artk
২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?

নিউজ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৯৪৫ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ০৮ নভেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯৪৫ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ০৮ নভেম্বর ২০১৮


আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? - রাজনীতি

সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না করার অনুরোধ জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু সেই অনুরোধ অগ্রাহ্য করেই বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে।

কিন্তু এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে আলোচনা চলছিল তাতে বুধবার দ্বিতীয় দফা সংলাপেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?

এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আলোচনার পথ কোনো অবস্থাতেই বন্ধ হওয়া উচিত নয়। উচিত হলো, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাওয়া।

তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি শুধু সেই লক্ষ্যেই যে সবকিছু একটা আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে হোক।”

তবে সরকার এ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দুই দফা আলোচনায় বসেছে।

সেখানে, সরকার কোন জায়গাগুলোয় ছাড় দিতে পারে এবং ঐক্যফ্রন্ট তাদের দাবিগুলোর কতটুকু পর্যন্ত ছাড় দিতে পারে- সে বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সরকারের বক্তব্য এক্ষেত্রে স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ করেছেন নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “আমরা সরকারের বক্তব্যের যুক্তি বুঝি না। তারা জনসমক্ষে বলে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু বা সংবিধানের বাইরে কিছু তারা করতে রাজি নয়। কিন্তু সংসদ ভেঙে দেয়া বা বাতিল করাটা সংবিধান অনুযায়ী হতে পারে। এজন্য সংবিধান সংশোধন করা লাগে না।”

এছাড়া ইভিএম বন্ধ করার ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা, সেটা তাদেরকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে হোক বা না দিয়ে হোক। সে ব্যাপারেও সংবিধানে কোনো বিধিনিষেধ নেই বলে নজরুল ইসলাম জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার অভিযোগ, “আদালত বেগম জিয়াকে জামিন দিলেও সরকারের প্রভাবাধীন নিম্ন আদালত সেটা আটকে দিয়েছে।”

“বেগম জিয়াকে এমন মামলায় জামিন অগ্রাহ্য করা হয়েছে, যে মামলার বাকি সব আসামি জামিনে আছে। কাজেই তিনি সরকারের কারণেই কারাগারে আছেন”- বলেন এই বিএনপি নেতা।

নির্বাচন বর্জনের পথ?
ঐক্যফ্রন্টের দাবিগুলো যদি সরকার মেনে নেয় তাহলে বিএনপি কি নির্বাচনে অংশ নেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “না, আমরা বলতে চাই যে আমাদের যে নির্দলীয় সরকারের দাবি, সেটাও আছে আমাদের।”

তিনি বলেন, “দাবিগুলো মেনে নিয়ে যদি সরকার বলতো যে আপনাদের নির্দলীয় সরকারের দাবিটা সংবিধানের সঙ্গে যায় না। আমরা সেজন্য সেটা মানতে পারবো না। তাহলে আমরা বিবেচনা করে দেখতাম আর কি আমরা করতে পারি। এবং সেখানে কিন্তু একটা সমঝোতার পরিবেশ অন্তত সৃষ্টি হতো।”

নজরুল ইসলাম খানের মতে, সরকার তার অবস্থানে অনড় ভূমিকায় রয়েছে এবং বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে চাইছে না।

এই পরিস্থিতিতে কি করবে বিএনপি? ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে? তারা কি নির্বাচন বর্জনের পথটাই বেছে নেবে?

বিএনপি এখন পর্যন্ত ওইরকম কিছু ভাবছে না। নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা মনে করি এখনও সময় আছে, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। সরকার গণতন্ত্রের স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত আচরণ করবে। আমাদের ন্যায় সঙ্গত যে প্রস্তাবগুলি, সেগুলো তারা মেনে নেবে।”

নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির মধ্যে ভিন্নমত?
নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে বলে যে প্রশ্ন উঠেছে সেটাকে উড়িয়ে দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “দেখুন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের পর অনেক গুজব ছিল যে বিএনপি ভেঙে যাবে। বিএনপি বিশৃঙ্খল হয়ে যাবে। কিন্তু সবাই দেখেছে যে গত নয় মাস ধরে আমাদের দল অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় আছে।”

এখনও দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সকল পর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা সম্পাদকদের সঙ্গে সভা করেছি, যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপদেষ্টাদের সঙ্গে সভা করেছি।”

“আমরা সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমরা সবাই একমত থাকি। এখানে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই”-বলেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কমস/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত