নানার হাতে নাতনির মৃত্যু
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পারিবারিক ঝগড়ার জেরে নানার কাস্তের আঘাতে মরিয়ম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মরিয়ম সদর উপজেলার কুচিয়ামারা এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে। জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী জাপানি বেগমকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি সাতবাড়িয়াতে থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে সাতবাড়িয়া এলাকার করম ফরাজী (৬৫) ও তার স্ত্রী ফয়জুন বেগমের (৬০) মধ্যে ঝগড়া বাধে। ঝগড়ার একপর্যায়ে করম ফরাজী উত্তেজিত হয়ে কাস্তে দিয়ে স্ত্রী ফয়জুনকে আঘাত করতে যান। এসময় জাপানি ঝগড়া থামাতে চেষ্টা করলে তার কোলে থাকা ৯ মাস বয়সী মেয়ে মরিয়মের মাথায় কাস্তের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। এ অবস্থায় তাকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় সে মারা যায়।
রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবাস সরকার বলেন, ‘আমরা শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই শিশুটি মারা যায়। মাথায় বড় ধরনের আঘাত থাকায় প্রচুর রক্তক্ষরণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।’
মরিয়মের মা জাপানি বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে প্রায় ১০ বছর যাবৎ বাবার বাড়িতে থাকি। কোনো ভাই-বোন না থাকায় মা–বাবাই আমাকে কাছে রেখেছেন। তাদের ঝগড়ায় আমার বুকের ধনটা মইরা গেল।’
এদিকে মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন মরিয়মের বাবা জাহাঙ্গীর শেখ।
রাজৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুর বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি থানায় আসার সঙ্গে সঙ্গে মামলা নেওয়া হবে।’
নিউজবাংলাদেশ.কম/এস/পিআর








