artk
শনিবার, মে ১৬, ২০১৫ ৮:৩৪

টুকুর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে নিশ্চুপ দুদক

media

ঢাকা: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলেও অনুসন্ধান শুরু করতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বেশ কিছু দিন আগে কমিশনের বৈঠকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পরে তার আর হয়নি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের হলফনামা অনুসারে তার দুই ছেলে ও বড় ছেলের স্ত্রীর কোনো সম্পদ ছিল না। পাঁচ বছর পর তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তবে ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায়ও এ সব সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা গত পাঁচ বছরে (২০০৮-২০১৩) ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। গত পাঁচ বছরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকার সুবাদে ১৫ কোটি পাঁচ লাখ ৬০ হাজার ৫১১ টাকা এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র ভিওআইপি ব্যবসায় কর ফাঁকি দিয়ে ১৪৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা অর্জন করেছেন। তবে প্রকৃত হিসাবে তার নিজ নামে-বেনামে, তার স্ত্রী ও দুই পুত্র এবং পুত্রবধূর নামে অবৈধ উপায়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিউজবাংলাদেশকে জানান, সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের অনেকরই প্রকৃত সম্পত্তির পরিমাণ তিনি তার ২০১৩ সালের হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দুদকের হস্তগত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 
সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা অনুসারে, অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু আইন পেশা থেকে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা আয় করেছেন। ওই সময় তার নগদ ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া সোনা ১০ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা এবং ৯ লাখ টাকার অকৃষি জমি ছিল। অর্থাৎ ২০০৮ সালে টুকুর মোট ১৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সম্পদ ছিল।

টুকুর স্ত্রী বেগম লুৎফুন নেছার ২০০৮ সালে মোট ৬১ লাখ ৭২ হাজার টাকার সম্পদ ছিল। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট যার মূল্য ২০ লাখ টাকা, নগদ আট হাজার টাকা, ব্যাংকে জমাকৃত ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১৪ হাজার টাকার সোনা রয়েছে। আর টুকুর বড় ছেলে এস এম আসিফ সামস, ছোট ছেলে এস এম নাফিস সামস্ এবং বড় ছেলের স্ত্রী মুসলিমা খাতুনের কোনো সম্পদ ছিল না।

অর্থাৎ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা মোট ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদের মালিক ছিলেন।

২০১৩ সালে দাখিলকৃত হলফনামায় টুকু মোট দুই কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫১০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৮০ হাজার টাকা, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান ও অন্যান্য ভাড়া দুই লাখ ৮৩ হাজার টাকা, শেয়ার সঞ্চয়পত্র ব্যাংক আমানত পাঁচ লাখ ৩৯ হাজার ১২১ টাকা, নগদ তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, ডিপিএস এক লাখ ৭৮ হাজার ৯৬০ টাকা, এফডিআর ৪৫ লাখ ৪১ হাজার ৫৪৬ টাকা, মোটরগাড়ি ৭১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৫ টাকা, ১০ ভরি সোনা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা, পিস্তল একটি ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা, পাঁচ কাঠা অকৃষি জমি ৪৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৯৮ টাকা, পাবনা সদরে একটি দালান ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দানসূত্রে প্রাপ্ত বসতভিটা ২৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

টুকুর মোট দুই কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫১০ টাকার অর্জিত সম্পদের বিপরীতে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন থেকে ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪৯ টাকা, জনতা ব্যাংক থেকে ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৭ টাকা এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে তিন লাখ ৮৬ হাজার ৫২৩ টাকার দায় দেখিয়েছেন। দায় বাদে হলফনামায় তিনি এক কোটি ৭৫ লাখ দুই হাজার ১০১ টাকার অর্জিত সম্পত্তি ঘোষণা করেছেন। যার বৈধ কোনো উৎস নেই।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৩ সালের হলফনামায় দেখানো পাবনা সদরে বিদ্যমান বাড়িটি দুতলা থেকে পাঁচ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবনটির প্রকৃত মূল্য এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। যার দাম তিনি হলফনামায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা লিখেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এক কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। এ ছাড়া বেড়ার বৃশালিখায় তার বসতভিটায় প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন বিলাসবহুল দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এর আয়তন প্রতি তলায় ৩৯২৫ বর্গফুট। এ হিসেবে বাড়িটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে তিনি এক কোটি ৭১ লাখ ২৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। টুকু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন নিজ নামে প্রদর্শিত ও গোপনকৃত মোট চার কোটি ৮৫ লাখ ৭৭ হাজার ১০১ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

টুকুর স্ত্রী বেগম লুৎফুন নেছার মোট এক কোটি ৯৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা এক লাখ ২৮ হাজার ৭৪৪ টাকা, শেয়ার ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ডিপিএস এক লাখ ৭৮ হাজার ৯৬০ টাকা, এফডিআর এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৬ টাকা, পাঁচ ভরি সোনা দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা, পাবনা সদরে একটি দালান এক লাখ টাকা, ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত তিনটি ফ্ল্যাট যার মূল্য ৪৪ লাখ টাকা উল্লেখ করেছিলেন। লুৎফুন নেছার মোট এক কোটি ৯৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকার অর্জিত সম্পদের বিপরীতে দুই লাখ টাকা দায় দেখিয়েছেন। অর্থাৎ হলফনামায় তিনি এক কোটি ৯৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকার অর্জিত সম্পত্তি ঘোষণা করেছেন।

সূত্র জানায়, লুৎফুন নেছা পাবনা সদরে অবস্থিত ভবনের মূল্য দেখিয়েছেন এক লাখ টাকা। প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির মূল্য ন্যূনতম এক কোটি টাকা। এক্ষেত্রে তিনি ৯৯ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত তিনটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৪ লাখ টাকা দেখানো হলেও যার নূন্যতম মূল্য তিন কোটি টাকা। এক্ষেত্রে তিনি দুই কোটি ৫৬ লাখ টাকার সম্পদের মূল্য গোপন করেছেন। অর্থাৎ লুৎফুন নেছা ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে নিজ নামে প্রদর্শিত ও গোপনকৃত মোট পাঁচ কোটি ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

সূত্র আরও জানায়, টুকুর বড় ছেলে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস এম আসিফ সামস্ ভিশন টেল কোম্পানির চেয়ারম্যান। ভিওআইপির লাইসেন্স ফি বাবদ তিনি বিটিআরসিকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম এবং প্রতি বছরে সাত কোটি টাকা হিসেবে তিন বছরে ২১ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট ৩৬ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দিয়েছেন। বার্ষিক লাইন রেন্ট সাত কোটি টাকা বিটিআরসিকে না দিয়ে এ ব্যবসা করেন। বিটিআরসি রাজস্ব ও নিবন্ধন নবায়ন বাবদ ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৪৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাবে। ভিওআইপি লাইসেন্সের অর্থ দেওয়া কিংবা অর্থের উৎসের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র জানায়, টুকুর ছোট ছেলে নাসিফ সামস্ সোলার আই লিমিটেডের পরিচালক ও মেসার্স গ্রীন টেকনোলজির মালিক হিসেবে আয়কর বিবরণীতে মোট ৮২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছে। তবে টুকু তার হলফনামায় তার ছোট ছেলের নামে কোনো সম্পদের হিসাব উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া নাফিস সামস্ পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পায়না ও তেঘরী মৌজায় ৪০ বিঘা জমি এক কোটি ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্রয় করেছেন। ক্রয়কৃত ভূমি উন্নয়নে তিনি আরো এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে তিনি তিন কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি তার আয়কর বিবরণীতে বা টুকু সাহেব হলফনামায় গোপন করেছেন।
টুকুর বড় ছেলের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন এ এম এন্টারপ্রাইজের মালিক হিসেবে আয়কর বিবরণীতে মোট এক কোটি ১৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩০ টাকা উল্লেখ করেছেন। তবে টুকু তার হলফনামায় মুসলিম খাতুনের কোনো সম্পত্তি উল্লেখ করেননি।

সূত্র জানায়, সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট ১৫ কোটি পাঁচ লাখ ৬০ হাজার ৫১১ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যরা নামে-বেনামে পঞ্চগড় জেলায় ৩৬ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। ডিএসই, ডিএসসি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/টিআইএস/এজে

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা