artk
শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০১৫ ৬:৫২

কার্যালয়ে খালেদার ৯২ দিন

media

ঢাকা: গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে টানা ৯২ দিন যাবত অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত ৩ জানুয়ারি রাতে ‘অবরুদ্ধ’ হওয়ার পর থেকে বারবার বের হবার চেষ্টা করে বাধা পান তিনি। এরপর কখনো ‘অবরুদ্ধ কখনো ‘স্বেচ্ছায়’ কার্যালয়ের দোতলার ছোট পরিসরে ৯২ দিন ধরে টানা অবস্থান করছেন তিনি।

কার্যালয় থেকে এ মুহূর্তে বের হতে কোনো বাধা নেই, তবু অনড় তিনি। দলের সিনিয়র নেতাদের দাবি, আন্দোলনের স্বার্থেই এখানে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে দলীয় সূত্র বলছে, কার্যালয় থেকে বের হলে তাকে আর এখানে ফিরতে দেয়া হবে না। এজন্য গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি হবার পরও কার্যালয় থেকে বের হননি তিনি।  

খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে এবং তার সাথে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম খান গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বলে বিএনপিপন্থী অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আন্দোলনের স্বার্থেই এখানে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। খুব তাড়াতাড়ি কার্যালয় থেকে বের হবেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

কার্যালয়ে অবস্থানের এই দীর্ঘ সময়ে নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন খালেদা জিয়া। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিতেও তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেননি। এমনকি কোকোর মরদেহ দেখা ছাড়া দোতলা থেকেই নামেননি তিনি।

আন্দোলনের স্বার্থে কার্যালয়ে অবস্থান করায় প্রথমবারের মতো বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনও করতে যাননি খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানের সময় বেশকিছু উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা ঘটে।
৪ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বিশেষ করে এদিন রাতে ১৩টি ইট, মাটি, বালু ভর্তি ট্রাক দিয়ে কার্যালয়ের দুই পাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। সড়কের দুই মাথায় বসানো হয় দুটি তল্লাশি চৌকি। প্রস্তুত রাখা হয় পুলিশের ভ্যান, জলকামান ও সাঁজোয়া যান।

৫ জানুয়ারি বিকেলে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে কালো পতাকা নিয়ে গুলশান কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে থাকা মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা প্রধান ফটক খুলে দেওয়ার দাবিতে তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করলে এক পর্যায়ে কার্যালয়ের ভেতরে পিপার স্প্রে ছোড়ে পুলিশ। এতে তিন সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এ সবই গাড়ির ভেতর থেকে পর্যবেক্ষণ করেন খালেদা জিয়া। পরে গাড়ি থেকে বের হয়ে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দেয়া বক্তব্যে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়ে ফিরে যান কার্যালয়ে।

কার্যালয়ে থাকা অবস্থায়ই ৮ জানুয়ারি রাতে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রেসিডেন্ট অমিত শাহর সঙ্গে খালেদা জিয়ার ফোনালাপের খবর গণমাধ্যমকে জানান চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। এ দিন সকালে মূল ফটকের তালা খুলে দিলেও আবারো রাতেই পুলিশ কার্যালয়ে ফের তালা লাগিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক হন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। পরদিন ফের তালা খুলে দেওয়া হয়।

১৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্টপ্রতি জিয়াউর রহমানের ৭৯তম জন্মবার্ষিকীতেও কার্যালয়েই ছিলেন খালেদা জিয়া। তার পক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দেন বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।

কার্যালয়ে অবস্থানকালেই খালেদা হঠাৎ করেই ২৪ জানুয়ারি ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সংবাদ জেনে শোকাহত হয়ে পড়েন। এদিন শোক জানাতে গুলশান কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বাইরে কয়েক মিনিট অপেক্ষার পরও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস শোকে কাতর বিএনপি চেয়ারপারসনকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান। এ ঘটনায় বিএনপি দেশে বিদেশে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে।

মালেয়শিয়া থেকে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃতদেহ ২৭ জানুয়ারি কার্যালয়ে আসে। এসময় সন্তানের লাশ দেখে শুধু তাকিয়ে থেকেছেন আর অঝোরে কেঁদেছেন। অবশেষে প্রিয় সন্তানকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন গুলশান কার্যালয় থেকেই।  

৩১ জানুয়ারি দিবাগত রাত ২টা ৪২ মিনিটে খালেদা জিয়ার অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরের দিন সকালে বিচ্ছিন্ন করা হয় ডিস, ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ। মোবাইল কোম্পানির নেটওয়ার্কও বন্ধ করা হয় তার অফিস ও সংলগ্ন এলাকায়। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও অন্য সেবাগুলো বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পথে তার উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালুকে আটক করা হয়।

হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার না করায় ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গুলি করতে অস্ত্র হাতে তার কার্যালয়ের সামনে আসেন মুফিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। যিনি নিজেকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের’ একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।

খালেদা জিয়ার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারি কার্যালয়টির নিরাপত্তা বাড়াতে এর চারপাশের দেয়ালের ওপরে লাগানো হয় কাঁটাতারের বেড়া।

১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে অবস্থান করা অন্যদের জন্য আনা খাবার ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। যদিও এর আগে খাবার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে কোনো বিধি-নিষেধ ছিল না। এদিন বিকেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রবার্ট গিবসন বৈঠক করেন। ওইদিন ৩৯ দিন পর কার্যালয়ের প্রধান ফটক খোলা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেদিনই কার্যালয়ে আসেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এরপর থেকে তিনিও কার্যালয়েই অবস্থান করছেন।

এদিকে কার্যালয়ে অবস্থান করার মধ্যেই সোয়া পাঁচ কোটি টাকা দুর্নীতির দুই মামলায় ধার্যকৃত তারিখে হাজির না হওয়ায় ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ১ মার্চ তার কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে আদালতের অনুমতি নিয়েছে পুলিশ। যদিও পরে আর তল্লাশি চালানো হয়নি।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নিজের পরামর্শকদের সঙ্গে নিজের কার্যালয়ে থেকেই কথা বলছেন এবং নেতাকর্মীদের নানা দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি।
গুলশানের ওই কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আলম ডিউ, নিরাপত্তা সমন্বয়কারী কর্নেল (অব.) আব্দুল মজিদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান অবস্থান করছেন।

গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থান প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল(অব.) মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাদেশকে জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই বিএনপি চেয়ারপারসন বাসায় ফিরবেন বলে জানান তিনি।”

৩ জানুয়ারি থেকে গুলশান কার্যালয়ে থাকা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিক শিরিন সুলতানা নিউজবাংলাদেশকে জানান, “একটি বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় কেমন থাকা যায় তা আপনারাই ভালো জানেন। আমরা তাও নিচ তলায় নেমে, ছাদে উঠে হাটাচলা করি, কিন্তু চেয়ারপারসনের চলাফেরা দোতলাতেই সিমাবদ্ধ।”

নামাজ পড়ে পেপার পড়ে, নেতাকর্মীদের সাথে মোবাইলে কথা বলে চেয়ারপারসনের সময় কাটছে। সপ্তাহে একবার লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে তারেক রহমানের সাথে খালেদা জিয়া কথা বলেন বলে জানান শিরিন।

উল্লেখ্য ওয়ান ইলেভেনের সময় গ্রেফতার হওয়া ছাড়া খালেদা জিয়া টানা এতদিন কোথাও অবস্থান করেননি।  

নিউজবাংলাদেশ/আরআর/এএইচকে

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা