artk
৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৯:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লালমনিরহাটে মসজিদ-মন্দির এক উঠানে

নিয়াজ আহমেদ সিপন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২২৩ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯০৩ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮


লালমনিরহাটে মসজিদ-মন্দির এক উঠানে - জাতীয়
ছবি: প্রতিনিধি

ধর্মীয় সম্প্রতির উজ্বল নিদর্শন একই উঠানে মসজিদ ও মন্দির। এক পাশে ধুপকাটি অন্য পাশে আতরের ঘ্রাণে মুখোর। এক পাশে উলুধ্বনী অন্যপাশে চলছে জিকির। মসজিদের আজান হলে পূজার সকল কার্যক্রম বন্ধ করেও রাখেন। এভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দুইটি ধর্মের উপাসনালয়।

ধর্মীয় সম্প্রতির এ দৃষ্টান্ত দেখতে আসতে হবে সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলা শহর ও কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রামে। এই শহরের কালীবাড়ি এলাকার পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরটি একই উঠানে রয়েছে সম্প্রীতির বন্ধন। আর শহরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আরেকটি মন্দির। যে যার মতো ধর্ম পালন করে চলে যাচ্ছে। চলছে শারদীয় দুর্গাৎসব।

কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সনদ চন্দ্র সাহা জানান, প্রায় দেড়শ বছর আগে কালীমন্দির হিসেবে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যার কারণে এলাকাটির নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই এ পুরান বাজার জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে একটা উঠানে চলছে দুই ধর্মেরর দুই উপাসনালয়।

দলগ্রাম কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল কান্তি রায় জানান, আরাধানাই মূল লক্ষ্য। যাতে কারও কোন সমস্যা না হয় এমন আলোচনা করেই ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হয়। আমরা সকলে মিলে উৎসব করি। এখানে কোন ধর্ম আমাদের কাছে আলাদা নয়।

দলগ্রামের মুসল্লি আব্বাস আলী জানায়, এখানে ধর্ম নিয়ে নেই কেন হানাহানি ও মতবিরোধ। এসব ছাড়াই এখানে শত বছর ধরে এভাবেই পারস্পারিক সহযোগিতায় ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষরা।

তিনি আরো জানান, পূজা শুরু আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত মতে, আজানের সময় থেকে প্রথম জামায়াত নামাজ পর্যন্ত মন্দিরের মাইক, ঢাক ঢোলসহ যাবতীয় শব্দ বন্ধ থাকে। ওই সময় পুরোহিত নিরবে পূজা করবেন ঢাক ঢোল ছাড়াই। নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। সামান্যতম বিশৃঙ্খলা হয় না এখানে। তার জন্ম থেকে এভাবে চলতে দেখেছেন সনদ চন্দ্র সাহা।

পুরান বাজার জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজল মিয়া জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি এক জ্বলন্ত প্রমাণ। যুগ যুগ ধরে একই উঠানে চলছে নামাজ ও পূজা অর্চনা। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাক ঢোল বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে মন্দিরে পূজা চলে পুরোদমে। আজান ও নামাজে তো খুব বেশি সময় লাগে না। এ সময় টুকু তারা (পুজারী) ঢাক ঢোলসহ শব্দযন্ত্র বন্ধ রাখেন। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এ সম্প্রীতির বন্ধনে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ এ জেলার মানুষ। ধর্ম যার যার উৎসব সবার - এটাই এখানকার মানুষ লালন করে ও বিশ্বাস করে। যার মূর্তপ্রতীক এক উঠানে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির ও পুরান বাজার জামে মসজিদ।

নিউজবাংলাদেশে.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত