artk
২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

আশুলিয়ায় বাউল শিল্পীকে ‘১৭ ঘণ্টা আটকে রেখে গণধর্ষণ’

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২২০ ঘণ্টা, শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৬২২ ঘণ্টা, শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮


আশুলিয়ায় বাউল শিল্পীকে ‘১৭ ঘণ্টা আটকে রেখে গণধর্ষণ’ - জাতীয়
ছবি প্রতীকী

রাজধানীর অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় এক বাউল শিল্পীকে ১৭ ঘণ্টা আটকে রেখে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার একদিন পার হলেও ধর্ষিতা বাউল শিল্পীকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়নি। পুলিশ প্রভাবশালীদের পক্ষ নিয়ে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ৪টার দিকে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় ওই বাউল শিল্পীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন ভুক্তভোগীকে সাদা কাগজে স্বাক্ষরের অনুরোধ করছেন। এ সময় সাংবাদিকদের দেখে ‘হতচকিত’ হয়ে উঠেন তিনি। কেন মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে হবে ও ভুক্তভোগীকে ২৮ ঘণ্টা পরও কেন ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়নি এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান এসআই বেলায়েত।

ভুক্তভোগীকে মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হবে এমন শর্তে থানায় নিয়ে যান সাদা পোশাকে আসা ওই এসআই।

এর আগে ভুক্তভোগী জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে গাজীরচট এলাকায় তার সঙ্গীয় কালামকে (ঢোল বাদক) নিয়ে মনির নামে এক ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। এ সময় বাদশা ভূইয়া ও সুজন ভূইয়া নামে দুই ব্যক্তি তাকে বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

এরপর কালাম নামে একজন খুঁজতে গেলে তাকেও আটকে রাখা হয়। পরে কালামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে ১৯ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেন তারা। এরপর সেই টাকা দিয়ে মাদক ও যৌন উত্তেজক ওষুধ কেনেন বাদশা ও সুজন।

পরে ওই বাউল শিল্পীকে জোরপূর্বক মাদক ও যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করানোর চেষ্টা করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় বেদম প্রহার করা হয়। পরে ১৭ ঘণ্টা আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণের পর বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থানায় মামলা করলে পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত বাদশা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

কিন্তু এরপর থেকে পুলিশ লোকজন দিয়ে মীমাংসার জন্য সাদা কাগজে স্বাক্ষরের জন্য নানাভাবে চাপ দিতে থাকে বলে জানান ওই ভুক্তভোগী।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজাউল হক চাপের বিষয়টি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, “গণধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী তাদের কিছু না জানিয়েই থানা থেকে চলে গিয়েছিল। তাই মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য দেরি হয়েছে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত