artk
৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৯:২৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আগামী বছর থেকে চালু হচ্ছে বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২২০ ঘণ্টা, শনিবার ২০ অক্টোবর ২০১৮


আগামী বছর থেকে চালু হচ্ছে বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন - জাতীয়

আগামী ২০১৯ সাল থেকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এ জন্য চালু করা হবে একটি ‘কন্ট্রিবিউটারি পেনশন ফান্ড’। এই ফান্ডে বেসরকারিখাতের চাকরিজীবীরা তাদের বেতনের একটি অংশ জমা রাখবেন। একই ফান্ডে অংগ্রহণ থাকবে এই সব চাকরিজীবীর নিয়োগ কর্তাদেরও। এই জন্য গঠন করা হবে একটি সার্ব্বজনীন ‘পেনশন কর্তৃপক্ষ’।

এই পেনশন ব্যবস্থার একটি রুপরেখা প্রণয়নের খসড়া প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে ইতেমধ্যেই। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের শীর্ষ স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলছেন, একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এই ফান্ডের একটি রুপরেখা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই রুপরেখা প্রণয়ন হলে তা অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপরই উদ্যোগে নেয়া হবে এ ব্যবস্থা চালুর।

তিনি জানান, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর থেকে সীমিত পর্যায়ে হলে চালু করা হবে বেসরকারিখাতের পেনশন ব্যবস্থা।

এই পেনশন ফান্ডের ধরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে বেসরকারিখাতে কমর্রত একজন চাকরিজীবী তার বেতনের একটি অংশ পেনশন কন্টিবিউটারি ফান্ডে প্রদান করবেন। ফান্ডে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীদের নিয়োগকারি প্রতিষ্ঠানও অবদান রাখবেন। এই ফান্ডটির পুরোটি নিয়ন্ত্রণে থাকবে সরকারের হাতে। এখানে সরকারি চাকরিজীবীদের ভবিষ্যত পেনশন অর্থও জমা থাকবে। সরকারি-বেসকারি কর্মকতা-কর্মচারিদের জন্য এটি একটি ‘সার্বজনীন ফান্ড’ হবে। সংশ্লিষ্ট চাকুরীজীবীরা এই ফান্ডে একটি ‘কোড’ নাম্বারের বিপরীতে অর্থ জমা রাখবেন। তারা চাকরি পরিবর্তন করলেও কোড নাম্বারের কোনো পরিবর্তন হবে না। অবসর নেয়ার পর রুপরেখা অনুযায়ী এই কোডের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেনশন পাবেন।

এই ফান্ডের টাকা সরকার বিভিন্ন লাভজনকখাতে বিনিয়োহ করে মুনাফা করবে এবং এই মুনাফার অর্থ ফান্ডে অংশ নেয়া চাকরিজীবীরাও পাবেন। তবে কাউকে বাধ্য করা হবে না এই ফান্ডে অংশগ্রহণের জন্য।

এর আগে বেসরকারি খাতে পেনশন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রথম কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মাস দু-এক পরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যেও এ বিষয়ে তার কথা থাকে। অর্থমন্ত্রীর মতে, নগরায়ণের কারণে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে তাদের আর্থিক ও সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সরকারের একার পক্ষে এ ঝুঁকি মোকাবিলা করা দুরূহ। তাই দেশের সব শ্রমজীবী মানুষসহ প্রবীণদের জন্য একটি সর্বজনীন ও টেকসই পেনশন পদ্ধতি চালু এখন সময়ের দাবি।

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের আরও বলেছেন ‘এখন থেকে আর কাউকে তার পেনশনের হিসাব করা, পেনশন নেয়া -এগুলো চিন্তা-ভাবনা করতে হবে না। ইট ইজ ইন কিপিং উইথ দ্য ফিলোসফি অব দ্য স্টেট। কারণ, এখন ফিলোসফি হলো যত সিটিজেন আছে সবাইকে একটা সুযোগ করে দিতে হবে। এটা ইউনিভার্সল পেনশন, যেটা আমরা মোর অল লেস কমিটেড, যে কোনো সময় হয়তো সেটা হবে। তিনি বলেন, দেশের পেনশন ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্কার হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। আজ যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা যুগান্তকারী। এখন থেকে পেনশন ওঠাতে ছোটাছুটি করতে হবে না।

মুহিত বলেন, ‘এ জন্য আগামী বাজেটে আই অ্যাম থিঙ্কিং অ্যান্ড অ্যানাউন্সিং। আমরা পেনশন সিস্টেমের যেটা করলাম, এটা নিয়ে দেশের প্রত্যেক নাগরিক বেনিফিটেড হবে। কারণ জাতীয় পেনশন পদ্ধতিতে সকলকে ইনকর্পোরেট করা হবে। ১৬ কোটি মানুষ উড বি ইনকর্পোরেটেড ইন দ্য ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম।’

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত