artk
৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ভুয়া মালিক সাজিয়ে রেলওয়ের ভূমি অধিগ্রহণের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪৪৬ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮


ভুয়া মালিক সাজিয়ে রেলওয়ের ভূমি অধিগ্রহণের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ - জাতীয়

গোপালগঞ্জে ভুয়া ওয়ারেশন সনদ ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমির নাম পত্তনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখা থেকে রেলওয়ে কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের প্রায় অর্ধকোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে একটি জালিয়াতি চক্র।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের দেয়া ভুয়া ওয়ারেশন সনদ দিয়ে ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে জালিয়াতি চক্রটি দু’দফায় দু’টি চেকের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে।

এদিকে, রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত আরো ৪২ শতাংশ ভূমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১১/১২-১৩ নম্বর এলএ কেস মূলে দু’টি চেকের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা জালিয়াতি চক্রটি উত্তোলনের চেষ্টা করে।

বিষয়টি জেনে ভূমির প্রকৃত মালিক মৃত মো. গোলাম মোস্তাফা চৌধুরীর ছেলে সাবু চৌধুরী এলএ শাখায় আবেদন দাখিলের মাধ্যমে ক্ষতি পূরণের বাকি টাকা প্রদানে আপত্তি করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ৮৭ নম্বর কারারগাতী মৌজার আরএস ৭৭ নম্বর খতিয়ানের ২.৫০ একর ভূমির প্রকৃত মালিক অমরেন্দ্রনাথ রায় গং ও বিপীন বিহারী বিশ্বাস। যাদের কাছ থেকে মো. গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ১২২২/১৯৪৭ নম্বর খাজনা মোকাদ্দমার ডিক্রি মূলে স্বত্ত্ববান হন। কিন্তু জালিয়াত চক্রটি বিপীন বিহারী বিশ্বাসের ভুয়া উত্তরাধিকারী দাবি করে দূর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আকবার হোসেনকে দিয়ে ভুয়া ওয়ারেশন সনদপত্র তৈরি করে।
পরে ওই ভুয়া ওয়ারেশন সনদপত্র দিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের যোগসাজসে গোপালগঞ্জ ভূমি অফিস থেকে বাদল বিশ্বাসের নামে ভূয়া নামপত্তন করে।

অতঃপর ওইসব জাল কাগজপত্র গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় জমা দিয়ে রেলওয়ের ভূমি অধিগ্রহণকৃত ৪৫ শতাংশ ভূমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করে জালিয়াতি চক্রটি ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।

এ ব্যাপারে দূর্গাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি উত্তরাধিকারী যাচাই না করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের দেয়া ওয়ারেশন সনদের ওপর ভিত্তি করে বাদল বিশ্বাসের নামে নামপত্তনের প্রস্তাব করি।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আকবর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওয়ারেশন সনদে যে স্বাক্ষর দেয়া হয়েছে তা আমার নয় বলে মনে হচ্ছে না। ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলতে পারবেন কে বা কারা আমার স্বাক্ষর জাল করেছে।”

সদর উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী ও যাচাইকারক শিশির কুমার বিশ্বাস বলেন, ওই বিষয়টি আমার যাচাই করার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু আমি সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কথা অনুযায়ী ফাইল প্রস্তুত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নাম পত্তনের জন্য পাঠাই।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত