদ্রদের আয় বাড়লেই বরং সেইটা এভারেজ কে বাড়াবে। তো পার ক্যাপিটা আয় বাড়া মানে, এই গ্রুপের আয় বেড়ে ৫০০০ থেকে ৬০০০ বা ৭০০০ হয়ে যাওয়া।

কারন গড় হলেও, এই উন্নতিতে হায়ার আরনিং গ্রুপ হিসেবে আপনার আয় বাড়ত আমার আয়, আর অনেক গুন বেশী বাড়তো বাড়তো ।এই ডাটা সঠিক হতে হলে, এই তিন বছরে মিডল ইঙ্কাম লোকদের আয়, মাসে, প্রায় ৮/১০ হাজার টাকা করে বাড়তে হবে।

এক দিকে, ধানের দাম কমেছে। গারমেন্টসের আয় বেড়েছে, কিন্তু, সেইটা মাত্র ৪০ লক্ষ স্রমিকের আয়। বিজনেস খারাপ বলে, বেশির ভাগ অফিসে, বিগত তিন চার বছরে লোক ছাটাই চলছে। বেতন বাড়ানো অনেক দুরের বিষয়। তাহলে কার আয় বাড়লো ?

যদি সত্যি আমাদের আয়, তিন বছরে ৩০০ ডলার বাড়তো সেইটার ইম্প্যাক্ট অবশ্যই পড়তো। কিন্তু আমরা দেখি, সরকারী দলের লুটেরারা বাদে খুব একটা সেক্টর দেখাতে পারবেন না, যেখানে ব্যবসায়ী বা কর্মচারীদে র আয় এই ভাবে বেড়েছে এবং বিশেষত বিগত তিন কয়েক বছরে, মানুষের মধ্যে এতটা খাবি খাওয়ার মত অবস্থা হচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ইনফ্ল্যাশানের কারণে আমাদের আয় এই সময়ে আরও কমেছে।

এই ধরনের দুই নাম্বারিকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ প্যারাডক্স।

সবার শেষে আমি বলবো, নিজেকে বিশ্বাস করুন। আপনার ,আপনার পরিচিত জনের, আপনার কাছের লোকদের, আপনার পরিচিত জনের কাজের লোকদের বেতন কি সবার এই তিন বছরে ৩০৳ আয় বেড়েছে ? যদি বেড়ে থাকে, তবে সরকারী ডাটা ঠিক আছে। যদি না বাড়ে, তাহলে প্রশ্ন করুন। আপনারটা বাড়ল না, আপনার পরিচিতদের বাড়লো না। তাহলে কারটা বাড়লো ?

পৃষ্ঠা ১০৪। বাংলাদেশ প্যারাডক্সের ফুটো বেলুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য। প্রথম আলোর রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আমার প্রথম স্ট্যাটাসটার কিছু জিনিষ টেকনিকালি ভুল ছিল বলে ডিলিট করেছি। আমার বন্ধুরা দেখিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক তিন বছরে এভারেজ করে। তাই, ২০১২ সালে ইঙ্কাম গ্রুপ আপডেট করে নাই। তবুও, স্ট্যাটাসটার মুল ম্যাসেজ ঠিকই থাকছে, কারন,সরকারের হিসেবে আমরা ২০১২ সালেই ১০৫০ ডলার পার ক্যাপিটা পার করেছি। এইটা নিয়ে এখন নতুন করে, উল্লসিত হওয়ার কিছু নাই। আমাদের মূল আপত্তি, এই ডাটার কারেক্টনেস নিয়ে।

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা