artk
বুধবার, জুলাই ১৯, ২০১৭ ৬:১৭

দুঃখে-ভরা পরবাসে এক পশলা বিনোদন

media

প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে বহু দূরে। আপনজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন। পরবাসে নানা দুঃখ-কষ্ট-বেদনা ও ব্যস্ততা ভুলে; ক্ষণিকের আনন্দ খোঁজা প্রকৃতির কাছে! প্রকৃতির দেয়া প্রতিদানহীন নির্মল সে আনন্দ ক্ষণকালের জন্য সকল অপ্রাপ্তি যেন মিটিয়ে দিয়েছে।

অতি চমৎকার, নৈসর্গিক ও শৈল্পিক সৌন্দর্য, যা কল্পনাকেও হার মানায়! এর মাঝে অনুকূল আবহাওয়া অভূতপূর্বভাবে আমাদের সহায় হওয়ায় আনন্দের কোন ঘাটতি হয়নি। কোথায় যেন পড়েছিলাম ‘যদি স্রষ্টাকে পেতে চাও, সৃষ্টির দিকে তাকাও’। সত্যি কি বিচিত্র স্রষ্টার সৃষ্টি! সে সুন্দর কল্পনাতীত; বর্ণনাতীততো বটেই। তোমরা রবের কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? তাকাও। আবার তাকাও। তোমার দৃষ্টি বারবার পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরে আসবে ।

সত্যি দেখার মত ফ্রান্সের “ভোল লে রোজ” Veules les roses (গোলাপ প্রজাসভা) সামুদ্রিক অঞ্চল। উত্তর ফ্রান্সের নরমন্ডির সেইন মেরিটাইম বিভাগে এটি অবস্থিত। ২শ' ৪৭ একর এলাকা নিয়ে গঠিত এ অঞ্চলে রয়েছে হ্রদ, পুকুর, হিমবাহ ও সমুদ্র সৈকত। ২০০৬ সালের হিসাব অনুযায়ী এখানে ৫শ' ৪৬ জন লোক বসবাস করে। সাজানো-গোছানো পাহাড়, সমুদ্র সৈকত, ঘরবাড়ি, ফোয়ারা, নদী, গাছপালা,  প্রকৃতির অপরূপ সাজ।

এমনকি সমুদ্র পাড়ে ছোট বাচ্চাদের জন্য রয়েছে সুইমিংপুল। পাশেই নীল জলরাশির বিশাল সমুদ্র। অথচ স্বাভাবিক প্রকৃতির কোন রকম ব্যাঘাত না ঘটিয়ে সবকিছুই যেন নিজের মত করে প্রযুক্তি দিয়ে প্রাকৃতিক করে সাজিয়ে নিয়েছে।

অবশ্য ফ্রান্সের যেথায় গিয়েছি এরূপই দেখেছি। পাহাড়, পর্বত, প্রকৃতি যেখানে যে অবস্থায় আছে; সে অবস্থানে রেখেই তথায় বসবাসযোগ্য করে তুলেছে। প্যারিস শহরটাও অনুরূপ। উপর থেকে দেখলে দেখা যায় কত উঁচু-নিচুতে স্থাপনা গড়া হয়েছে। প্যারিস থেকে ভোল লে রোজ বাস যোগে প্রায় ২শ' কিলোমিটারের পথ। কখনো পাহাড় কখনো পর্বতের নিচ দিয়ে আবার কখনো পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে বিশাল বিশাল রাস্তা, অরণ্য পাড়ি দিয়ে সেথায় যাওয়া। আগেও অন্যান্য দুর্গম এলাকায় গিয়ে খেয়াল করেছি, এখানে এসেও দেখলাম; ফ্রান্সের যেকোন জায়গায় থাকেন না কেন; সেখানকার এবং শহরের নাগরিক সুবিধা সব একই রকম।যাবতীয় উপাদান, সুযোগ- সুবিধা একই।

অবশ্য এখানে নির্মল প্রকৃতির বাড়তি সুবিধা। এসব দেখলে অবাক হওয়া ছাড়া উপায় নেই। কত শত বছরে তারা এমনটি করতে পেরেছে! ফ্রান্সে যা দেখি তাতেই অবাক হই।আসলে দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা-আন্তরিকতা আর পরিকল্পিত পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। যাক, মূল প্রসঙ্গে আসি।

গত রোববার ফ্রঁসে আবেক রাব্বানী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ভোল লে রোজ ( Veule les rores সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ ও বনভোজনের এ আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের আন্তরিক এবং বুদ্ধিদীপ্ত সৌহার্দ্যে ভরপুর ছিল এর সার্বিক আয়োজন। প্রতিটি মুহূর্ত যেন কেটেছে পারস্পারিক মধুরতায়পূর্ণ এক সজীব–নির্মলতায়। এতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন ফ্রঁসে আবেক রাব্বানীর প্রতিষ্ঠাতা রাব্বানী খান। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন আহমেদ আলী আকবর সুমন, জাহিদ, মিলন, অরণ্য আমীর, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন খান প্রমুখ ।

প্লাস দ্য লা শাপেলে অবস্থিত ফ্রঁসে আবেক রাব্বানী প্রতিষ্ঠানের বটতলা থেকে এ সমুদ্র ভ্রমণ শুরু। ভোর থেকেই প্যারিসের বিভিন্ন শহর থেকে জড়ো হতে থাকে উৎসুক ডেলিগেটগণ। সকাল ৮টা থেকে কুপন সংগ্রহ, সমুদ্রের নীল জলরাশির ছাপে বর্ণিল কারুকার্য সমৃদ্ধ টি-শার্ট ও সাথে সেলফি স্টিক। ১শ' ২৫ জনের মাঝে এসব বিতরণ শেষে লক্ষ্যপানে দুটি বাসের মাধ্যমে যাত্রা শুরু সকাল সোয়া ৯টায়।

এ ভ্রমণে আসা-যাওয়া এবং সমুদ্রপাড়ের সময়টুকু এমনই সৃজনশীল ছিল যে, কোনদিন যে সব লোক মাইক্রোফোনের কাছেও ভিড়েনি; সেও তার মধ্যে থাকা নানা ভাব-কথন উজাড় করে দিয়েছেন। গান, গল্প, কৌতুক, কবিতা, চুটকি, আঞ্চলিক কৃষ্টি-কালচার উপস্থাপন করে। তাদের সেসব পরিবেশনায় প্রতীয়মান হয়েছে –সবার মধ্যেই সৃষ্টিকর্তা কিছু প্রতিভা দিয়েছেন। আর যারা মাইক্রোফোন ধরেনি ; তারা আরো বেশী সঙ্গ দিয়ে পুরো ভ্রমণকে প্রাণবন্ত করতে কার্পণ্য করেনি। এ আয়োজনে ১শ' ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন। এতে সন্তান-সন্ততিসহ কয়েকটি পরিবারের সংস্রব দিয়েছে বাড়তি উৎসবের আবহ। আর পুরো ভ্রমণকে পূর্ণতার আরেক উচ্চমাত্রা যোগ করেছেন ব্যাপক বাংলা ভাষা জানা ফরাসী নাগরিক জেরেমি কোডরন ও মাদাম মিতেলমান। জেরেমি বাংলার লালন, বাউল ও চট্টগ্রাম এবং সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় গান, কৌতুক পরিবেশন করে সকলকে যারপরনাই বিমোহিত করেছেন।

সমুদ্রের নীল জলরাশির উত্তাল হাতছানি কার সাধ্য এড়িয়ে যাওয়া। তীরে এসে বাস থামতেই সকলে নেমে পড়ে। লাফালাফি, সাঁতার কাটা, ফুটবল নিয়ে মাতামাতি, সেলফি, ফটোশেসন, লম্ফঝম্ফ...। এর মাঝে ঘন্টাখানেকের মধ্যে সমুদ্রের জোয়ারভাটা। ফলে আমরা যেখানে লাফালাফি, দাপাদাপি করছি কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে বিশাল মরুভূমি! ধূ ধূ বালুচর! প্রকৃতির মাধ্যমে স্রষ্টার এ কি লীলাখেলা!  সত্যি অবাক করে। চিন্তায় ফেলে। এ আকর্ষণ রেখে কি ফিরতে ইচ্ছে করে? মন চায় জোয়ার-ভাটার এ খেলা দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নামুক। জোনাকি জ্বলুক। চাঁদের আলো পড়ুক নীল জলরাশির ঢেউয়ে। সব কোলাহলে তৃপ্তির প্রশান্তি ঘিরে কেটে যাক না সময়, কিন্তু যান্ত্রিক এ জীবনে তা কি সম্ভব ? এবার যে ফেরার পালা। ফিরতে মন নাহি চায়। তবুও ফিরতে হয়।  

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএনসি 

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা