artk
২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ৯:১০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

খালেদাকে ‘চিকিৎসা না করিয়ে’ কারাগারে স্থানান্তর

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪০৪ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ০৮ নভেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৪১ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ০৮ নভেম্বর ২০১৮


খালেদাকে ‘চিকিৎসা না করিয়ে’ কারাগারে স্থানান্তর - রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘চিকিৎসা না করিয়ে’ হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজির করা হয় খালেদা জিয়াকে। দুপুর সোয়া ১টার সময় মামলার শুনানি শেষ হয়। এর পর তাকে কারাগারে নেয়া হয়।

খালেদার চিকিৎসা শেষ না করে কারাগারে নেয়ার অভিযোগ করে বিষয়টি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে উপস্থাপন করেছেন তার আইজীবীরা। পরে বিষয়টি নিয়ে লিখিত আবেদন করতে বলেন আদালত।

বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু না হতেই তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি কেলঅ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন দলের মুখপাত্র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

যদিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ভালো।”

এক মাস দুই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর খালেদা জিয়াকে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি জন্য বৃহস্পতিবার পুরনো কারাগারের আদালতে হাজির করা হয়।

এই মামলায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি জন্য ১৪ নভেম্বর (বুধবার) নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে তাকে হাসপাতালের ৬১২ নম্বর কক্ষ থেকে বের করে একটি কালো গাড়িতে করে কারাগারের পথে রওনা দেয়া হয়। কারাচত্বরে গাড়িবহর পৌঁছায় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে।

এদিন সকাল থেকেই বিএসএমএমইউয়ের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। একইভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের আশপাশও।

এর আগে বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে ঐক্যফ্রন্ট খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়নি, জামিন চেয়েছে। তবে আদালত যদি তাকে জামিন দেন, তা হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”

বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

গত ৩০ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া অপর আসামিদের ১০ বছরের সাজা বহাল রাখা হয়েছে।

সেদিন আদালত বলেন, রায়ের কার্যকর অংশটুকু ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনটি আপিল (খালেদা জিয়া, সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ) খারিজ করা হল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা রিভিশন আবেদনের রুল যথাযথ ঘোষণা করা হল। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড করা হল।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার বাত, ডায়াবেটিস, কোমরে ব্যথাসহ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিএসএমএমইউতে তার চিকিৎসা চলছিল।

গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত