artk

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান

মঙ্গলবার, ডিসেম্বার ৩১, ২০১৯ ৬:৪১

বছরজুড়ে ছিল পুঁজি হারানোর কান্না

media

বর্তমান সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে প্রথম বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারের সুদিন আসবে এমন স্বপ্নে বুক বেঁধেছিল বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বছরে শেষে সেই স্বপ্ন ছিল পুরোটাই গুঁড়েবালি। কারণ বছরজুড়ে ছিল বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর কান্না। তারা ভেবেছিল, ২০১০ সালের শেষ দিকের ধসের পর এবার অন্তত সুফল পাবে। কিন্তু ধসের পর প্রতি বছরের মতো এবারেও ২০১৯ সাল হতাশার অন্ধকারে পার করেছে বিনিয়োগকারীরা।

বর্তমান সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে প্রথম বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারের সুদিন আসবে এমন স্বপ্নে বুক বেঁধেছিল বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বছরে শেষে সেই স্বপ্ন ছিল পুরোটাই গুঁড়েবালি। কারণ বছরজুড়ে ছিল বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর কান্না। তারা ভেবেছিল, ২০১০ সালের শেষ দিকের ধসের পর এবার অন্তত সুফল পাবে। কিন্তু ধসের পর প্রতি বছরের মতো এবারেও ২০১৯ সাল হতাশার অন্ধকারে পার করেছে বিনিয়োগকারীরা।

২০১০ সালের ধসের পরে দীর্ঘসময় লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সহ বাজার সংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্কার করেছিল। এসব সংস্কারের কারনে বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিলে এবার ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার। এবার হয়তো হাসিমুখে বছর পার করবে তারা। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সেই স্বপ্ন যেন অপূর্ণই রয়ে গেল। ধসের নয় বছর পারের পরও প্রাণ ফিরে আসেনি পুঁজিবাজার লেনদেনে। সূচক পতন লাগামও টানতে পারেনি। ঠেকাতে পারেনি অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন। একই সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন।

তারা বলেন, ২০১৯ সালে শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ডিএসই ও সিএসই লেনদেন হয়। কিন্তু বছরের জানুয়ারি মাসের শেষে দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সূচক ধস। পতনের ওই সময়ে যোগ হয়ে দুর্বল কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগটিও। এরপর বেরিয়ে আসে কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনৈতিক প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের খবর। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে আসা বিনিয়োগকারীদের টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অবশ্য এরপর পরই এনবিআর চেয়ারম্যান বিনিয়োগকারীদের টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক নয় বলেও ঘোষণা দেন। ওই পতন বৃত্ত আরও বড় করে বকেয়া পাওনা গ্রামীণফোনের সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির দ্বন্দ্ব।

লেনদেন টাকা: 

২০১৯ সালে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যা গতবছরের চেয়ে ১৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ৪৪   কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে ২৩৭ দিন লেনদেন হয়। যার গড় লেনদেন ছিল ৪৮০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

ডিএসইর মূল্যসূচক: 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের বছরের চেয়ে ৯৩২ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে দাড়িয়েছে পেয়ে ৪ হাজার ৪৫২ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে। ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) ৩৬৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে দাড়িয়েছে ১ হাজার ৫১৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে। একই বছর ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সুচক (ডিএসইএস) ২৩২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৯৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে।

বাজার মূলধন:

২০১৯ সালে ডিএসই বাজার মূলধন আগের বছরের তুলনায় ৪৭ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৩ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকায় হয়েছে। ২০১৯ সালে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকায় উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি।

বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন:

২০১৯ সালে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৭৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৬৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অপরদিকে ২০১৮ সালে বৈদেশিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল টাকায় ৪ হাজার ৪৯৬ কোটি ২৪ লাখ এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল টাকায় ৫ হাজার ৮৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

মোবাইল লেনদেন: 

দেশের পুঁজিবাজার বিকাশের ক্ষেত্রে ৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে সংযোজন হয় ডিএসই-মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপ ২০১৯ সালে ৫১ হাজার ১৯৯ জনে উন্নীত হয়। ২০১৯ সালে মোবাইলের মাধ্যমে মোট ৭০ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৮টি আদেশ প্রেরণ করে। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৬২৯টি আদেশ কার্যকর হয়। 

ওটিসি মার্কেট:

২০১৯ সালে ওটিসি মার্কেটে শেয়ার লেনদেন আগের বছরের তুলনায় কমেছে ৬৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই বছরে ওটিসি মার্কেটে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৪টি শেয়ার লেনদেন হয়। যার মূল্য ২২ কোটি ৩২ লাখ ২৫ হাজার ৮৯২ টাকা। অপরদিকে গত বছরে শেয়ার লেনদেনের পরিমান ছিল ২ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৪ টি শেয়ার। যার মূল্য ছিল ৭০ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৬২২ টাকা।  

মার্কেট পিই: 

২০১৯ সালের শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজসমূহের মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৪৮। খাতওয়ারী সর্বনিম্ন অবস্থানের দিক থেকে মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল ব্যাংকিং খাতের, যার মার্কেট পিই ৭ দশমিক ৭৬, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মার্কেট পিই ৯ দশমিক ৫৯, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের মার্কেট পিই ১০ দশমিক ৬৭, ফুয়েল এন্ড পাওয়ার খাতের ১০ দশমিক ৬৭, সার্ভিসেস এন্ড রিয়েল এস্টেট খাতের মার্কেট পিই ১১ দশমিক ১৩, টেলিকমিউনিকেশন খাতের মার্কেট পিই ১১ দশমিক ২৩, টেক্সটাইল খাতের মার্কেট পিই ১১ দশমিক ৫১, পেপার এন্ড প্রিন্টিং খাতের মার্কেট পিই ১১ দশমিক ৫৩, আর্থিক খাতের পিই ১১ দশমিক ৬৭, ট্যানারি খাতের মার্কেট পিই ১৩ দশমিক ৯৬, ইন্সুরেন্স খাতের মার্কেট পিই ১৪ দশমিক ৯৭, ফার্মাসিউটিক্যালস এন্ড কেমিক্যালস খাতের মার্কেট পিই ১৫ দশমিক ৪২, ফুড এন্ড এ্যালাইড প্রোডাক্ট খাতের মার্কেট পিই ১৭ দশমিক ৬৭, বিবিধ খাতের মার্কেট পিই ২০ দশমিক শূন্য ৯, আইটি-খাতের মার্কেট পিই ২০ দশমিক ৯৭, সিরামিক খাতের মার্কেট পিই ২১ দশমিক ৪৩, সিমেন্ট খাতের মার্কেট পিই ২১ দশমিক ৪৩ এবং জুট খাতের মার্কেট পিই ৪৪ দশমিক ৬০। অপরদিকে ২০১৮ সালের শেষে সামগ্রিক বাজার মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল ১৫ দশমিক শূন্য ৯।

আইপিও:

শিল্প উদ্যোক্তারা ২০১৯ সালে বাজার থেকে ১টি বন্ড সহ মোট ৮টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে ৬১৪ কোটি টাকা ৬৭ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা উওোলন করে। অপরদিকে ২০১৮ সালে ১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ১৪টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে মোট ৬০১ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা উওোলন করে।

তালিকাভুক্তি: 

২০১৯ সালে ১টি গ্রোথ ফান্ডসহ ১০টি সিকিউরিটিজ ১৪৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়। অপরদিকে ২০১৮ সালে ১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ১২টি সিকিউরিটিজ ১ হাজার ২১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়।

রাইট শেয়ার ইস্যু:

২০১৯ সালে ২টি কোম্পানি ২০ কোটি ৭৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৮২টি রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মোট ২৩১ কোটি ৩০ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ১ কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৩ কোটি ৫৬ লাখ ১৩ হাজার ৬৮০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। অপরদিকে ২০১৮ সালে ৩টি কোম্পানি ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫ টি রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মোট ৩৬৭ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৬৫০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে।

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা