artk
২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

বিচারহীনতা এবং বিচারহীনতার সমর্থন

| নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৯৩৭ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ৩০ অক্টোবর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩৫৬ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ৩০ অক্টোবর ২০১৮


বিচারহীনতা এবং বিচারহীনতার সমর্থন - পাঠকের লেখা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু প্রচলিত শব্দ আছে যা অতি ব্যাবহারের ফলে এর আসল বৈশিষ্ট হারিয়ে যাচ্ছে অথবা অজনপ্রিয় হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত অন্যতম সংস্কৃতি বিচারহীনতা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে উল্লেখ করার মতো বহু হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী ঘটনা ও অর্থ লেপাটসহ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি প্রভৃতি বিষয়ে বিচারহীনতার অজস্র উদারণ বর্তমান।

ক্ষমতাসীনরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিচারের বিষয়টিকে কৌশলে অবহেলা করতে দেখা যায়। অপরপক্ষে যে সকল বিষয় বিচার সম্পন্ন হলে ক্ষমতাসীনদের ভাবমূর্তি উন্নত করবে সেই বিষয়ে বিচারের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা সরব দেখা যায়। বিচার শব্দটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিচারের পূর্বে ন্যায় শব্দটি সংযোজন করে বিতর্কের জন্ম দেয়া হয়।

কোন পক্ষ যখন বিচারে অপরাধী প্রমাণিত হয় তখনই অভিযোগ করতে থাকে তিনি বা তারা ন্যায় বিচার পায়নি। এর অর্থ হলো বিচারের রায় যখন বিপক্ষে যায় তখনই বলা হয় বিচার পক্ষপাতমূলক হয়েছে অথবা প্রতিপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচাইতে আলোচিত বিষয় নারীর প্রতি কটাক্ষ বা অসম্মান প্রদর্শন, এক্ষেত্রে একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি (ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন) এবং দুজন বা কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী (পুলিশ) বাহিনীর সদস্যের ভূমিকা নারীর প্রতি অসম্মানের চরম বহিঃপ্রকাশ জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।

দুটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও আক্রমণের শিকার নারী। প্রথম ঘটনাটি বিখ্যাত ব্যক্তির নারী সংবাদ কর্মীকে ব্যক্তিগত চরিত্রহননের অভিযোগ এবং দ্বিতীয়টি পুলিশ সদস্যদের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে একজন নারীকে মৌখিক অপদস্ত, তার চরিত্র সম্পর্কে আপত্তিজনক মন্তব্য করা এবং অনৈতিকভাবে ওই নারীর ভিডিও প্রস্তুত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার মত অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অপরাধের ক্ষেত্রে খুব দ্রুতই বিভাগীয় শাস্তির ব্যাবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ বিভাগ তাদের কর্তব্য পালন করেছে। অন্যদিকে প্রথম ব্যক্তির (মইনুল হোসেন) অপরাধের বিপরীতে বেশ কয়েকটি মামলা হয় এবং ফলশ্রুতি অপরাধী বর্তমানে কারান্তরীন আছেন।

একধরনের বুদ্ধিজীবী জনাব মইনুল হোসেনের পক্ষে সমর্থন করে পূর্বের বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া নারী নিগৃহীতের বা নিপীড়নের উদাহরণ টেনে তার অপরাধের সমর্থন এবং গতানুগতিক প্রমাণ করার চেষ্টায় নানা কুযুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। এই বুদ্ধিজীবীদের যুক্তি (কুযুক্তি) এই ধরনের ঘটনা অর্থাৎ নারীর প্রতি কটাক্ষ বা অসম্মানের পূর্বের ঘটনাগুলোর যেহেতু কোন বিচার হয় নাই অতএব মইনুল হোসেনের করা অসম্মানিত কটূক্তি তাদের কাছে গুরুত্বহীন।

সবচাইতে মজার এবং হাস্যকর বিষয় এই ব্যক্তিরা যারা এখন মইনুল হোসেনের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন উদাহরণ উপস্থাপন করেন, তারাই আবার বিচারহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন? অথচ যাহা তাদের বিপক্ষে যায় সেক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন নাই।

মোট কথা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা প্রতিনিয়ত তাদের নিজেদের অভিমতকে নিজেরাই বিতর্কিত করে থাকেন। অবস্থাদৃষ্টে এটা প্রতীয়মান হয় সত্যিকারার্থে এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা কেবলমাত্র নিজেদের অহং বজায় রাখার জন্য যখন যা বলা প্রয়োজন তাই বলে থাকে। তাদের কাছে অন্য কোন কিছুরই কোন মূল্য নাই। বিচারতো সুদূর পরাহত।

লেখক: মতিউর রহমান খান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সিডনি।

(বি.দ্র. ‘পাঠকের লেখা’ বিভাগের লেখাগুলো সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব মতামত। এতে নিউজবাংলাদেশের সম্পাদক তথা কর্তৃপক্ষ দায়ী না।)

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত