artk

সুজন মজুমদার

বুধবার, জানুয়ারি ১, ২০২০ ১২:২৬

নতুন সূর্যোদয়, সম্ভাবনার বাংলাদেশ

media

নতুন বছরের সূচনায় শুরু হলো জীবনের আরো একটি অধ্যায়। অনেক প্রত্যাশা ও অমিত সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচনে আরেকটি নতুন সূর্যোদয়। নতুন এ বছরটি সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শিক্ষা-দীক্ষা  সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সম্পীতি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও ২০২০ সাল অনেক প্রতীক্ষার একটি বছর। এ বছর দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের মাধ্যমে উন্নয়নের দৃশ্যায়নে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার এক অনন্য দৃঢ় প্রত্যয়।

দুপুর গড়িয়ে গোধূলির রক্তিম সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিদায় নিলো ঘটনাবহুল ২০১৯ সালটি। পুব আকাশে নতুন সূর্য উদয়ের মাধ্যমে জন্ম নিলো নিষ্কলুষ নতুন একটি বছর। প্রত্যাশা কেবল মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং সৌহার্দ্য সম্প্রীতির দেশ গড়ার। যাত্রা শুরু হলো নতুন বছরের, স্বাগত ২০২০, বিদায় ২০১৯। 

নতুনের কেতন উড়িয়ে আগামীর কর্মযজ্ঞে নেমে পড়ার আবাহন ও অমিত সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে ২০২০ সাল। দূর দিগন্তের সোনালি দিন আমাদের হাতের মুঠোয়। ২০২০-কে ঘিরে অনেক প্রত্যাশা, অনেক স্বপ্ন, অনেক কল্পনা। বহমান স্রোতের মতো যদিও সময়ের বিচারে একটি বছর খুব দীর্ঘ নয়, মাত্র তিনশ পঁয়ষট্টিটি দিন। স্মৃতি জড়িত ফেলে আসা দিনগুলোতে আমাদের মনে পড়বে- কী পেয়েছি, কী হারিয়েছি। অতীতের সেই একই সূর্য, একইভাবে আজ কুয়াশার ফাঁকে পূর্বাকাশে মাথা তুলে জেগে উঠেছে। তবু তার উদয় ভিন্নতর। আজকের দিনটি সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ একটি নতুন বর্ষপরিক্রমা শুরু হলো আজ থেকে। নতুনের কেতন উড়িয়ে আজ হ্যাপি নিউ ইয়ার। নতুনের প্রতি সবসময়ই মানুষের থাকে আবেগময় বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা। নতুনের মধ্যে নিহিত থাকে অমিত সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ণ করার সুযোগ করে দিতে এলো আরো একটি নতুন বছর। 

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই বর্ষ বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো মানুষের আবেগ ও হৃদয়বোধেরই একটি অন্তর্নিহিত প্রতিফলন। শুভনববর্ষ প্রাচীন রোমের পৌরাণিক দেবতা জেনাসের নামানুসারে নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির নামকরণ। দেবতা জেনাসের দুটি মুখ। একটি সূর্য অপরটি চন্দ্র। সূর্য উত্তাপ বিকিরণ করে জীবন সঞ্চালন ঘটায় আর চন্দ্র তার মধুর আলোয় জীবনের পরিপুষ্টি করে তোলে। আবার জেনাসের একটি মুখ ভবিষ্যতের প্রতীক, অন্যটি অতীতের। তিনি পার্থিব মানুষের জীবনদ্বারের প্রহরী। তাই দৃষ্টি প্রসারিত করে আছেন আমাদের অতীত থেকে অনাগত ভবিষ্যতের দিকে। অতীত থেকে অনাগতের যাত্রাপথে যে চলমান প্রবহমানতা, জেনাস তার নিয়ামক এবং নিয়ন্ত্রক। তিনি স্বস্তি, শান্তি আর কল্যাণের দেবতা। চার হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার বেবিলিয়নরা ‘আকিতু’ নামে নববর্ষ অনুষ্ঠান পালন করে সুখী, শান্তিপূর্ণ, শুভময় ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করতেন দেবতার কাছে। আর আবহমান কাল ধরে বিশ্বও এগিয়ে চলেছে নতুনের হাত ধরে। তাই ইংরেজি ক্যালেন্ডারের প্রথম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববাসী মেতে ওঠে নানা আয়োজনে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালিও মেতে ওঠে ইংরেজি নববর্ষ বরণের আনন্দে। শহর-নগর, গ্রাম-বন্দরসহ দেশজুড়ে  যেন বয়ে চলে এক খুশির বন্যা। যুগযুগ এই উৎসব এভাবে আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।

এত স্বপ্ন, এত আলোর পাশাপাশি বিগত বছরে ঘটে যাওয়া অনেক অঘটন আমাদের আশাহত করেছে, অর্জনকে করেছে ম্রিয়মাণ। যেমন, ধর্ষণ, ইভটিজিং, অপহরণ, বিদেশে কর্মক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক অমানবিক নির্যাতন, বৈষম্য, শিশু ধর্ষণ, খুন ও পাশবিকতার শিকারে বেদনা-বিধূর বিদায় হয়েছে ২০১৯ সাল। আর যেন এ ধরনের পৈশাচিকতার পুনরাবৃত্তি না হয়। সরকার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যেতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক অর্জন সত্ত্বেও ব্যাপকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জাতির ভবিষ্যতকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। জাতির ভবিষ্যত জীবনকে নিষ্কণ্টক করার নিমিত্তে এই অশুভ শক্তির দুর্গকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নৈরাজ্য কঠোর হাতে বন্ধ করতে হবে। বিগত বছরে ঘটে যাওয়া সংখ্যালঘু ও আদিবাসী নির্যাতনসহ উপাসনালয় ভাঙচুরের ঘটনার আর যেন পুনরাবৃত্তি না হয় নতুন বছরে।

২০২০ সাল নতুন একটি বছর। অতীতের মত নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশার জাল বুননে সঠিক দিকনির্দেশনায় সম্ভাবনার প্রেরণার যোগাবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বাজারে সরবরাহের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও চালসহ অন্যান্য দ্রব্যমূল্য নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ কারসাজি এই মূল্যবৃদ্ধির একটা অন্যতম কারণ। কঠোরভাবে বেআইনি মজুদদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা দমন করে দ্রব্যমূল্যকে সাধারণ মানুষের নাগালের ভিতরে নিয়ে আসতে হবে যাতে সরকারের উন্নয়নের ফসল জনগণ সঠিকভাবে ভোগ করতে পারে। 

সকল নাগরিকের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাড়িওয়ালাদের ঘন ঘন বাসা ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। এছাড়াও দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের মতো আরো গৃহায়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সীমিত জায়গায় বহুতল বিশিষ্ট ফ্ল্যাট নির্মাণ করে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করলে সাধারণ মানুষের বাসস্থানের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। 

মানবতার বাংলাদেশ অসহায় মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে প্রধানমন্ত্রী অনন্য এক নজির স্থাপন করেছেন। তবে রোহিঙ্গাদের এদেশে স্থায়িত্ব দেয়া হলে তাদের আগ্রাসী মনোভাব ও সংস্কৃতি দিনদিন বিস্তারে আমাদের গ্রাস করবে যা এদেশের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়। তাছাড়া আমাদের দেশে জনসংখ্যাও ইতিমধ্যে ১৮ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় বন্দোবস্তু করতে হবে।   

এক সময় আমাদের দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে উল্লেখ করা হতো। কিন্তু আজ সেই গ্লানি থেকে আমরা আমাদের কর্মদক্ষতায় মুক্তি পেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী বলা হচ্ছে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি ইউরোপের ২৭ দেশের অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে। অতঃপর কাঙ্খিত পদ্মাসেতু আজ দৃশ্যমান। দেশজুড়ে উন্নয়নের জোয়ার। তবু কোথায় যেন একটু অসম্পন্ন। ক্ষমতার ধারাবাহিকতায় এক শ্রেণির কিছু স্বার্থবাদি রাজনৈতিক নেতাদের লুটপাট, টেন্ডারবাজি, দালালি, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি, জমি দখল, রাতারাতি কটিপতি বনে যাওয়া, বিদেশে টাকা পাচার, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা বানানো, ঘের মালিকদের হারির টাকা না দেয়া, মানুষ হত্যা, নারী পাচার, ক্যাসিনোর মতো জুয়ার আসরসহ সাংবাদিকদের সাথে নেতাদের অসৌজন্যমূলক আচারণে মানুষ আজ ক্ষোভ ও হতাশাগ্রস্ত দোদুল্যমানতায় দিন কাটাচ্ছে।

সর্বোপরি এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। সবার প্রত্যাশা, নতুন বছর হবে একটি সুখী-সমৃদ্ধ-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। নতুন বছরের কাছে প্রত্যাশা ভালো থাকার সুন্দর থাকার। চাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা। সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ, শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশে বেঁচে থাকুক স্বপ্নেরা। পুরনো বছরের ব্যর্থতা ও গ্লানিকে পেছনে ফেলে নবোদ্যমে সোনালি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে সম্ভাবনার বাংলাদেশ। নতুন সূর্যোদয়ের কাছে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

লেখক: সাংবাদিক।

 

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা