artk
সোমবার, মে ২৫, ২০১৫ ১১:০৪

শামসেত তাবরেজীর গুচ্ছ কবিতা

media

সুবু

(কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ  পরমেষু)

মৃত্যুই মরণ- এ কথা জানলাম!

ও সুবু, এখানে পূর্ণ যতি দিলে
চিৎকার চেঁচামেচি উঠবে নিখিলে?
রহিম যদিবা হয়, কেন নয় রাম!

গরম ভাতের ধোঁয়া- সরগরম বাড়ি
সালুনে পড়েছে বেশি নুন!
সুবু তোর জিব হাজার দূয়ারি
দাঁতে লেগে কটা হল খুন!

যে শবরী তার লাগে ভালো
অন্ধকার পুলিশের হসচিহ্নখান  ,
আর দ্যাখ্ বানান বদলালো,
প্রকৃতি-প্রত্যয়ের হল অবসান!

ফিরে আসে সেই একই কথা-
খরাল জিহবা থেকে জ্বরগোটা ঝরে-
মৃত্যুই মরণের আরেক বারতা

ফতুল্লার হাওয়া কান্দে প্রহরে প্রহরে!

 

মা

কে যাবিরে মায়ের কাছে
তুলে নিতে কৌম-কোলে,
আদ্যসভার বাদ্য বাজে
বাপের নামে সবাই ভোলে।                  

                      নির্বাপ কি সাপুড়েরা                  
                      ফণায় যারা আখর লেখে?                  
                      ভোটের বাকসো ঘিরে এরা                  
                      বলছে যা-তা হেঁকে হেঁকে।

তক্ষকের হরচালাকি
মোক্ষ লভেন দুজন বাঁদী,
শরমে তাই চক্ষু ঢাকি
উদাম রয় সাধের চাঁদি!                   

                     মায়ের জন্য কেন নেশা,                  
                     পুনর-গর্ভী করব তাকে?                  
                     এদিকে শেষ অশ্ব-হ্রেষা                  
                     মউত হবে দুর্বিপাকে?

সকল পুঙ্গ মাঙ্গে মজা
চুঙ্গা ফোঁকে শহরজুড়ে,
মায়ের বন্ধ হয় দরোজা
রাত্রি নামে মাঝ-দুুপুরে!                   

                    মায়ের মুলাকাত না হলে                  
                    কি করবি কালাম দিয়ে?                  
                    থাক তোরা ভোট মহলে                  
                    দুই দূয়োর মন ভজিয়ে!

এদের শুধু গুম্ফ নাই রে
ব্যাটাগিরিই এদের ভাষা,
সকালসন্ধ্যা তাইরে-নাইরে
আমায় নিয়ে তুলতামাসা।                   

                   মা গো আমায় আলিঙ্গনো                  
                   চুবাও রসের এক জবানে,                  
                   চাই না আর দোনোমোনো                  
                    আ মরি এই বাংলাগানে!
 

 

শৈশব

কত যে প্রেম ছিল চটুল বাচ্চারা
ফুটত এখানে, সেখানে ফুটত,
ফুটতে ফুটতে এখন হাতছাড়া-
আহা, কি গরিমায় ধুলায় লুটত!

ফার্সি জানত না, কিন্তু দাঁতছাড়া
নখের ঘা দিয়ে তুলত ফুসকুরি।
আমিও বাঁকা হয়ে দিয়েছি কাঁধঝাড়া,
আর-কি পাঁজি ওরা ভেঙ্গেছে তস্তুরি!

খেলত কখনো প্রাচীন পাঁচ-চাড়া
ধসিয়ে দিত সেই জাদুর কাঠিটি।
থাকতে পারত না কখনও নাচ-ছাড়া
উপুড় করে দিত দুধের বাটিটি!

কি করে কি করে সকলে কাছ-ছাড়া
তলিয়ে গিয়েছে যমুনা গর্ভে,
কত যে ছোট প্রেম সহজ ‘আচ্ছা-রা’
হয়েছে ‘নাই-নাই’ বেহুদা গর্বে!

কি করে বাঁচি বলো, এসব রাতছাড়া
জ্বালায় অধুনা জারজ কাচ্চারা!


কান্দ কেনে মন

কান্দ কেনে মন
না বান্ধিয়া চুল,
দুলতেছে কাশবন
আপনায় মশগুল।                

             চেল্লা বেয়ে ওঠে                
             পাহাড় চূড়াতে,                
             মাখায় গুনাহ ঠোটে                
             হারাম সুরাতে।

মন দখলদারি
সশস্ত্র শিংওলা
পাবক মিলিটারি
জল করছে ঘোলা।              

            কদলী না পাকে              
            না পাকে গো আতা,              
            পাছ-বেড়ার ফাঁকে              
            গোঙ্গাচ্ছে বিধাতা।

কে ছিঁড়িল তারে
পুলিশ কি তা জানে?
চোরের মাথাটারে
নিজের বুকে টানে!               

              যতই কান্দ মন              
              সঙ্ঘ গড়ো যত,              
              দুলবে কাশবন              
              করবে বিব্রত।

কান্দা ছেড়ে আসো
বান্ধা পড়ি ঘাটে,
পিছল জলে হাসো
ঈশ্বর  তল্লাটে।

 
 

লোকসানের পদ্য

অপার হয়ে বসে আছি কপার গলা রাতে,
এত্ত তিতা দয়াল তোমার কাঁচা কামরাঙাতে।

খাটের পায়া নড়েচড়ে, ইন্দুরে দ্যায় খোঁচা,
এই জীবনের দুঃখ আমার এক নিমেষে ঘোচা!

ভাল্লাগে না ভোট দিতে- ঠোটের বাড়াবাড়ি,
বঙ্গ জুড়ে রঙ্গ করে দুই সতীনের সারি।

শস্ত্র আমার চোরে নিছে, সাহস তুষার-ছাওয়া,
রামরাজত্ব কায়েম করেন খলিফা কয় ভাওয়া!

আগে যদি জানতাম আমি, কইতাম: ‘বাপজান,
এই দুনিয়ার ব্যবসায়ে পুরাটা লোকসান।

রাখতে তো পারলা না মায়ের আলোর দুনিয়াতে,
হাড়ে-মাংসে বুঝতে আছি কি বিষ কামরাঙাতে

 
মা দিবসের কবিতা

এমন যখন হয়, মরে গিয়ে উঠি- ঐ তো অদূরে- পড়ার টেবিলে
কার বই চোখ মেলে আছে বয়সের চেয়েও বয়স্ক,  লিখেছে মিথ্যা করে
অপ্রাপ্তের পাপ, আমি বিশ্বাস করি নি, যে দেবীকে ঈশ্বরও ঘাটেন না কখনো
তাই-ই ফুটে উঠেছিল চাঁই-চাঁই তুষারের পাহাড় ফাটিয়ে, এত নীচ থেকে
গৌরব বেরোলে আমার না মরে উপায় ছিল না, তবুতো উঠেছি-
আমার পায়ের নীচে নাচ-গলা পানি, টুকরো কাচে কাচে জগত বিশ্ব হল
দৃষ্টিবহুল- আবার এখুনি যদি মরে যেতে হয়, ও বিশাখা তুমিই বলো না
অসম্ভব নয় সে বিধান! যে চোখের অন্ধকার পর্দা সরিয়ে আচমকা নামলে
রিক্সা থেকে যেন এক হাঁস পথ ভুলে নগরে এসেছে, বলো তুমি
তাকে রেখে মরে যেতে পারব এখন? চাই না, চাই না যেতে টেবিলের
সীমানা ছাড়িয়ে ঐ বই থেকে বয়সেরও অধিক বয়সে- এ যে হ্রেষাবতী
মুঠো ভরে এনেছে জবানশিশু, অথচ দুচোখে পানি- সমুদ্রসমান- ছিটছে লবণ
আলজিব থেকে, ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছে, স্পষ্ট শুনছি:

জারা, জারা, জারা...

 
লিগ-লিঙ্গান্তরের পদ্য

যাব যাব করি, যেতে তো পারি না, পথ আটকান তিনি
পুলিশের বড় কর্তা, এদিকে কার যেন কুলখানি

নাভিখোলা পেট, ঘাড়ের মাংস, ঘড়িয়ালি দুই পা,
অত উচুঁতে তো চড়াই যাবে না- পালিয়েছে শেরপা,

আমারও পূজার আহ্লাদ হল, মনে হল যাব, যাই
রাস্তা আগলে মুত খাচ্ছেন মোগো মোরারজি সাঁই!

এত বাঁধা ঠেলে এগোনো কি যাবে পুড়ছে মানুষ, বাস।
বৈশাখে লিগ-লিঙ্গান্তর কে যে বাপ, কে যে দাস!

দলীয় কুসুমে আরবি ঝরান কতিপয় উন্মাদ,
বালাখানা ভরে উঠেছে তাদের লোল-জিব মায়াবাদ!

কিন্তু যাব না? ওখানে আমার গর্ভ-গরিমা লোটে-
পুলিশের বুটে থেঁতলে মগজ ছিটকে লাগল কোটে

উকিলের, তার শক্ত মাঢ়িতে ছলাকলা বিধানের,
গুম্ফ ছাড়াই জন্ম নিলেন নব হিটলার হের!

 

স্বাধীনতা ব্যবসায়ীর গান

আমাদের ছোট ছোট পরকালগুলি
      বড় হয়ে উঠছে এখন,
আমাদের ভোর গুলে দিচ্ছে গোধূলি
     দুইহাতে নরক লিখন।
 
আমাদের মুখ থেকে উড়ে গেছে চোখ,
    ঘাড় থেকে নেমে গেছে মাথা,
কখনো চ্যাপ্টা আমরা, কখনো গোলক
      আমাদের আমরা বিধাতা।

আমাদের পায়ুপথে লোহার গরম
     স্নায়ুছেঁড়া যত অভিযান।
তাজিয়া ছাড়াই চলে মাহে মহরম
আমাদের ভাটি নাই, বেবাকই উজান।

এক বিঘতের লাগি শতকোটি পণ,
   বাপের মাজারে তার লাগি
রাত্রিদিন করে যাচ্ছি নানা প্রহসন,  
কেননা, ধর্মমতে আমরা চেরাগি!


রওজা ১

আরেকটা জন্ম হোক, কবন্ধ মিনার
যা দেখে বিবমিষা লাগে, সব চোরাপথ
খুলে যাক ঈশ্বর বিষাদে।

চেয়েছি কি একটাও দিনার?
শুধুই তোমাকে- যে মোর হিম্মত
যাকে নিয়ে যেতে পারি চাঁদে।

আর কি চেয়েছি? শুধু ‘রওজা’য়
রেখে আসতে পারি যেন আতুর উচ্চার
ভাঁজে ভাঁজে গুলাবি আঠায়

ও তুঁহু মরণে জন্মের পাথরশিলাতে
জাগি যেন হেমবর্ণ আশেকদানাতে,
মরি যেন ও-ই আঘাটায়!

 

রওজা ২

শুনেছি, তুমি তো রহমান, যে রহমানতা
একবার স্পর্শিলে আমি আর নাই-
আমি যাই ঢুকে সোজাসুজি রওজার ভিতর
মিষ্টি পানিতে হেথা সাঁতরাতে থাকি,
অবশ্য একবার বাজল বিসমিল্লার সানাই,
তারপর কোথায় যে মিলাল! স্বর্গ-বারতা
পেলেম না ওগো ধনী- তোমার অধর
যার সনে একটি প্রহর হবে মাখামাখি!

অবশ হইল দেহ। ডুবব কি প্রাচীন পানিতে?
ডুবেই মরব যদি তুমি কেন আস্তটা নিলা
রুধিরার স্রোতে! কেন তবে বিদ্যূল্লীলায়
অযথা ফাঁপড় দিলা অত্যুষ্ণ বলকে
যে রৌশন ক্রিমের মত এ ভান্ডে মাখিলা?
দেখাইলা মুখখানি আমারেই আবার নাশিতে!
রুদ্ধ জবান মরে সেই এক পাথর কিল্লায়
যেথা তুমি বেরহম হয়ে আছ আরশি-বালকে!


রওজা ৩

তটিনীরে কহিনু ফিসফিস করে, লজ্জা লাগে না!
হেসেই বাঁচে না ও, ঝটিতি আলগি করে দেহ
রক্তজলে ভেসে ওঠে। ওমা! এ যে আদ্য-পদ্ম সেই,
তার ওপর বসে আছি কালামে-সালামে ভিজে মগ্নবিধুর!

কস্মিনকালেও তারে করি নাই আবোলতাবোল সন্দেহ,
যতটুকু জায়নমাজ, তারও বেশি নমাজের দেনা
এই জেনে তোমার স্রোতের মধ্যে সান্ধায়া দেই
লৌহ ধর্ম। তৎক্ষণাৎ ত্রিভুবন গলে বেরয় সিঁদুর

রূপের রূপালি নদী- তুমি যে আবার ডেকে আনছ কাকে?
ও যে আমার মতই ভাষা কহে, আমার মতই নড়াচড়া
পরিধি অতিক্রমি যেতে চায় দিগন্ত দরগার বাঁকে
অন্য অছিলায়- যেথা তেলাওয়াতে ঝরে শর্করা

অপ্রাপ্তবয়স্কা তিনি, তবু জানি ঈশ্বরসমান
আমার এ দেহ ছাড়া নন রৌশনোজ্জ্বল রহমান!

 
এক্সোডাস

এইখানে               আসতে বারণ
এইখানে               নিরুচ্চারন
এইখানে               নায়াগ্রাপাত
এইখানে               বিনষ্ট তাঁত

এইখানে               ভীমসেন যোশী
খাদে নামা            অর্ধেক শশী
এইখানে              বায়ু বিস্ফার
রগকাটা             ব্লেডের দুধার

এইখানে              জল-উগরানো
শব্দভুক              মারকুটে দানো
এইখানে,            এইখানটায়
হাতবোমা           হঠাৎ ফাটায়

তখৎ-এ-তাউসে    কম্পন
পল্টনে              পুলিশি দমন
এইখানে             দিকদিশা নাই
ভেলায় ভেলায়     ফিরি তাই

তাহলে কি নাই     রওজার
রোশনি এখানে,    গাঁ উজাড়...

 

অলঙ্করণ: আফরিদা তানজিম

নিউজবাংলাদেশ.কম/টিএবি

 

 

 

 

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা