artk
৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৯:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা

জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭১৬ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ৩০ অক্টোবর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮১৬ ঘণ্টা, বুধবার ৩১ অক্টোবর ২০১৮


চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা - জাতীয়

চট্টগ্রামের পাঠানটুলির এক বাসা থেকে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- পাঠানটুলি পশ্চিম মগপুকুর পাড় এলাকার হোসনে আরা (৬০) ও তার মেয়ে পারভীন আক্তার (২২)। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধনবতীতে।

নগরীর ডবলমুরিং থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, “মা ও মেয়েকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি। গত রাতে বা আজ সকালের কোনো এক সময় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।”

ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে পাঠানটুলির এক বাড়িতে মা-মেয়েকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার খবর আসে থানায়।

পরে পুলিশ গিয়ে পশ্চিম মগ পুকুর পাড়ের গায়েবী মসজিদের বিপরীতে আবদুল হালির মালিকানাধীন দোতলা বাড়ির নিচতলায় পাশাপাশি দুটি ঘর থেকে মা মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।

পরিবারের অন্য সদস্যরা বলছেন, ঘটনার পর থেকে পারভীনের স্বামী মতিন লাপাত্তা। পারিবারিক কলহের জের ধরে মতিনই তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যা করেছেন বলে তাদের ধারণা।

যে বাসায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেখান থেকে কিছুটা দূরে একটি বাসায় ভাড়া থাকেন হোসনে আরার মেজ মেয়ে রেশমী আক্তার ও তার স্বামী সাইফুল আলম।

রেশমী জানান, পারভীন নগরীর চৌমুহুনি এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। আর মতিন রিকশা চালাতেন। তাদের ভাই সোহেল স্থানীয় একটি বেকারিতে কাজ করেন।

পারভীন ও মতিনের বিয়ে হয় দেড় বছর আগে। বিয়ের পর সিলেটে থাকলেও গত ১ অক্টোবর তারা চট্টগ্রামে এসে ওই বাসায় ওঠেন। তাদের কোনো সন্তান নেই।

সোহেল বলেন, “গতরাতে ১০টার দিকে আমি বাসায় ভাত খেতে আসি, তারপর ১১টার দিকে বেকারিতে চলে যাই ডিউটি দিতে। আমার বোন তখন টিভি দেখতেছিল। সকাল ১০টার দিকে বাসায় ফিরে দেখি মা খাটের ওপর মুখ বাঁকানো অবস্থায় শোয়া। সাড়া শব্দ না পেয়ে গায়ে হাত দিয়ে দেখি শরীর শক্ত হয়ে গেছে। পারভীনকে ডাকতে পাশের ঘরে গিয়ে দেখি তালা দেওয়া।”

সোহেল বলেন, ঘরে তালা দেখে তার মনে হয়েছিল, পারভীন হয়ত কাজে গেছেন। এরপর তিনি মেজ বোন রেশমীকে মায়ের মৃত্যুর খবর দেন। ওই খবর পেয়ে রেশমী, তার স্বামী সাইফুলসহ আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। তখন ভিড়ের মধ্যে একজন রাস্তার পাশে পারভীনের বাসার জানালা ঠেলে ভেতরে আমার বোনকে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পায়।

মতিন আগে সিলেটে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। এ মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম এসে রিকশা চালানো শুরু করে। মতিনের মাদকাসক্তির কারণে বিয়ের পর থেকেই পারভীনের সংসারে অশান্তি চলছিল। গতকাল দুপুরে রিকশা না চালিয়ে মতিন বাসায় চলে আসে। এক প্রতিবেশী বাসায় ফিরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে আমার মা-বোনকে নিয়ে বাজে কথা বলে। আমার মা কথাটা শুনতে পেয়ে প্রতিবাদ করে। পরে আমার বোন বিকালে এ নিয়ে কথা তুললে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয় বলে শুনেছেন বলে জানান রেশমি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত