artk
২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে: বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৩২০ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ০৮ নভেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৪২ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ০৮ নভেম্বর ২০১৮


খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে: বিএনপি - রাজনীতি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দেশনেত্রীর চিকিৎসার জন্য আদালতের নির্দেশনা ও মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ লঙ্ঘন করে সরকার তাকে আজ হাসপাতাল থেকে কারাগারে প্রেরণ করার যাবতীয় আয়োজন শুরু করেছে।”

তিনি আরো বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাই শুরু হয়নি, কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সেই মুহূর্তে দেশনেত্রীকে আবারো কারাগারে প্রেরণ করার উদ্যোগ শুধু মনুষ্যত্বহীন কাজই নয়, এটি সরকারের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত।”

রিজভী বলেন, “সরকারের পাতানো পথে বিরোধী দলকে নির্বাচন করতে বাধ্য করানোর জন্যই সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। তার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকেও কেড়ে নিয়েছে সরকার। চিকিৎসা শেষ না করেই পিজি হাসপাতাল থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশনেত্রীর চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি রাখতে হবে, অন্যথায় জনগণ আর বসে থাকবে না, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিপর্যস্ত করার যেকোন ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে এবারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হলেও প্রতিরোধ করবে।”

তিনি আরো বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ডাক্তার ও তার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আতিকুল হকের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন, ডা. আতিক বেগম জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেননি এবং মেডিক্যাল বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. জলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে।”

“সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেগম জিয়ার ছাড়পত্র দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ বেগম জিয়ার জীবনকে বিপন্ন করার অথবা শারীরিকভাবে চিরতরে পঙ্গু করার চক্রান্ত সরকারের কুৎসা সঞ্চারিত মনের বিকার।”

গায়েবি মামলা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপকালে কথা দিয়েছিলেন- নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেপ্তার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কোনো বিশ্বাস মেলেনি। গতকালের সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের চিরুনী অভিযান চালিয়ে ছেঁকে ধরা হয়েছে, তার জন্য। জেলা-মহানগরের সভাপতি থেকে শুরু করে সাবেক এমপি কেউই সরকারের গ্রেপ্তার অভিযান থেকে রেহাই পাননি। এমনকি সমাবেশে আসা ও যাওয়ার পথে হাজারের অধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

রিজভী আরো বলেন, “গ্রেপ্তার করার পর প্রথমে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে এই কথা বলে দর কষাকষি করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীর কাছ থেকে টাকা নিয়েও ছাড়া হয়নি। এমনকি ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের বড় বড় গ্রুপ করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি ও পুলিশি হানাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘরবাড়ি ও এলাকা ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এইজন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।”

তিনি বলেন, “সংলাপ কি তাহলে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে কিছুটা সময়ক্ষেপণ। তা না হলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করার অঙ্গীকার করার পরও এতো তাণ্ডব, এতো পাইকারি গ্রেপ্তার। সরকার কি তাহলে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেছে? প্রধানমন্ত্রী অতীতের মতো বলেন একটা, কিন্তু কাজ করেন অন্যটা।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত