artk
৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

‘তারেক রহমানকে কোনোভাবেই ফিরিয়ে আনা যাবে না’

নিউজ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০৪২ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর ২০১৮


‘তারেক রহমানকে কোনোভাবেই ফিরিয়ে আনা যাবে না’ - রাজনীতি

সরকারের মন্ত্রী এমপিরা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তার মানে তারা চাইলেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন।

কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা একেবারেই অসম্ভব।

ইংল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ আহমেদও বলেছেন, আইনের বর্তমান কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ কোনোভাবেই তারেক রহমানকে ফেরত পাবে না।

২১ আগস্টা গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তারেকের বিরুদ্ধে আবারও ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করার আহ্বান জানান।

ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, যুক্তরাজ্যের সাথে আমাদের কোন বহিঃসমর্পন চুক্তি নেই। কিন্তু জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী অন্য কোন সদস্য দেশের অনুরোধে শাস্তিপ্রাপ্ত আসামীদের সমর্পন করতে পারে। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি চারজন সন্দেহভাজন আইএস সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে জেনেও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে।

মামলায় রায়ের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, এই মামলার যেসব আসামি বিদেশে রয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মনে করেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে বন্দিসমর্পণ চুক্তি না থাকলেও জাতিসংঘের মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যসিসট্যান্স (এমল্যাট) সনদের আওতায় তারেক রহমানকে বিচারের জন্য হস্তান্তর করা যেতে পারে। দুটি দেশের মধ্যে আইনগত এবং বিচারিক সহযোগিতার ভিত্তি এই সনদ।

তবে মওদুদ আহমদ বলেন, “তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথাটি রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর। আওয়ামী লীগ যত দিন সম্ভব একে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।”

তিনি বলেন, “তারা গত ১০ বছর ধরেই তো বলছে তাকে ফেরত আনবে। কিন্তু পেরেছে কী? আর না পারলে, তারা কি বলতে পারছে, কেন তারা পারছে না?”

মওদুদ আহমদ বলেন, “সাত বছর, ১০ বছর কিংবা যাবজ্জীবন সাজা - যাই হোক না কেন তারেক রহমান যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, এটা তো সবারই জানা।”

ইংল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক রহমান সফলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, বাংলাদেশে ফেরত গেলে তার ওপর জুলুম হবে। ব্রিটিশ সরকারকে তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন বলেই তাকে আশ্রয় এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি বা এমল্যাট -যাই হোক না কেন ২০০৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইন এবং ২০০২ সালের কমনওয়েলথ দেশগুলোর এক্সট্রাডিশন সংক্রান্ত আইনগুলোর আওতার মধ্যে থেকে ব্রিটিশ সরকারকে তারেক রহমানকে ফেরত নেয়ার আবেদন বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফেরত চেয়ে কোনো আবেদন পাঠায় তাহলে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসব আইনের আলোকে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আইনের বর্তমান কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ কোনোভাবেই তাকে ফেরত পাবে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য