artk
৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী নীতির জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষোভ

প্রবাস ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮৪৪ ঘণ্টা, শুক্রবার ০২ নভেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯৫৬ ঘণ্টা, শুক্রবার ০২ নভেম্বর ২০১৮


ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী নীতির জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষোভ - প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ‘বিল্ডিং ফর মুভমেন্ট উইথ ইলেক্টেড মেম্বার্স’ ব্যানারে নিউইয়র্ক অঞ্চলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সমাবেশ থেকে সমস্বরে উচ্চারণ করেছেন ৬ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যালট যুদ্ধে এ অ-আমেরিকান কর্মকাণ্ড রুখে দিতে। ডেমক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকরাই মূলত: এই সমাবেশে অংশ নেন এবং ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।

হোস্ট কমিটির পক্ষে পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশনের পরিচালক ফাহাদ সোলায়মান এবং শ্রম-বিষয়ক এটর্নি ইথেন ফেল্ডার।

নিউইয়র্ক বোর্ড অব ইলেকশনের কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার সংগঠক মাজেদা এ উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের মধ্যে বক্তব্য দেন কংগ্রেসপ্রার্থী আলেক্সান্দ্রিয়া অকাসিয়া-করটেজ, ম্যাক্স রোজ, টম সুয়োজি এবং পেরী গারসন, স্টেট সিনেট প্রার্থী জেসিকা র‌্যামোজ, জন ল্যু, আলেসান্দ্রা বিয়োগি এবং জুলিয়া সালাজার, স্টেট এ্যাসেম্বলী প্রার্থী ক্যাটালিনা ক্রুজ, ক্যারিন্স রীইজ এবং ড. ফন্টাস। এছাড়াও ছিলেন কয়েকজন সিটি কাউন্সিলম্যান।

বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মূলধারার ব্যবসায়ী ও হোস্ট কমিটির নেতা আকতার হোসেন বাদল, আইটি ইন্সটিটিউট ‘পিপল এন টেক’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান প্রকৌশলী আবু হানিপ, মূলধারার সংগঠক ফখরুল আলম, ফোবানার নির্বাহী মহাসচিব জাকারিয়া চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট শাহি শহীদুল হক, এটর্নী সোমা সাঈদ, মিজান রহমান, জয় চৌধুরী প্রমুখ।

সীমান্তে সেনাবাহিনী নিয়োগ, দুর্গম পথে সীমান্ত রক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশকারিদের এসাইলাম নিষিদ্ধ এবং অবৈধভাবে বসবাসরতদের সন্তানকে সিটিজেনশিপ প্রদানের বিধি বাতিল করার যে হুমকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানানো হয় এ সমাবেশ থেকে।

বক্তারা বলেন, ট্রাম্পের গণবিরোধী এবং অভিবাসন বিরোধী সকল ও কর্মকাণ্ড রুখে দিতে ৬ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটদের বিশাল বিজয় দিতে হবে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে যদি ডেমক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে সক্ষম হয় তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে আমেরিকার চেতনার পরিপন্থি কোনকিছুই করা সম্ভব হবে না।

এ সময় সকলে সংকল্পবদ্ধ হন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট প্রদানে কেউই কার্পণ্য করবেন না।

আকতার হোসেন বাদল তার জ্বালাময়ী বক্তব্যে ট্রাম্পকে ইমপিচের আহবানের পূর্বশর্ত হিসেবে কংগ্রেসে ডেমক্র্যাটদের বিজয় দিতে সকল বাংলাদেশিকে জোটবদ্ধ থাকার আহবান জানান। ফখরুল আলম বলেন, সময়ক্ষেপণের সময় নেই। এখন ব্যালট যুদ্ধে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের ধরাশায়ী করতে হবে।

আবু হানিপ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নবিদ্ধ। বাকিটা নষ্ট হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি ডেমক্র্যাটদের জয়ী করতে আমরা কালক্ষেপণ করি।

এ সমাবেশ চলাকালে বাইরে ট্রাম্পের সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন। তারা অভিযোগ করেন যে, ডেমক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রকে কম্যুনিস্ট রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ী করার বিকল্প নেই। ট্রাম্প সমর্থকদের এধরনের আচরণের প্রতিবাদ জানান এই সমাবেশের বক্তারা। তারা বলেন, এভাবেই সহজ-সরল আমেরিকানদের বিভ্রান্ত করার জঘন্য অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে রিপাবলিকানরা।

সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বকারি নেতৃবৃন্দের এই সমাবেশের মিডিয়া পার্টনার ছিল ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন।’

এ কর্মসূচির প্রতি ব্যাপকভাবে সাড়া দেয়ায় সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হোস্ট ফাহাদ সোলায়মান এবং মাজেদা এ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে নতুন প্রজন্মের শিল্পী রাহমি খান। এর আগে পিটসবার্গে সিনেগগে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ভিকটিমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকলে দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করেন। এপর্বের সঞ্চালনা করেন ইমাম শামসী আলী।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরও ছিলেন হোস্ট কমিটির মোর্শেদ আলম, রাশেদ আহমেদ, হারুন ভুইয়া, ফরিদ আলম, লাবলু আনসার, আসিফ বারি টুটুল, আহসান হাবিব, কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার নাইমা সুলতানা, রুবাইয়া রহমান, কাজী মনির প্রমুখ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/ডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য